হস্তপ্রাধান্য এবং যৌন অভিমুখিতা

হস্তপ্রাধান্য এবং যৌন অভিমুখিতা এর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আছে, বলেই গবেষকরা প্রস্তাব করেছেন। সমকামী ও বিসমকামী উভয়ের মধ্যে সমকামীদের তুলনায় বিসমকামীরা অধিক হারে ডানহাতি হয়ে থাকে।
হস্তপ্রাধান্য (ইংরেজি: handedness) এবং যৌন অভিমুখিতার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে রেয় ব্ল্যানচার্ড কাজ করেছেন, তিনি জন্মসুত্রে ভ্রার্তৃসম্পর্ক নামক তত্বের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, যদি একই মায়ের কয়েকজন ছেলে সন্তান থাকে, তাহলে ছোট ছেলের সমকামী হবার সম্ভাবনা থাকে। এই তত্ব এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে, এবং সকল গবেষণা এখনো সমকামী এবং বিসমকামীর মধ্যে এই পার্থক্য নিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে একমত হতে পারে নি।
গবেষণা
[সম্পাদনা]লালুমায়ার এবং তার সহযোগীদের ২০০০ সালে ব্যাপক বিশ্লেষণ
[সম্পাদনা]লালুমায়ার এবং তার সহযোগীরা ২০টা গবেষণা নিয়ে গঠিত মেটা এনালাইসিস (ব্যাপক বিশ্লেষণ) করেন, যেখানে ৬,৯৮৭ জন সমকামী এবং ১৬,৪২৩ জন বিসমকামী অংশগ্রহণ করেন। তারা দেখতে পান, সমকামী পুরুষদের ৩৪% এবং সমকামী নারীদের ৯১ % ডানহাতি নন (অর্থাৎঃ তারা বাঁহাতিও হতে পারেন বা দুই হাত সমানে ব্যবহারকারী সব্যসাচীও হতে পারেন)। সবকিছু মিলিয়ে ৩৯% সমকামী ডানহাতি নয়।[১]
২০০০ সালে উইলিয়ামস এবং তার সহযোগীদের করা গবেষণা
[সম্পাদনা]একটি গবেষণায় ৩৮২ জন পুরুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন, যাদের মধ্যে ২৭৮ জন সমকামী এবং ১০৪ জন বিসমকামী ছিলেন, সে গবেষণায় যৌন অভিমুখিতার সাথে handedness এর কোনো সুনির্দিষ্ট সংযোগ পাওয়া যায় নি।[২]
২০০২ সালে মুসতানস্কি এবনফ তার সহযোগীদের করা গবেষণা
[সম্পাদনা]মুসতানস্কি এবং তার সহযোগীরা যৌন-অভিমুখিতার সাথে হস্ততার সম্পর্ক পরীক্ষা করার জন্য ৩৮২ জন পুরুষ (যাদের মধ্যে ২০৫ জন বিসমকামী, ১৭৭ জন সমকামী) এবং ৩৫৪ জন নারীর (যাদের মধ্যে ১৪৯ জন বিসমকামী, ২০৫ জন সমকামী) উপর গবেষণা করেন। এক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে সমকামী নারীদের; বিসমকামী নারীদের তুলনায় বাঁহাতি হবার প্রবণতা অধিক দেখা যায় (18 শতাংশ বনাম 10 শতাংশ), কিন্তু সমকামী ও বিসমকামী পুরুষদের মধ্যে যৌন অভিমুখিতার সাথে হস্ত সম্পর্কের কোনো সুনির্দিষ্ট পার্থক্য পাওয়া যায় নি।[৩]
লিপ্পা, ২০০৩ সালের গবেষণা
[সম্পাদনা]লিপ্পা যৌন অভিমুখিতার সাথে হস্ত সম্পর্ক নিয়ে একটি গবেষণা করেন, যেখানে ৮১২ জন পুরুষ (৩৫১ জন বিসমকামী; ৪৬১ জন সমকামী) এবং ১১৮৯ জন নারী (৭০৭ জন বিসমকামী এবং ৪৭২ জন সমকামী) অংশগ্রহণ করেছিলেন। সমকামী পুরুষদের বিসমকামী পুরুষদের তুলনায় ৮২ শতাংশের ডানহাতি না হবার প্রবণতা দেখা যায়, কিন্তু সমকামী এবং বিসমকামী নারীদের যৌন অভিমুখিতার সাথে হস্ত সম্পর্কের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য দেখা যায় নি। যখন পুরুষ এবং নারীদের নিয়ে করা গবেষণাটি একত্রে সংযুক্ত করে হিসেব করা হয়েছিল, তখন দেখা গিয়েছে, সমকামীদের ৫০ শতাংশ ডানহাতি আর ৫০ শতাংশ বাঁহাতি।[৪]
২০০৬ সালে ব্ল্যানচার্ড এবং তার সহযোগীদের করা গবেষণা
[সম্পাদনা]ব্ল্যানচার্ড এবং তার সহযোগীরা দেখিয়েছেন যে জন্মসুত্রে ভ্রার্তৃসম্পর্কিত প্রভাব (এটা একটা সম্ভাবনা, যেখানে একই মায়ের যদি কয়েকজন ছেলে সন্তান থাকে, তাহলে প্রত্যেক ছোট ছেলের ক্রমান্বয়ে তার বড় ভাইয়ের তুলনায় সমকামী হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।) ডানহাতি পুরুষেই দেখা যায়। উপরন্তু একই গবেষণা দেখিয়েছে যে, যদি বড় ভাই থাকে ও ছোট ভাই ডানহাতি হয়, তাদের তুলনায় কোনো বড় ভাই নেই কিন্তু ছেলে বাঁহাতি, এক্ষেত্রে বাঁহাতি ছেলেটিরই সমকামী হবার সম্ভাবনা বেশি। ব্ল্যানচার্ড ও তার সহযোগীরা তাদের রিপোর্টে বলেছেন, "যদি পুরুষ ডানহাতি না হয় অথবা তার বড় ভাই থাকে, সেক্ষেত্রে তার সমকামী হবার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু একই সাথে বড় ভাই থাকা ও অ-ডানহাতি হওয়া, একই সাথে এই উভয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সমকামী হবার সম্ভাবনা এগুলোর কোনটাই না থাকা ব্যক্তির সমান হয়। ".[৫]
বিবিসি জরিপ
[সম্পাদনা]একটি বহুজাতিক অনলাইন জরিপ থেকে দেখা গিয়েছে বিষমকামী পুরুষ এবং নারীর তুলনায় (১১ এবং ১০ শতাংশ, যথাক্রমে) সমকামী পুরুষ এবং নারীর বাঁহাতি হবার প্রবণতা বেশি (যথাক্রমে ১৩ এবং ১১ শতাংশ) দেখা যায়। সমকামী অথবা বিসমকামীদের তুলনায় নারী ও পুরুষ উভকামীরা নিজেদের অধিক সব্যসাচী (যারা নিজেদের দুইহাত সমানে ব্যবহার করতে পারে) হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, (উভকামী পুরুষ: ১২ শতাংশ; সমকামী এবং বিষমকামী পুরুষ: ৮ শতাংশ; উভকামি নারী: ১৬ শতাংশ; সমকামী নারী: ১২ শতাংশ; বিসমকামী নারী: ৮ শতাংশ)।[৬]
২০০৭ সালে বোগার্টের করা গবেষণা
[সম্পাদনা]একটি গবেষণা করা হয়েছিল, যেখানে ৩৭৩ জন বিষমকামী এবং ৫৩৮ জন সমকামী পুরুষ অথবা উভকামী অংশগ্রহণ করেছিল, এখান থেকে দেখা গিয়েছে অবিসমকামী এবং এক্সট্রিম ডানহাতির মধ্যে একটি সংযোগ আছে কিন্তু বাঁহাতের মধ্য কোনো সংযোগ পাওয়া যায় নি।[৭]
২০০৮ সালে ব্ল্যানচার্ডের যৌন স্বভাব নিয়ে করা গবেষণা
[সম্পাদনা]ব্ল্যানচার্ডের পরবর্তী গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ডানহাতি সমকামী এবং বাঁহাতি বিসমকামী পুরুষ; উভয়েরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় পুরুষ বড় সহোদর আছে, কিন্তু ডানহাতি বিষমকামী বা বাঁহাতি সমকামী পুরুষদের মধ্যে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণগত প্রভাব দেখা যায় নি।[৮]
২০০৮ সালে ব্ল্যানচার্ডের পাশাপাশি গবেষণা
[সম্পাদনা]ব্ল্যানচার্ড জন্মসুত্রে ভ্রার্তৃসম্পর্কিত প্রভাব এবং হস্তমুখিতার মধ্যে সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা করেছেন। তার মতে মা, প্রত্যেক গর্ভাধানের সময় পুরুষ এন্টিজেনের বিপক্ষে পুর্বের তুলনায় বেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করেন এবং এভাবেই অধিক সংখ্যক পুরুষ-বিরোধী ("anti-male") এন্টিবডি তৈরী হয়। তিনি দুইটি সম্ভাবনা প্রস্তাব করেছেন, একটি হলো যেসব ফিটাস ডানহাতি নয়, তারা এই সব এন্টিবডির বিপক্ষে কম সংবেদনশীল এবং অন্যটি হলো; যদি ফিটাস বাঁহাতি হয়, মা কিছু কারণে এন্টিবডিগুলো উৎপন্ন করেন না।[৯]
২০০৯ সালে রহমান এবং তার সহযোগীদের করা গবেষণা
[সম্পাদনা]দুইশ পুরুষ এ গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছিলন, যেখানে ১০০ জন সমকামী এবং বাকি অর্ধেক বিসমকামী। দেখা গিয়েছে বিমকামী দের ১২% এবং সমকামী পুরুষদের ৯% বাহাতি, খুব একটা পার্থক্য নয়।[১০]
২০১০ সালে স্কুয়ার্টজ এবং তার সহযোগীদের করা গবেষণা
[সম্পাদনা]৬৯৪ জন সমকামী পুরুষ এবং ৮৯৪ জন বিসমকামী পুরুষের মাঝে করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সমকামী পুরুষদের ১৩.৯% এবং বিসমকামী পুরুষদের ১৫.৯% ডানহাতি হয় না। (উল্লেখ করার মত পার্থক্য নয়)। তারা সমকামিদের ক্ষেত্রে ভ্রার্তৃসম্পর্কিত প্রভাব এর গবেষণাটি পুনরায় করেন, কিন্তু ব্ল্যানচার্ডের (২০০৬ সালের) গবেষণার ন্যায় একই ফলাফল আসে নি(উপরে দেখুন)। দেখা গিয়েছে 'ভ্রার্তৃসম্পর্কিত প্রভাব' ডানহাতি ও বাঁহাতি উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করে। এই প্রভাব পুর্বের জীবনের তুলনায় পরবর্তী জীবনে বেশি শক্তিশালী হয়।[১১]
২০১৫ সালে কিসিদা এবং রহমানের করা গবেষণা
[সম্পাদনা]৪৭৮ জন বিসমকামি পুরুষ ও ৪২৫ জন সমকামি পুরুষের উপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, সমকামি পুরুষেরা বিসমকামি পুরুষদের তুলনায় অত্যধিক ডানহাতি আচরণ দেখায়। তুলনামূলকভাবে, সমকামি পুরুষেরা বিসমকামি পুরুষদের চেয়ে কম বাঁ -হাতি প্রবণতা দেখায়।.[১২]
২০১৬ সালে লি এলিস এবং তার সহযোগীদের গবেষণা
[সম্পাদনা]মালেয়শিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে করা একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ থাকা নারীদের বাহাতি হতে দেখা যায়। পুরুষদের মধ্যে এরকম কোনো আন্তঃসম্পর্ক দেখা যায় নি।[১৩]
নিষ্কামিতা
[সম্পাদনা]২০১৪ সালে জৈব মার্কার নিষ্কামিতাকে বিশ্লেষণ করার লক্ষ্যে একটা গবেষণা করা হয়, যেখানে দেখা যায়; নিষ্কাম পুরুষ ও নিষ্কাম নারীদের বিসমকামীদের তুলনায় যথাক্রমে ২.৪ গুণ ও ২.৫ গুণ হারে ডানহাতি না হবার প্রবণতা দেখা যায়। এই গবেষণা থেকে আরো দেখা গিয়েছে, সমকামী এবং উভকামী নারীদের, বিসমকামী নারীদের তুলনায় ২.৯ গুণ বেশি বা-হাতি হবার প্রবণতা দেখা যায়। যদিও এগবেষণাতে সমকামি, উভকামী এবং বিসমকামী পুরুষের মধ্যে উল্লেখ করার মত খুব একটা পার্থক্য দেখা যায় নি।[১৪]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Lalumière, M. L., Blanchard, R., & Zucker, K. J. (২০০০)। "Sexual orientation and handedness in men and women: a meta-analysis"। Psychological Bulletin। ১২৬ (4): ৫৭৫–৫৯২। ডিওআই:10.1037/0033-2909.126.4.575। পিএমআইডি 10900997।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ Terrance J. Williams; Michelle E. Pepitone; Scott E. Christensen; Bradley M. Cooke; Andrew D. Huberman; Nicholas J. Breedlove; Tessa J. Breedlove; Cynthia L. Jordan; S. Marc Breedlove (২০০০)। "Finger-length ratios and sexual orientation" (পিডিএফ)। Nature। ৪০৪ (6777): ৪৫৫–৪৫৬। ডিওআই:10.1038/35006555। পিএমআইডি 10761903।
- ↑ Mustanski, B. S.; Bailey, J. M.; Kaspar, S. (২০০২)। "Dermatoglyphics, handedness, sex, and sexual orientation"। Archives of Sexual Behavior। ৩১ (1): ১১৩–১২২। ডিওআই:10.1023/A:1014039403752। পিএমআইডি 11910784।
- ↑ Lippa, R. (২০০৩)। "Handedness, sexual orientation, and gender-related personality traits in men and women"। Archives of Sexual Behavior। ৩২ (2): ১০৩–১১৪। ডিওআই:10.1023/A:1022444223812। পিএমআইডি 12710825।
- ↑ Blanchard, R.; Cantor, J.; Bogaert, A.; Breedlove, S.; Ellis, L. (২০০৬)। "Interaction of fraternal birth order and handedness in the development of male homosexuality"। Hormones and Behavior। ৪৯ (3): ৪০৫–১৪। ডিওআই:10.1016/j.yhbeh.2005.09.002। পিএমআইডি 16246335।
- ↑ "BBC – Science & Nature – Sex ID – Study Results"।
- ↑ Anthony Bogaert (২০০৭)। "Extreme right-handedness, older brothers, and sexual orientation in men."। Neuropsychology। ২১ (1): ১৪১–৮। ডিওআই:10.1037/0894-4105.21.1.141। পিএমআইডি 17201537।
- ↑ Blanchard, R. (২০০৬)। "Sex Ratio of Older Siblings in Heterosexual and Homosexual, Right-Handed and Non-Right-Handed Men"। Archives of Sexual Behavior। ৩৭ (6): ৯৭৭–৯৮১। ডিওআই:10.1007/s10508-006-9119-2। পিএমআইডি 17186124।
- ↑ Blanchard, R. (২০০৮)। "Review and theory of handedness, birth order, and homosexuality in men"। Laterality: Asymmetries of Body, Brain and Cognition। ১৩: ৫১–৭০। ডিওআই:10.1080/13576500701710432। পিএমআইডি 18050001।
- ↑ Qazi Rahman; Kenneth Clarke; Tirma Morera (২০০৯)। "Hair Whorl Direction and Sexual Orientation in Human Males"। Behavioral Neuroscience। ১২৩ (2): ২৫২–২৫৬। ডিওআই:10.1037/a0014816। পিএমআইডি 19331448।
- ↑ Gene Schwartz; এবং অন্যান্য (২০১০)। "Biodemographic and Physical Correlates of Sexual Orientation in Men"। Arch Sex Behav। ৩৯: ৯৩–১০৯। ডিওআই:10.1007/s10508-009-9499-1। পিএমআইডি 19387815।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|লেখক=-এ "et al." এর সুস্পষ্ট ব্যবহার (সাহায্য) - ↑ Mariana Kishida; Qazi Rahman (২০১৫)। "Fraternal Birth Order and Extreme Right-Handedness as Predictors of Sexual Orientation and Gender Nonconformity in Men"। Archives of Sexual Behavior। ৪৪: ১৪৯৩–১৫০১। ডিওআই:10.1007/s10508-014-0474-0।
- ↑ Ellis, Lee; Skorska, Malvina N.; Bogaert, Anthony F. (২০১৬)। "Handedness, sexual orientation, and somatic markers for prenatal androgens: Are southpaws really that gay?"। Laterality: ১–২৪। ডিওআই:10.1080/1357650X.2016.1151024। পিএমআইডি 26932806।
- ↑ Yule MA, Brotto LA, Gorzalka BB (২০১৪)। "Biological markers of asexuality: Handedness, birth order, and finger length ratios in self-identified asexual men and women."। Arch Sex Behav। ৪৩: ২৯৯–৩১০। ডিওআই:10.1007/s10508-013-0175-0। পিএমআইডি 24045903।