সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়
SPC school logo 2.png
জ্ঞানই শক্তি
অবস্থান
শিমুলতলী, গাজীপুর সদর, গাজীপুর-১৭০৩
বাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক ২৪°০২′০০″ উত্তর ৯০°২৪′৫৪″ পূর্ব / ২৪.০৩৩৩২৫° উত্তর ৯০.৪১৫০৬৬° পূর্ব / 24.033325; 90.415066স্থানাঙ্ক: ২৪°০২′০০″ উত্তর ৯০°২৪′৫৪″ পূর্ব / ২৪.০৩৩৩২৫° উত্তর ৯০.৪১৫০৬৬° পূর্ব / 24.033325; 90.415066
তথ্য
ধরন স্বায়ত্তশাসিত
প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৯০
প্রতিষ্ঠাতা দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোশেন (বাংলাদেশ) লিমিটেড
বিদ্যালয় বোর্ড ঢাকা বোর্ড
শিক্ষাবিষয়ক কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
শ্রেণী প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল
Ministry of Education Institution no. শিক্ষা অধিদপ্তর জাতীয় শিক্ষা অধিদপ্তর
প্রধান শিক্ষক মনোরমা বেগম
কর্মকর্তা ৫০(প্রায়)
শ্রেণী নার্সারি থেকে ১০ম শ্রেণি
Years taught ২৭
লিঙ্গ বালক-বালিকা
ছাত্র সংখ্যা প্রায় ১০০০
ভাষার মাধ্যম বাংলা
ভাষা বাংলা
ডাকনাম এস পি সি উচ্চ বিদ্যালয়

সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় (ইংরেজি : Security Printing Corporation High School) ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে "দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ লিমিটেড" এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বায়ত্তশাসিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় যা প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক এলাকার পরিধির অভ্যন্তরে অবস্থিত। ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টির নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয় এবং ২০০৮ সালে ভবনটির দ্বিতল করনের কার্যক্রম শুরু হয় যা ২০১০ সালে সম্পন্ন হয় এবং ব্যবহার এর জন্য উন্মুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতা ১৫০০।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মূলত গাজীপুরের দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান/পোষ্যদের শিক্ষিত করতে ১৯৯০ সালে করপোরেশনের আবাসিক এলাকায় সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন স্কুল স্থাপিত হয়। শুরুতে বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসের আবাসিক এলাকায় বি-২ ভবনে প্লে-গ্রুপ; নার্সারী; প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট ০৪ টি শ্রেণিতে গুটি কয়েক শিক্ষার্থী নিয়ে ১৯৯০ সালে সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস স্কুল নামে একটি প্রিপারেটরী স্কুল চালু করা হয়। ১৯৯২ সালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আবাসিক এলাকায় ডি-১ ভবণে স্কুলটি স্থানান্তর করা হয়। ০১/০১/১৯৯৬ তারিখে ডিডি প্রাইমারী, ঢাকা কর্তৃক প্রাথমিক শাখা খোলার অনুমতি লাভের পর ডিডি মাধ্য: কর্তৃক ঐ একই তারিখ (০১/০১/১৯৯৬) হতে নিম্ম মাধ্যমিক শাখা (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত) স্থাপনের পূর্বানুমতি লাভ করে। পরবর্তীতে ০১/০১/১৯৯৮ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি; ০১/০১/২০০০ সালে ৯ম শ্রেণি খোলার প্রাথমিক অনুমতি এবং ২০০২ সাল হতে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম অংশগ্রহণ করার সুয়োগ লাভ করে। এখানে উল্লেখ্য অত্র বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ১৯৯৬ সালে সরকারী অনুমতির পর প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি এবং ২০০০ ও ২০০১ সালে পার্শ্ববতী বি.ডি.পি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে।

১৯৯৬ সালে স্কুলটির কলেবর বৃদ্ধি পেলে স্কুলটিকে মাধ্যমিক শাখায় উন্নীত করণে শিক্ষা বিভাগীয় নির্দেশনা মোতাবেক স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তেক্রমে করপোরেশনের সাথে মিল রেখে স্কুলটির নামকরনে আংশিক সংশোধন করে সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় সংক্ষেপে এসপিসি উচ্চ বিদ্যালয় করা হয়।  বিদ্যালয়টি-গাজীপুর জেলার অন্যন্য ব্যাতিক্রমধর্মী সহ-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের প্রথম স্বীকৃতি/অনুমতি ক) প্রাথমিক ও নিম্ম মাধ্যমিক শাখাঃ ০১/০১/১৯৯৬ খ্রিঃ,  খ) মাধ্যমিক শাখাঃ ০১/০১/২০০০ খ্রিঃ। স্কুলের নিম্ম-মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন/একাডেমিক স্বীকৃতির শর্তানুসারে করপোরেশনের পরিচালনা পর্ষদের গত ১৬/০১/১৯৯৫ খ্রিঃ এর ২০ তম সভার সিদ্ধান্তক্রমে সেসময়ে স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত ডি-১ নং ৫ তলা ভবনটি (১১০০০ বর্গফুট জায়গা) এবং তৎসংলগ্ন সর্বমোট ১.৭৩ (এক দশমিক সাত তিন) একর জমি সাময়িকভাবে স্কুলের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করেন। পরবর্তীতে সূত্র নং এসপিপিবি/১১৪/২৩২১/৪৩-৯৬ তারিখ ঃ ২৯-০৮-৯৬ ইং করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সভাপতি, স্কুল পরিচালনা কমিটি, সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন স্কুল, গাজীপুর ১৭০৩ কে টাকশাল হোল্ডিং এরিয়ায় প্রতিষ্ঠানের অধিগ্রহণকৃত সর্বমোট ৬৬.৫২ একর জমির মধ্যে একটি ভবণসহ দাগাংকিত ১.৭৩ (এক দশমিক সাত তিন) একর অখন্ড জমি স্কুলের নামে হস্তান্তর করেন।

পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং স্থানের সংকুলান না হওয়ায় বিদ্যালয়ের জন্য একটি নিজস্ব ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। যেহেতু বিদ্যালয়টিতে ভিতরের শিক্ষার্থীরা পাশাপাশি বহিরাগত ছাত্রছাত্রীরা পড়াশুনা করে। বিভিন্ন প্রয়োজনে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। যাতে করপোরেশনের সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় প্রস্তাবিত ভবনের স্থান করপোরেশনের ৪নং ও ৩নং গেইটের মধ্যবর্তী স্থানে/জায়গায় নির্ধারণ করা হয়। ২০০৫ সনে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়টি তার নির্ধারিত ভবনে স্থানান্তরিত হয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০৯ সনে স্কুল ভবনের ২য় তলার উলম্ব সম্প্রসারণ করতঃ এর পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে নার্সারী হতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অর্থ্যাৎ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।[১]

ভর্তি প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ভর্তি হতে আগ্রহী প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেনীর ভর্তি পরীক্ষা সাধারণত ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয় । নার্সারি ও ১ম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে অন্যান্য শ্রেণীতে ও ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়।

শিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয় শিক্ষাক্রমের অধীনে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বাংলা মাধ্যমে শিক্ষাদান করে থাকে। প্রায় ১০০০ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে থাকে। পাঠদান সময় সকাল ০৮:৩০ হতে ০২:০০ ঘটিকা পর্যন্ত। সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠাগার এবং উন্নতমানের ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার ও বিদ্যালয় অডিটোরিয়াম রয়েছে।

শিক্ষাক্রম[সম্পাদনা]

সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে থাকে। এছাড়া ইচ্ছা করলে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সঙ্গীত শিক্ষা, চারু ও কারুকলা এবং বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখার ক্লাসেও অংশ নিতে পারে।

পরীক্ষা-পদ্ধতি[সম্পাদনা]

সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়। বছরে ৩টি সাময়িক পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রতিটি সাময়িক পরীক্ষার পূর্বে একটি শ্রেনি পরীক্ষা নেয়া হয়।

সহশিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

  • ক্রীড়া প্রতিযোগিতা : প্রতি বছর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।
  • সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা : প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে আবৃত্তি, গান, তেলাওয়াত, নাচ, উপস্থিত বক্তৃতা- এসকল ক্ষেত্রে মেধাবীদের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়।
  • জাতীয় দিবসগুলোয় রচনা, চিত্রাংকন ও কুইজের আয়োজন করা হয়।
  • বিজ্ঞান উৎসব : প্রতি বছর মে মাসে আন্ত:স্কুল বিজ্ঞান উৎসবের আয়োজন করা হয়।
  • প্রতি বছর সাহিত্য ম্যাগাজিন “বহতা চিলাই” প্রকাশিত হয়।
  • বিতর্ক প্রতিযোগিতাঃ স্কুলের বিতর্ক ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে মেধাকে শানিত করে।
  • আন্ত:স্কুল ইনডোর গেমস : ইনডোর গেমস এর আয়োজন হয়।
  • আন্ত:স্কুল ফুটবল টূর্নামেন্ট : ফুটবল টূর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।
  • বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে সেমিনারের আয়োজন করা হয় যাতে গণমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত থাকেন।

কৃতি শিক্ষার্থী[সম্পাদনা]

সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সাথে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয় ও A+ এবং বৃত্তি অর্জন করে। এছাড়াও সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, জাতীয় চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতায় এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে।

অর্জন[সম্পাদনা]

  1. ২০০৮ সালে বিএসবি ফাউন্ডেশন কর্তৃক সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে “বিএসবি এডুকেশনাল অ্যাওয়ার্ড” লাভ।
  2. ২০১১ থ্রিস্টাব্দে এই বিদ্যালয় মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে গাজীপুরের সেরা দশ বিদ্যালয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ।[১]
  3. ২০১৪ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে গাজীপুরের সেরা দশ বিদ্যালয়ের তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার। [২]
  4. ২০১৫ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক “প্রাতিষ্ঠানিক কৃতিত্ব সনদ” লাভ।
  5. ২০১৭ সালে আন্ত:বিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে থানা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও জেলা পর্যায়ে রানার্সআপ।
  6. এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পাবলিক পরীক্ষাসমূহে শতভাগ পাশ এবং A+ ও বৃত্তি লাভের কৃতিত্ব অর্জন।

তথ্য সূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]