হিমবাহের গতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভূটান-হিমালয় এলাকার হিমবাহ প্রান্তীয় প্রবাহ।      এ এলাকায় হিমবাহ হ্রদ ব্যাপকভাবে বিগত যুগ ধরে সৃষ্টি হচ্ছে।ইউএসজিএস তাপমাত্রার সাতে এর সম্পর্ক খুজে পেয়েছে।

হিমবাহের গতি বলতে হিমবাহের চলার পথকে বুঝানো হয়, যা অনেকটা বরফের নদীর সাথে তুলনা করা যায়। বিভিন্ন নতুন ভূমিরূপ গড়ে তুলতে এই হিমবাহের গতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।হিমবাহের ঝাঁকুনি থেকে বিশ্বের বেশিরভাগ হ্রদের অববাহিকা তৈরী হয়েছে।হিমবাহের গতি অনেক দ্রুত (৩০ মি/দিন[রূপান্তর: অজানা একক] পর্যন্ত,গ্রীনল্যান্ড এর জাকবশন ইসবরে)[১] বা ধীর (০.৫মিটার/বছর পর্যন্ত ক্ষুদ্র হিমবাহ বা বরফখন্ডের কেন্দ্রে) দুটোই হতে পারে ,সাধারণত ২৫সেমি/দিন হয়ে থাকে ।[২]

গতি প্রকৃতি[সম্পাদনা]

হিমবাহের গতি সাধারণত ৪ ধরনের হয়ে থাকে এবং তা মহাকর্ষীয় শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। আনুভূমিক  ঘূর্ণন বা পিছলানো,হিমবাহের কম্পনের ফলে সৃষ্ট বরফের  আংশিক চলন,তল ভাঙন এবং অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন।

  • আনুভূমিক ঘূর্ণনেরক্ষেত্রে সম্পূর্ণ হিমবাহ তোলার উপর গড়িয়ে পড়ে।এই ধরনের গতি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় যদি তোলার অধঃক্ষেপ নরম থাকে বা হিমবাহে যদি শীতল পানির উপস্থিতি থাকে।
  • তলের পরিবর্তন কেবলমাত্র ঘূর্ণন এলাকায় দেখা যায় । ঋতুভিত্তিক গলন এবং হিমবাহের নিচে তার অনুপ্রবেশের জন্য হিমবাহের বরফখন্ডগুলো ঋতুভিত্তিক তরণ এবং মন্দন দেখায়  যা পুরো বরফখন্ডের গতিকে প্রভাবিত করে।[৩]
  • কিছু কিছু হিমবাহ হিমবাহের কম্পন দ্বারা চলে।ম্যানহাটনের বৃহত্তম হিমবাহ এবং এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং এর মত দীর্ঘতম হিমবাহ এক মিনিটের কম সময়ে ১০ মিটার চলতে পারে যা ঝাঁকুনি সৃষ্টি করার এবং সিসমিক ওয়েভ এর  জন্য যথেষ্ট।[৪] এধরনের বরফ ঝাঁকুনির পরিমাণ দিনদিন বেড়েই চলেছে- ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে বছরপ্রতি ছয় থেকে ১৫ তে উন্নীত হয়েছে,২০০৩ সালে তা ২০ এ উন্নীত হয় ,২০০৪ এ ২৩ এবং ২০০৫ সালের প্রথম ১০ মাসে ৩২ এ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় ।[৫] যেসমস্ত হিমবাহ তলেই শীতল অবস্থায় থাকে তারা ঘূর্ণন লাভ করেনা।
  • যখন বরফের ওজনের জন্য বরফখণ্ডের গঠনে পরিবর্তন হয় তখন অভ্যন্তরীণ গঠনগত পরিবর্তন দেখা যায় এটি সাধারণত হিমবাহ তলের কাছাকাছি যেখানে চাপ বেশি সেখানে দেখা যায় ।ঘূর্ণন,কম্পন ছাড়া বাকি সমস্ত হিমবাহ এই অভ্যন্তরীণ চলন দ্বারা জায়গা পরিবর্তন করে।

প্রান্তীয় চলন এবং ভর ভারসাম্য[সম্পাদনা]

যদি হিমবাহের গলনের চেয়ে প্রান্তীয় চলন বেশি হয় তাহলে হিমবাহ প্রবাহিত হয়।হিমবাহের পশ্চাদপসরণ দ্বারা হিমবাহ তার আশেপাশের অনেক বস্তু কেড়ে নিয়ে যায় এবং সামনে প্রবাহিত হয় ।

হিমবাহবিদদের মতে হিমবাহের চলনের চেয়ে ভর ভারসাম্য বজায় রাখা বেশি প্রয়োজন।১৯৬০ সালের থেকে বিশ্বব্যাপী হিমবাহের পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।হিমবাহ জোট হালকা হয়ে যায় এর গতি তত হ্রাস পায় এবং সংকুচিত হয়ে যায়।[৬]

ভূদৃশ্য এবং ভূতত্ত্ব[সম্পাদনা]

হিমবাহের গতি এবং ভূতত্ত্ব বুঝার জন্য বিভিন্ন শাখার জ্ঞান অর্জন করা দরকার।এজন্য তাত্ত্বিক ভূবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব এবং আবহাওয়া বিজ্ঞান এদের একই গোত্রে ধরা হয় এবং এদের একসাথে পৃথিবী বিজ্ঞান বলা হয়।

প্লেইস্টোসিন যুগ (শেষ বরফ যুগ) থেকেই বড় বরফখন্ড কে মহাদেশীয় হিমবাহ বলা হয় এবং সারা বিশ্বে এর বিস্তৃতি রয়েছে।এসব মহাদেশীয় হিমবাহের চলাচলে অনেক অপরিচিত হিমবাহ ভূমি তৈরী হয়েছে।যেহেতু হিমবাহের তুষার ও বরফের ওজন অর্জন করার ক্ষমতা রয়েছে তাই এরা প্রসারিত হয়, ভাঙ্গে এবং আবার নতুনভাবে  ভূমিশিলা,ক্ষয়প্রাপ্ত ভূমি যেমন: ক্রীড়া ভূমি,বৃত্তাকার ভূমি,ঝুলন্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়।পরবর্তীতে যখন আবার হিমবাহ যখন শিলা এবং বালুর নিচে চাপা পড়ে তখন আবার পলল ভূমিরূপ যেমন গ্রাবরেখা, এস্কার, কামেস, ড্রামলিন এসব সৃষ্টি হয় ।নিউ ইংল্যান্ড(আমেরিকার উত্তর পূর্বে) এ বিভিন্ন পাথরের দেয়াল দেখা যায় যেগুলো অনিশ্চিত হিমবাহ দ্বারা তৈরী,এসব পাথর হিমবাহের প্রবাহে বহু পথ অতিক্রম করে এসেছে।

যদি কোনো কারণে আল্পাইন হিমবাহ খুব বেশি পাতলা হয়ে যায় এটির গতি বন্ধ হয়ে যাবে এবং ভূমিক্ষয় ও বন্ধ হয়ে যাবে।হিমবাহ ও জমাট বেধে একদম সচ্ছ দেখাবে।হ্রদ এবং পুকুরও হিমবাহ দ্বারা সৃষ্টি হয়।মাটির নিচে বিশাল বরফ খন্ডের হিমবাহের পুনরুত্থানে কেটেল লেকের সৃষ্টি হয়।  হিমবাহ পলল (তুষার প্রবাহ) দ্বারা গ্রাবরেখা বা প্রবাহহীন হ্রদের সৃষ্টি হয়।

.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Glacier properties Hunter College CUNY lectures"। ২০১৪-০২-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০২-০৬ 
  2. "Table of fastest glacier speeds at"। Antarcticglaciers.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৮-১৬ 
  3. Surface Melt-Induced Acceleration of Greenland Ice-Sheet Flow Originally published in Science Express on 6 June 2002, Science 12 July 2002: Vol. 297. no. 5579, pp. 218 - 222.
  4. Harvard News Office (২০০৬-০৪-০৬)। "Global warming yields 'glacial earthquakes' in polar areas"। News.harvard.edu। ২০১৩-০৯-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৯-২৪ 
  5. Glacial earthquakes rock Greenland ice sheet 12:36 24 March 2006, NewScientist.com news service
  6. "Climate Change 2001: The Scientific Basis"। Grida.no। ২০১৪-০৯-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৯-২৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:হিমবাহ