স্যাব্রিয়েল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্যাব্রিয়েল
স্যাব্রিয়েল উপন্যাসের প্রচ্ছদ.jpg
লেখকগার্থ নিক্স
প্রচ্ছদ শিল্পীগ্রেগরি রজার্স[১]
দেশঅস্ট্রেলিয়া
ভাষাইংরেজি
ধারাবাহিকদ্য ওল্ড কিংডম
ধরনকল্পকাহিনি
প্রকাশকহার্পারকলিন্স পাবলিশার্স
প্রকাশনার তারিখ
১৯৯৫
মিডিয়া ধরনপ্রিন্ট, ই-বুক, সিডি
পৃষ্ঠাসংখ্যা৪৯১
আইএসবিএন০-০৬-৪৪৭১৮৩-৭ (পেপারব্যাক)
ওসিএলসি৩৭৭৬৭০৬৩
পূর্ববর্তী বইক্ল্যারিয়েলঃ দ্য লস্ট অ্যাভোর্সেন 
পরবর্তী বইলায়ারেল 

স্যাব্রিয়েল গার্থ নিক্সের লেখা একটি উপন্যাস যা কাল্পনিক কাহিনির ভিত্তিতে রচিত। ওল্ড কিংডোম সিরিজের প্রথম উপন্যাস এটি যা থেকে পরবর্তীতে লায়ারেল, অ্যাভোর্সেন, ক্ল্যারিয়েলগোল্ডেনহেড উপন্যাসের সূচনা হয়।

পাঠ পরিচিতি[সম্পাদনা]

উপন্যাসটি পাশাপাশি অবস্থিত দুইটি কাল্পনিক দেশকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। একটি হলো দক্ষিণের অ্যানসেলশায়ার, যার সভ্যতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ২০ শতকের অস্ট্রেলিয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আরেকটি রাজ্য হলো উত্তরে অবস্থিত যাকে পুরাতন রাজ্য (ওল্ড কিংডোম) হিসেবে নামকরণ করা হয় এবং সে রাজ্যে মুক্তভাবে জাদু চর্চার প্রচলন রয়েছে। এই ব্যাপারটি অ্যানসেলশায়ারের সরকার মেনে নেয়নি এবং ওখানকার বাসিন্দারাও এটি অবিশ্বাস করে। এমতাবস্থায় দুই দেশের মাঝে দেয়াল তুলে দেওয়া হয়। তবুও সীমান্তের কাছে কখনো কখনো দেয়াল অতিক্রম করে জাদু দক্ষিণের দেশে চলে যেত বিশেষ করে তখন যখন পুরাতন রাজ্যে জোরালো বাতাস বয়ে যেত। রাজকীয় পরিবারের পতন হবার পর জ্যান্ত লাশ, শক্তিশালী জাদুকর ও মুক্ত জাদুবিদ্যার উপাদানসমূহের মত অস্বাভাবিক ও ভয়াবহ কিছু সত্তা ঘুরে বেরানো শুরু করে।

এরূপ মৃত মানুষগুলোকে জীবন্ত করে এক বিশেষ ধরণের জাদুকরেরা, এরা মৃতদের পবিত্র করে কিংবা মৃতদের মধ্যে বসবাস করে ও পুরানো রাজ্যে ঘুরে বেড়ায়। ভয়ানক এক জ্যান্ত লাশের সমস্যা নিরাময়ের জন্য ও এটিকে শান্ত করার জন্য "অ্যাভোর্সেন" উপাধির একজন জাদুকর কিছু ঘণ্টা (বেল) ও একটি তলোয়ারের পেটি ব্যবহার করেন। স্যাব্রিয়েলের সময়ে উক্ত কাজটি অর্থাৎ অ্যাভোর্সেনের কাজ করতেন স্যাব্রিয়েলের পিতা টারসিয়েল। তবে নতুন অশুভ শক্তির উত্থানের সময় ব্যাপারটি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

যখন একজন অ্যাভোর্সেন তেমনি একটি অশুভ শক্তির কাছে হার মেনে যায় তখন স্যাব্রিয়েলের বাবা অশুভ শক্তিটিকে নিয়ন্ত্রণের সিদ্বান্ত নেন। এজন্যে তিনি স্যাব্রিয়েলকে বেল ও তলোয়ার (জ্যান্ত লাশ নিয়ন্ত্রণের জন্যে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি) পাঠান অন্য একটি জ্যান্ত লাশের মাধ্যমে। স্যাব্রিয়েল ছিল অ্যানসেলশায়ার বালিকা বিদ্যালয়ে যেন কোনো শত্রু তার মাধ্যমে তার বাবাকে হত্যা না করে অ্যাভোর্সেন পরিবার ধ্বংস করতে পারে৷ যা হোক, যে জ্যান্ত লাশকে স্যাব্রিয়েলের কাছে পাঠানো হয় তার কোনো কথাই স্যাব্রিয়েল বুঝতে পারছিল না এবং কথাগুলো বোঝার জন্য স্যাব্রিয়েলকেও জ্যান্ত লাশে পরিণত হতে হবে অর্থাৎ মৃত্যুবরণ করতে হবে। তবে স্যাব্রিয়েল তার বাবার কাছ থেকে শিখেছিল কিভাবে কিঞ্চিত সময়ের জন্যে মৃত হয়ে জ্যান্ত লাশদের সাথে যোগাযোগ করা যায়। পরবর্তীতে তার বাবা তাকে পুরোনো রাজ্যে ফিরে গিয়ে কেরিগোর যেন পুনরায় জীবন্ত হতে না পারে সেজন্যে তাকে এভোর্সেনের দায়িত্ব দেয়। দায়িত্বটি পালনের সময় স্যাব্রিয়েল আপাত মৃত এমন একজনের সাথে 'বিপদজনক বিচ্ছিন্নতা' নিয়মটি এড়িয়ে যায়।

সারাংশ[সম্পাদনা]

বইয়ের শুরু হয় এটি দেখিয়ে যে স্যাব্রিয়েল মৃতপ্রায় একটি খরগোশকে বাঁচিয়ে তুলছে। সে একজন বালিকা যে উইভার্লি কলেজে অধ্যয়নরত, এন্সেলশায়ারের একটি বালিকা বিদ্যালয়। একদিন জ্যান্ত লাশের মত অদ্ভুত সত্তা তাদের ছাত্রীনিবাসে ঢুকে পড়ে এবং সেখানকার মেয়েদের ভয় দেখাতে থাকে। স্যাব্রিয়েল লক্ষ করলো যে লাশটি ছোটখাটো ঝুলি হাতে দাঁড়িয়ে আছে এবং সে কথা বলার চেষ্টা করছে। স্যাব্রিয়েল নিজেকে জীবিত অবস্থা থেকে মৃত অবস্থায় পরিবর্তিত করে যেন সে লাশটির ভাষা বুঝতে সক্ষম হয়। যা হোক, সে দেখলো ঝুলিটতে তারের মত কিছু লাগানো আছে এবং প্রথম প্রবেশদ্বারের জলপ্রপাতের দিক দিয়ে চলে যাচ্ছে। এটি একটি চিহ্ন যা থেকে স্যাব্রিয়েল বুঝতে পারে লাশটি কোনো জাদুকরের অধীনে। লাশটি যথেষ্ট দুর্বল কিন্তু স্যাব্রিয়েল কোনোক্রমে তার থেকে জানতে পারে যে তার বাবা (যিনি মৃতাবস্থার সপ্তম প্রবেশদ্বারের কাছে) লাশটিকে একটি বার্তাবাহক হিসেবে স্যাব্রিয়েলের কাছে পাঠিয়েছেন। লাশটির মাধ্যমে তার বাবা তাকে শিখিয়ে দেয় যে তাকে এভোর্সেনের দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং কেরিগরের পতন নিশ্চিত করতে হবে। কেরিগর একজন শক্তিশালী মুক্ত জাদু অনুশীলনকারী যে মৃতাবস্থা থেকে পুনরায় জীবিত হতে চায় যা ওল্ড কিংডমের জাদু চর্চা নিয়মাবলির খেলাপ। স্যাব্রিয়েল অতঃপর ঝোলা থেকে এভোর্সেনদের জন্যে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বেল, এভোর্সেনের তলোয়ার এবং ওল্ড কিংডমের মানচিত্র সংগ্রহ করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]