বিষয়বস্তুতে চলুন

হানক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হানক
হানক, নামসানগোল গ্রাম, সিউল
প্রতিলিপি
হান্‌গল্

হাঞ্জা

সংশোধিত রোমান

ম্যাককান–রাইশাউর

한옥

韓屋

hanok

hanok

হানক (কোরীয় ভাষায় : 한옥) হল কোরিয়ার প্রাচীন ঐতিহ্যগত গৃহ। ১৪ শতাব্দীর দিকে কোরিয়ার জোসন রাজবংশের রাজত্বকালে প্রথম হানক তৈরি হয়।[] এইটি হল কোরিয়ার প্রাচীন স্থাপত্যের ইতিহাসের এক অন্যতম অংশ। কাঠের তৈরি হানক খুব সাধারণ কিন্তু অনন্য শৈলী এবং পরিবেশবান্ধব। কোরিয়ার স্থাপত্যের ইতিহাস অনুসারে হানক তৈরির সঙ্গে তার পার্শ্ববর্তী পরিবেশ , বিশেষ করে হানকের অবস্থান ও ঋতুর এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। হানকের অভ্যন্তরের অংশও এই বিষয়গুলির ওপরে নির্ভর করে তৈরি করা হয়ে থাকে।[] হানক তৈরির এই প্রধান বৈশিষ্ট্যকে বেসানইমসু (কোরীয় ভাষায় :배산임수) বলা হয়ে থাকে, যার অর্থ হল একটি আদর্শ বাড়ি তৈরি হয় এমন জায়গায় যার পিছন দিকে পাহাড় ও সামনের দিকে নদী আছে।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

নব্য প্রস্তর যুগে কোরিয়ার মানুষ ডোঙ্গা আকৃতির কুটির এ থাকতো। পরবর্তী সময়ে তারা কাঠের কড়িবরগা ও স্তম্ভ বানিয়ে খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘর বানায়। এই ভাবে প্রথম হানক তৈরি শুরু হয়। লৌহ যুগে খড়ের পরিবর্তে পোড়া মাটির টালি দিয়ে ছাউনি তৈরি হয় যা বর্তমান সময়ের হানকে দেখা যায়। অনেক ঐতিহাসিকের মতে জাপানের অধীনে থাকাকালীন কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ গৃহ গুলি পুনরুদ্ধারের জন্যে "হানক" শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়।

উপকরণ

[সম্পাদনা]

হানক তৈরির প্রধান উপকরণ হিসাবে মাটি, কাঠ ও পাথর ব্যবহৃত হয় যা পরিবেশবান্ধব ও দূষণমুক্ত।[] হানকের ছাদ তৈরি হয় পোড়া মাটির টালি দিয়ে এবং ছাদের কোনগুলি হয় বাঁকা আকৃতির।

বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

হানকের পরিবেশবান্ধব হওয়ার নানা বৈশিষ্ট্য, এর বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ গঠন থেকে শুরু করে উপকরণেও দেখা যায়। হানক তৈরির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কোরিয়ার ঋতুর কথা মাথায় রেখে হিমশীতল শীতের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে ঘরের মেঝেতে ঘর গরম করার একটি ব্যবস্থা থাকে এবং উষ্ণ গরমের জন্য জানালা ও দরজায় বিশেষ ভাবে তৈরি কোরিয়ার ঐতিহ্যগত কাগজ "হানজি" (কোরীয় ভাষায় : 한지) লাগানো হয় যাতে গরম হাওয়া ও সূর্যের তাপ ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে। হানকের স্তম্ভগুলি (দেদুলবো ) মাটির নীচের পরিবর্তে হানকের প্রত্যেকটি কোণের পাথরের মধ্যে কৃত্রিম ভাবে লাগানো হয় যাতে ভূমিকম্পের সময় হানকের ক্ষতি না হয়।

অঞ্চলগত পার্থক্য

[সম্পাদনা]

কোরিয়ার অঞ্চল ভেদে হানকের গঠন আকৃতির পার্থক্য দেখা যায়। কোরিয়ার দক্ষিণ দিকে অতিরিক্ত গরমের কারণে হানকের আকৃতি সোজা একটি রেখা বা ইংরেজি 1 এর মত দেখতে হয়। অন্যদিকে উত্তর দিকে হিমশীতল আবহাওয়া থেকে রক্ষার জন্য হানকের আকৃতি একটি বাক্স বা কোরীয় অক্ষর 'ㅁ' এর মত হয় , চারিদিক দিয়ে ঘর এবং মাঝখানে ফাঁকা যেখানে দিনের বেলায় সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে ও ঘরগুলি সমান ভাবে উষ্ণতা পেতে পারে। কোরিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলগুলোতে উত্তর ও দক্ষিণ অংশের হানকের আকৃতির একটি মিশ্র আকৃতি দেখা যায় , যা অনেকটা ইংরেজি অক্ষর 'L'  বা কোরীয় অক্ষর 'ㄱ' এর মত দেখতে হয়।[]

পর্যটনকেন্দ্র

[সম্পাদনা]

কাঠের তৈরি প্রাচীন এই হানক গুলি কোরিয়ার ইতিহাসের এক অতি আকর্ষণীয় দিককে তুলে ধরে। ১৯৭০ এ বহু হানক ভেঙে বড় বড় স্থাপত্য তৈরি হলেও এখনো কোরিয়ার কিছু জায়গায় হানক রয়েছে। যেমন - কোরিয়ার গিঅংজু গ্রাম (যা একটি UNESCO WORLD HERITAGE বা বিশ্ব ঐতিহাসিক স্থানের অন্তর্গত) , জনজু হানক গ্রাম এবং জেজু দ্বীপে এখনো হানক রয়েছে। বর্তমানে হানকের জনপ্রিয়তা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যার অন্যতম কারণ কোরিয়ার বিভিন্ন চলচ্চিত্রের ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে এই সব হানকের ব্যবহার এবং পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য সরকারের সহায়তায় হানকগুলি পুনরুদ্ধার করে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Park, Nani,। Hanok : the Korean house। Fouser, Robert J.,, Lee, Jongkeun,। Tokyo। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৬২৯-১৫১৪-৯ওসিএলসি 907093799{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অতিরিক্ত বিরামচিহ্ন (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  2. Trip, Culture। "Why The Traditional Hanok Is The Forerunner To Eco-Architecture"Culture Trip। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. 1 2 "Hanok - 한옥: The charming traditional Korean houses! | Luca Sartor" (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ১১ আগস্ট ২০১৯। ১০ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০
  4. "Official Site of Korea Tourism Org.: Arrangement"english.visitkorea.or.kr। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০
  5. @NatGeoUK (১৩ অক্টোবর ২০১৮)। "South Korea: What is a hanok?"National Geographic (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০