সোহরাব হোসেন (রাজনীতিবিদ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সোহরাব হোসেন বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন।[১]

মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বৃহত্তর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাগুরা মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম রূপকার মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন ১৯২১ সালে মাগুরার ভায়না গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম করেন। অত্যন্ত মেধাবী এই রাজনৈতিক নেতা ১৯৪৬ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ডিস্টিঙ্কশন্ সহ বি.এস.সি পাশ করে যশোহর জেলা স্কুলে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। পরবর্তিতে ১৯৪৮ সনে তিনি শিক্ষকতার পেশা ত্যাগ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ভর্তি হন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রথম উৎসস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং এল এল বি পাশ করে ১৯৫৪ সালে মাগুরা বারে যোগদান করেন। ছাত্র জীবনে কমরেড আব্দুল হক এবং তত্কালিন বৃটিশবিরোধী আন্দোলন তাকে রাজনীতিতে আকৃষ্ট করে এবং ১৯৪৮ সালে তিনি তত্কালিন ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৫৪ সালের দিকে সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে মাগুরাতে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। অতি অল্প সময়ে তিনি রাজনীতি ও আইন পেশায় সাফল্য লাভ করেন। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি মাগুরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মাগুরা মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ১৯৬৮ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর যশোহর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে মাগুরা-নড়াইল আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঐ সময়ে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইংল্যান্ড, জার্মান সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সফর করেন এবং পবিত্র মক্কা নগরীতে উমরাহ হজ্জ পালন করেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে তিনি যশোর জেলায় এবং কেন্দ্রের ৬ দফা আদায়ের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষভাবে নেতৃত্ব দান করেন এবং এই বিশেষ ভূমিকা পালনের জন্য বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে কৃষি সম্পাদকের পদ সৃষ্টি করে সোহরাব হোসেনকে সেই পদের দায়িত্ব অপর্ণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা স্বাধীকার আন্দোলনকে স্বাধীনতা ও মু্িক্ত সংগ্রামে রূপ দানে বঙ্গবন্ধু সহ যে কজন মুষ্টিমেয় বাঙ্গালী নেতা সক্রিয় প্রচেষ্টা চালান সোহরাব হোসেন তাদের অন্যতম। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ২য় সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে তিনি মুজিব নগর সরকারের অন্যতম নীতি নির্ধারকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে বিপ্লবি সরকার কর্তৃক যশোরের টাউনহল ময়দানে আয়োজিত স্বাধীন বাংলার প্রথম ঐতিহাসিক জনসভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুমোদনে যে কজন স্বাক্ষর করেন তিনি তাদের একজন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম মন্ত্রী পরিষদের বন, মৎস্য ও পশু পালন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি গণপুর্ত ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। মাগুরার উন্নয়নে তিনি সরকারি চাকুরিসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তার সময়ে মাগুরায় অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, সরকারি ভবন, অফিস-আদালত ইত্যাদি নির্মিত, সংস্কার সরকারিকরণ ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন হয়। তার সহযোগিতায় মাগুরার অন্যতম বালিকা বিদ্যালয় দুধ মল্লিক স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি শ্রীপুর থেকে মাগুরা হয়ে যশোর পর্যন্ত যে রাস্তা নির্মিত হয় তা ১৯৭৪ সালে পাঁচশালা পরিকল্পনার অধীনে আনেন। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা ও দেশাত্মবোধ এই সকল গুণাবলী তার চতিত্রের বিশেষ অলংকার যে কারণে তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি ও বঙ্গবন্ধুর অত্যান্ত আস্থাভাজন প্রিয়পাত্র ছিলেন। জনাব সোহরাব হোসেন ১৯৯৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ৭৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rahman, Syedur। Historical Dictionary of Bangladesh (ইংরেজি ভাষায়)। Scarecrow Press। পৃষ্ঠা 307। আইএসবিএন 9780810874534। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০১৬