হারাগাছ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হারাগাছ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়
অবস্থান

তথ্য
ধরনবেসরকারী
প্রতিষ্ঠাকাল১৯২৩ সাল
শ্রেণী১-১০

হারাগাছ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম বিদ্যালয় গুলোর মধ্যে একটি। এটি ১৯২৩ সালে রংপুর জেলায়, কাউনিয়া উপজেলায়, হারাগাছে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এটি একটি মাদ্রাসা ছিল, পরে একে "হারাগাছ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে" রূপান্তরিত করা হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

স্কুলটি হারাগাছস্থ খান সাহেব আছিমুদ্দিন দালাল তার পিতা বন্দে আলী মিয়ার নামে "ধুমগাড়া গোলাহাটে" “বন্দে আলী জুনিয়ার মাদ্রাসা” প্রতিষ্ঠা করেন। এটি তিনি পরবর্তীতে সারাই হক বাজার এলাকায় পাবলিক মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে স্থানান্তরিত করেন এবং ইহাকে নিউ স্কীমভূক্ত “হারাগাছ সিনিয়র মাদ্রাসা” নামকরণ করা হয়। এই মাদ্রাসার জন্য জমি প্রদান করেন প্রামাণিক বংশীয় ভ্রাতৃগণ।[১]

খান সাহেব নিজেই একে পাকা মেঝে সহ টিনের বেড়াযুক্ত বিরাট ভবনটি নির্মাণ করে দেন। তৎকালে সারা পূর্ব বঙ্গে এই স্কীমভূক্ত একটি মাত্র মাদ্রাসাই ছিল তা হলো এই হারাগাছ সিনিয়র মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসায় এতদঞ্চলের ও দেশ-বিদেশের বহু ছাত্র লেখাপড়া করত। খান সাহেব আছিমুদ্দিন স্বীয় প্রচেষ্টায় বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিজ্ঞ ও ভাল শিক্ষক খুজে এনে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করতেন। তার মৃত্যুর পর কিছুকাল যাবত হারাগাছ হাই মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরিচালনা সঠিকভাবে চললেও ধীরে ধীরে এর ব্যবস্থাপনায় ও শিক্ষাদান ক্ষেত্রে শিথিল অবস্থার সৃষ্টি হতে থাকে।

১৯৪৭ এর পরবর্তীতে ডাঃ আব্দুল হামিদ খন্দকার সাহেব “হারাগাছ হাই মাদ্রাসা”-টিকে “আছিমুদ্দিন মেমোরিয়াল হাই স্কুল” নামে রূপান্তরিত করার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব গৃহীত না হওয়ায় একটি নতুন হাই স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাজী জিয়ারতুল্যা সাহেবের পুত্র রইচ উদ্দিন আহম্মেদসামসুদ্দিন আহম্মেদের বাসভবনের পরিত্যক্ত বিরাট গুদামঘরে “হারাগাছ হাই স্কুল” নামে একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।

১৯৫০ সালের পর এদেশের মানুষের কাছে আরবী ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি একটা অনীহার ভাব ফুটে উঠে, ছাত্র ও অবিভাবকেরা ইংরেজি ও সাধারণ শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে। এমনকি এ সময়েই দু’চারটি অভিজাত পরিবার ধর্মের গোঁড়ামির বেড়া ভেঙ্গে শিক্ষার জন্য মেয়েদেরকে উচ্চ মাদ্রাসায় পাঠাতে শুরু করেন। ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার শিথিলতার কারণে "হারাগাছ উচ্চ মাদ্রাসার" শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। এতে ছাত্র সংখ্যা কমতে থাকে এবং উপযুক্ত শিক্ষকের ওভাব প্রকট হয়ে দেখা দেয়। খন্দকার আঃ বারী সাহেব স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। ১৯৫৯ সালে ইহার গোড়া পত্তন হয় ও ১৯৬০ সালে এই স্কুলটি যথারীতি অনুমোদন লাভ করে।

হারাগাছ উচ্চ মাদ্রাসার শুভাকাঙ্কী কর্তৃপক্ষ "হারাগাছ হাই স্কুল" প্রতিষ্ঠার পর সচেতন ও তৎপর হয়ে উঠেন। তারাও মাদ্রাসা শিক্ষার পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালান এবং ফলশ্রুতিতে তারা ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় নব প্রতিষ্ঠিত হারাগাছ হাই স্কুলটিকে স্থানান্তরিত করে নিয়ে হারাগাছ উচ্চ মাদ্রাসার সঙ্গে একীভূত করেন। হারাগাছ উচ্চ মাদ্রাসাটিকে হাই স্কুল রূপে রূপান্তরিত করেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে ক্রমে হারাগাছ হাই মাদ্রাসার বিলুপ্তি ঘাটে।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মোঃ আবুল কাসেম কর্তৃক রচিত “হামার দ্যাশ হারাগাছ(প্রথম খন্ড)”।