সুপরিকল্পিত মহাবিশ্ব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

সুপরিকল্পিত মহাবিশ্ব হচ্ছে এমন একটি প্রতিজ্ঞা, যেখানে বলা হয়, এ মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় যদি পদার্থবিজ্ঞানের ধ্রুবকের মান একটুও এদিক-সেদিক হত, তাহলে আমরা মহাবিশ্বের বর্তমান যে অবস্থা দেখছি, তা কখনোই এমন হত না। বলা হয়, প্রাণের অস্তিত্বের জন্য ধ্রুবকের যে মান থাকার প্রয়োজন ছিল, নিখুঁতভাবে সে মানই আছে। এর ফলেই এই মহাবিশ্বে প্রাণ সৃষ্টি সম্ভবপর হয়েছে, পদার্থের সৃষ্টি হয়েছে, নভোমণ্ডলীয় গঠন তৈরী হয়েছে, নানাবিধ বৈচিত্র্যের উদ্ভব বা জীবনকে বুঝা সম্ভবপর হয়েছে।[১][২][৩][৪] এই প্রতিজ্ঞার নানাবিধ ব্যাখ্যা নিয়ে দার্শনিক, বিজ্ঞানী, ধর্মতত্ববিদ, এবং সৃষ্টিবাদের প্রবক্তারা আলোচনা করেন। সুপরিকল্পিত মহাবিশ্বের এ প্রকল্প মানবীয় নীতির ন্যায় হলেও, তা একইরুপ সমার্থক নয়, যদিও কখনো কখনো একে মহাবিশ্বে ব্যাখ্যার পর্যবেক্ষণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯১৩ সালে রসায়নবিদ লরেন্স জোসেফ হ্যাণ্ডারসন (১৮৭৮-১৯৪২) The Fitness of the Environment, নামক একটি বই লিখেন। এই বইয়েই সর্বপ্রথম পরিকল্পিত মহাবিশ্বের কথা উঠে আসে। হ্যাণ্ডারসন জীবের বেচে থাকার জন্য পানি এবং জৈব পরিবেশের গুরুত্বের কথা বলেন। তিনি পৃথিবীতে পানির ব্যপকতা ও তার গুণাগুণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, সুনির্দিষ্ট পরিবেশগত অবস্থার কারণেই পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভবপর হয়েছে।[৫]

১৯৬১ সালে পদার্থবিদ রবার্ট এইচ.ডাইক দাবী করেন, মহাবিশ্বের অন্যতম বল মহাকর্ষ এবং তড়িৎচৌম্বকীয় বল (এগুলো পদার্থবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়) মহাবিশ্বের যে কোনো জায়গায় প্রাণ সৃষ্টির জন্য একেবারে নিখুঁতভাবে সামঞ্জস্য বজায় রেখেছে।[৬][৭] ফ্রেড হয়েল ১৯৮৪ সালে সুপরিকল্পিত মহাবিশ্বের সমর্থনে তার বই Intelligent Universe এ বক্তব্য দেন। তিনি "এমিনো এসিডের সহযোগে একটা সাধারণ কার্যক্ষম প্রোটিন তৈরী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার সাথে, একজন সম্পুর্ণ অন্ধ মানুষের এলোমেলো ভাবে চেষ্টার পর একটি রুবিক্স কিউবের স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনার তুলনা করেন।"[৮]

জন গ্রিবিন এবং মার্টিন রিস বিস্তারিত লেখায় সুপরিকল্পিত মহাবিশ্বের সমর্থনে তাদের বই Cosmic Coincidences (১৯৮৯) এ বক্তব্য রাখেন। গ্রিবিন এবং রিস এর মতে, "আমাদের মহাবিশ্বের যে চেহারা বা পরিস্থিতি তা স্বতন্ত্রভাবে আমাদের মত প্রাণীর জন্য উপযুক্ত এবং সম্ভবত যে কোনো জটিল জৈব প্রাণ এখানে গঠিত হতে পারবে। কিন্তু তাহলে একটাই প্রশ্ন উঠে আসে - is the Universe tailor-made for man?" (তাহলে কী কোনো দর্জি; মানুষের জন্য মহাবিশ্ব তৈরী করেছে?)[২]

এলিয়েন দ্বারা নকশা[সম্পাদনা]

একটি প্রকল্প হচ্ছে, মহাবিশ্বকে বহিঃর্জাগতিক এলিয়েন দ্বারা নকশা করা হয়েছে। কেও কেও বিশ্বাস করেন, একজন নকশাকারী বা নকশাকারীর দল কিভাবে মহাবিশ্বকে এত চমৎকারভাবে তৈরী করল, সেই সমস্যার একটি সমাধান তাদের কাছ থেকেই পাওয়া যাবে।নভোবিদ এলান গুথ বিশ্বাস করতেন, মানুষ একসময় নতুন মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে পারবে।[৯] আমাদের মহাবিশ্বও হয়তো কোনো বুদ্ধিমান সত্তাই তৈরী করেছে।[১০] এই ধারণাটা থেকে এটাই সম্ভাব্য অনুমেয় হয় যে, এই বহিঃর্জাগতিক প্রাণ তার নিজের মহাবিশ্বে হয়তো নিজেই বিবর্তনীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছে, যার ফলে নিজেই প্রাণ তৈরী করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। যাইহোক, এরপরে আবারো একটি প্রশ্ন এসে হাজির হয়, সেই মহাবিশ্ব তাহলে কোথা থেকে এলো, এভাবেই অসীম সংখ্যক প্রশ্নের উদ্ভব হয়।

জন গ্রিবিনের পরিকল্পিত-মহাবিশ্ব তত্ব এটাই প্রস্তাব করেছে যে, অসংখ্য মহাবিশ্বের আরেকটি অংশের উন্নততর সভ্যতাই সুবিবেচনার দ্বারা এই মহাবিশ্ব তৈরী করেছে এবং হতে পারে; সেই উন্নত সভ্যতাই বিগ ব্যাং এর জন্য দায়ী।[১১]


আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. Rees, Martin (মে ৩, ২০০১)। Just Six Numbers: The Deep Forces That Shape The Universe। New York, NY: Basic Books; First American edition। পৃষ্ঠা 4। 
  2. Gribbin. J and Rees. M, Cosmic Coincidences: Dark Matter, Mankind, and Anthropic Cosmology p. 7, 269, 1989, আইএসবিএন ০-৫৫৩-৩৪৭৪০-৩
  3. Davis, Paul (২০০৭)। Cosmic Jackpot: Why Our Universe Is Just Right for Life। New York, NY: Orion Publications। পৃষ্ঠা 2। আইএসবিএন 0618592261 
  4. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; :2 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  5. Lawrence Joseph Henderson, The fitness of the environment: an inquiry into the biological significance of the properties of matter The Macmillan Company, 1913
  6. R. H. Dicke (১৯৬১)। "Dirac's Cosmology and Mach's Principle"। Nature192 (4801): 440–441। doi:10.1038/192440a0বিবকোড:1961Natur.192..440D 
  7. Heilbron, J. L. The Oxford guide to the history of physics and astronomy, Volume 10 2005, p. 8
  8. Profile of Fred Hoyle at OPT. Optcorp.com. Retrieved on 2013-03-11.
  9. Malcolm W. Browne (১৯৮৭-০৪-১৪)। "Physicist Aims to Create a Universe, Literally"New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-১০-১৭ 
  10. Science & Nature – Horizon – Parallel Universes – Transcript. BBC (2002-02-14). Retrieved on 2013-03-11.
  11. John Gribbin, In Search of the Multiverse: Parallel Worlds, Hidden Dimensions, and the Ultimate Quest for the Frontiers of Reality, 2010, p. 195

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃস্থ লিঙ্ক[সম্পাদনা]

Defend fine-tuning
Criticize fine tuning