হিপোক্রেটিসের শপথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
শপথটির একটি পাণ্ডুলিপি, সময় দ্বাদশ শতকের বাইজেণ্টাইন সাম্রাজ্য

হিপোক্রেটিসের শপথ (Hippocratic Oath) চিকিৎসকদের ঐতিহাসিকভাবে গ্রহণ করা একটি শপথ। বহুল পঠিত গ্রীক চিকিৎসা সংক্রান্তীয় পাঠ্যসমূহের মধ্যে এটি অন্যতম। মূল রূপ অনুযায়ী একজন নতুন চিকিৎসককে কয়েকজন দেবতার নাম নিয়ে শিষ্টাচারের নির্দিষ্ট মান পালন করতে শপথ নিতে হয়। ঐতিহাসিক এবং পরম্পরাগত মূল্যে বহু দেশে শপথটিকে চিকিৎসকদের প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে গণ্য করা হয়। আজকাল এর বিভিন্ন আধুনিক রূপও ব্যবহার করা হয়।

পণ্ডিতগণ বিশ্বাস করেন যে পশ্চিমী সংস্কৃতিতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক বলে মানা হিপোক্রেটিস বা তাঁর একজন শিষ্য এই শপথ লিখেছিলেন।[১] মূল শপথবাক্যটি পঞ্চম শতকের শেষদিকে Ionic Greek ভাষায় লেখা হয়েছিল।[২] একে সাধারণত হিপোক্রেটিক সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ধ্রুপদী পণ্ডিত লুড্‌বিগ এডেল্‌ষ্টেইন এই মত পোষণ করেন যে, এই শপথ বাক্য পাইথাগোরিয়ানগণ লিখেছিল। পাইথাগোরিয়ান চিকিৎসার ধারার অভাবে এই মতবাদকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।[৩]

শপথটির আধুনিক রূপের বাংলা পাঠ[সম্পাদনা]

আমি , আমার সর্বোচ্চ সামর্থ এবং বিচার দ্বারা এই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করার শপথ নিচ্ছি :

আমি সেই পূর্বসূরী চিকিৎসকদের কঠোর সাধনা-লব্ধ বৈজ্ঞানিক উপলব্ধিসমূহকে শ্রদ্ধা করব যার খোঁজ অনুসরণ করে আমি খোঁজ দিচ্ছি, এবং এমন সমূহ জ্ঞান আমার এবং তাদের মধ্যে, যে এই পথে অগ্রণী হব, আনন্দমনে ভাগ করে নেব।

নিরর্থক-চিকিৎসা এবং চিকিৎসা-অসার বলে ভাবা মানসিকতা, এই দুইয়ের জালে বাঁধা থাকা রোগীর উপকারার্থে দরকারী সকল ব্যবস্থার প্রয়োগ করব।

আমি মনে রাখব চিকিৎসাশাস্ত্র এবং বিজ্ঞানে এক শিল্পগত সম্বন্ধ আছে এবং ভরসা, সহ-মর্মিতা এবং বোঝাপড়ায় হয়তো অস্ত্রোপচারের ছুরিটি বা ঔষধালয়ের ঔষধকে তলায় ফেলতে পারে।

“আমি জানি না” বলতে আমি লজ্জা করব না, না আমি আমার সহকর্মীকে জানাতে কুন্ঠিত হব যখন একজন রোগীকে আরোগ্য করতে অন্য কারোর দক্ষতার আবশ্যক হয়।

আমি আমার রোগীদের একান্ত-গোপনীয়তাকে সম্মান করব, কখনো তাঁরা তাঁদের সমস্যা সমূহ গোটা পৃথিবী জানুক বলে আমাকে না বলেন।সবচেয়ে বিশেষভাবে, জীবন এবং মৃত্যুর কথা জড়িত থাকা বিষয় সমূহে আমাকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

আমাকে যদি জীবন রক্ষা করতে দেওয়া হয় , ধন্যবাদ। কিন্তু জীবন নেওয়াটাও হয়তো আমার ক্ষমতার মধ্যেে আছে; আমার নিজের দুর্বলতার প্রতি সচেতন থেকে অতি অমায়িকভাবে এই ভীষন দায়িত্বর সম্মুখীন হতে হবে। সর্বোপরি , আমি ঈশ্বরের স্থানে খেলতে কখনোই যাব না।

আমি মনে রাখব যে, আমি জ্বরের একটি রেখাংকন, ক্যান্সারের একটি বাড়তে থাকা নমুনাকে চিকিৎসা না করে, করব একজন রোগী ব্যক্তিকে, যার রোগটি হয়তো তাঁর পরিবার এবং আর্থিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে। আমার দায়িত্ব এই সম্পর্কিত সমস্যাগুলি, যদি আমি রোগীর পর্যাপ্ত যত্ন নিই।

আমি যখনই পারব, অসুখের প্রতিরোধ করব, কারণ প্রতিরোধ উপশম অপেক্ষা শ্রেয়।

আমি মনে রাখব যে আমার কাছে সকল মানব, যার মন এবং শরীর অথবা যার নয়, সবার প্রতি বিশেষ দায়বদ্ধতার সাথে আমি সমাজের একজন সদস্য হয়ে থাকব।

যদি আমি এই শপথ উল্লঙ্ঘন না করি, তবে আমি যাতে জীবন এবং কলাসমূহ উপভোগ করতে পারি, জীবিত থাকার সময়ে সম্মানিত হই, এবং তারপর যাতে মনে রোমন্থিত হই। আমি যাতে সবসময় আমার বৃত্তির উত্তম ঐতিহ্যসমূহের সংরক্ষণার্থে কাজ করি এবং আমি যাতে সুদীর্ঘ সময় তাঁদের রোগ-উপশম করার আনন্দ লাভ করতে পারি, যারা আমার সহায়তা আশা করবে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Farnell, Lewis R. (২০০৪) [1920]। Greek Hero Cults and Ideas of Immortality : The Gifford Lectures : Delivered in the University of St. Andrews in the Year 1920। Whitefish, Montana: Kessinger Publishing। পৃষ্ঠা 269। আইএসবিএন 978-1-4179-2134-8The famous Hippocratean oath may not be an authentic deliverance of the great master, but is an ancient formula current in his school. 
  2. Edelstein, Ludwig (১৯৪৩)। The Hippocratic Oath: Text, Translation and Interpretation। পৃষ্ঠা 56। আইএসবিএন 978-0-8018-0184-6 
  3. Temkin, Owsei (২০০১)। "On Second Thought"। "On Second Thought" and Other Essays in the History of Medicine and ScienceJohns Hopkins Universityআইএসবিএন 978-0-8018-6774-3 

অতিরিক্ত পঠন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]