বিষয়বস্তুতে চলুন

২০০৬ সালের ইডোমেনিও বিতর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

২০০৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ডয়চে ওপেরা বার্লিন ঘোষণা করে যে, তারা নভেম্বর ২০০৬-এ অনুষ্ঠিতব্য মোজার্টের অপেরা *ইডোমেনেও, রে দি ক্রেতা*-এর চারটি প্রদর্শনী বাতিল করছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রদর্শনীর একটি দৃশ্যে ইসলামের নবী মুহাম্মদের কাটা মস্তক দেখানো হয়েছে, যা "অনির্ধারিত নিরাপত্তা ঝুঁকি" তৈরি করতে পারে। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "দর্শক ও কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নভেম্বর ২০০৬-এ *ইডোমেনেও* পুনরায় মঞ্চস্থ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"[]

বাতিল হওয়া প্রদর্শনীগুলি ২০০৩ সালের একটি প্রযোজনার পুনঃমঞ্চায়ন ছিল, যা পরিচালনা করেন হান্স নয়েনফেলস। এই প্রযোজনায় একটি নতুন দৃশ্য যোগ করা হয়, যেখানে রাজা ইডোমেনেও মঞ্চে উঠে আসে একটি থলিতে করে নেপচুন, যিশু ও গৌতম বুদ্ধর কাটা মস্তক এনে একটি একটি করে চেয়ারে রাখে। মূল লিব্রেত্তোতে এই ধরনের কোনো দৃশ্য নেই; সেখানে কেবল ট্রয় যুদ্ধ পরবর্তী সময় এবং নেপচুনের উপস্থিতিই চিত্রিত। ২০০৬ সালের প্রযোজনায় পরিচালক নয়েনফেলস নবী মুহাম্মদের মস্তকও দৃশ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন। এই দৃশ্যের উদ্দেশ্য ছিল দেবতা ও উপাস্যহীন স্বাধীনতার প্রতীক দেখানো।

এই ঘোষণাটি আসে এমন এক সময়ে, যখন ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পোপ বেঞ্জামিন ষোড়শ-এর রেগেন্সবুর্গ ভাষণের কারণে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। BBC সূত্র জানায়, ডয়চে প্রেসে-এজেন্টুর (DPA) অনুসারে বার্লিন পুলিশ তখনও অপেরা হাউজটির বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি হুমকি রেকর্ড করেনি।[] তবে *দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস* জানায়, আগস্ট মাসে অপেরা হাউজটির বিরুদ্ধে একটি অজ্ঞাত হুমকি দেওয়া হয়েছিল।[]

এই বাতিলের সিদ্ধান্ত ইউরোপজুড়ে স্ব-নিয়ন্ত্রণ এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল মন্তব্য করেন, "এই বাতিলের সিদ্ধান্তটি ভুল। ইসলাম ধর্মের নামে যারা সহিংসতা করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আত্মসংযম কোনো সমাধান নয়... পেছনে হটা যুক্তিযুক্ত নয়।"[] স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উলফগাং শয়েবলে, যিনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন এক মুসলিম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারি সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের বলেন, "একটি বার্তা দিতে হলে, আমরা সবাই মিলে ওই প্রদর্শনী দেখতে যেতেই পারি।" মুসলিম প্রতিনিধিরাও একমত ছিলেন যে প্রদর্শনী বাতিল করা উচিত নয়।[]

২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর বার্লিন অপেরা *ইডোমেনেও* অপেরাটি বিতর্কিত দৃশ্য সহ মঞ্চস্থ করে। সেদিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও সেখানে ছিল ব্যাপক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের উপস্থিতি। মঞ্চের বাইরে ছিল নানা মতের বিক্ষোভকারী—ধর্মীয় সহনশীলতার সমর্থক থেকে শুরু করে যিশুর কাটা মস্তকের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে খ্রিস্টান প্রতিবাদকারীও। জার্মান সরকারের বিভিন্ন সদস্য ও মুসলিম সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যদিও কেন্দ্রীয় মুসলিম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আইমান মাজিয়েক অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, "মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতার অংশ হচ্ছে, আপনি না যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।"[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Kilb, Andreas (২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "Oper: Kirsten Harms: Die Rückzieherin"FAZ.NET (জার্মান ভাষায়)। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  2. "Religious fears force off opera", BBC News. Retrieved September 26, 2006.
  3. Judy Dempsey; Mark Landler (২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "Opera Canceled Over a Depiction of Muhammad"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২০
  4. "Merkel warns against bowing to fear of Muslim violence" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৩-১২-১৫ তারিখে, Daily Times/Reuters, 28 September 2006
  5. Mark Landler (২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "At German Conference on Muslim Relations, One Vote Is Unanimous: Mozart Must Go On"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২০
  6. Berlin police protect Mozart opera ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৮-০১-০৩ তারিখে, Al Jazeera English