সিক

স্থানাঙ্ক: ৩০°১৯′২০″ উত্তর ৩৫°২৭′৬″ পূর্ব / ৩০.৩২২২২° উত্তর ৩৫.৪৫১৬৭° পূর্ব / 30.32222; 35.45167
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আল-সিক থেকে আল-খাজনেহ দেখা যাচ্ছে যা পথ শেষ হওয়ার পর একদম সামনে অবস্থিত
সিকের হাঁটার পথ, ২০১৮
আল-সিকের প্রবেশ পথে একটি খিলান

সিক (আরবি: السيق‎‎, প্রতিবর্ণ আল-সিক্ব, প্রতিলিপিকরণ আস-সিক্ব,[ক] আক্ষরিক অর্থ 'খাদ') হল দক্ষিণ জর্ডানে অবস্থিত প্রাচীন নাবাতীয় শহর পেত্রার প্রধান প্রবেশ মুখ। সিকিত নামেও পরিচিত এই খাদটি আবছা, সরু ঘাট (কিছু জায়গায় প্রশস্ততার দিক দিয়ে ৩ মিটার (১০ ফু) এর বেশি নয়) এবং এই পথ আনুমানিক ১.২ কিলোমিটার ( মা) ভেতর পর্যন্ত গিয়ে পেত্রার সবচেয়ে বিস্তৃত ধ্বংসাবশেষ আল খাজনেহতে গিয়ে থামে। সিকের বাইরের দিকে যাওয়ার সময় একটি প্রশস্ত উপত্যকা পড়ে যা বাব আস-সিক (সিকের প্রবেশদ্বার) নামে পরিচিত।

বর্ণনা[সম্পাদনা]

১৮৯৬ সালের ভূমিকম্পে ধ্বংসপ্রাপ্ত খিলান যা ১৮৩৯ সালে অঙ্কন করা হয়। পবিত্র ভূমি, সিরিয়া, ইদুমিয়া, আরব, মিশর এবং নুবিয়া থেকে

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমের জল দ্বারা আকৃতিপ্রাপ্ত আন্টেলোপে গিরিখাতের বিপরীতে সিক একটি প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক ফল্ট যা টেকটোনিক শক্তি দ্বারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে, একমাত্র এর পরে এটি জল দ্বারা স্পর্শে আকৃতি বদলেছে। সিককে ঘেরা যে দেয়ালগুলো মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে সেগুলো উচ্চতায় ৯১–১৮২ মিটার (২৯৯–৫৯৭ ফু)।[১]

সিকের প্রবেশপথে একটি বড় বাঁধ রয়েছে যা ১৯৬৩ ও আবার ১৯৯১ সালে পুনর্নির্মাণ করা হয়, এর নকশার মুখ সিকে রাখা হয় যাতে এটি পানি ওয়াদি মুসায় নিতে পারে। এই বাঁধটি মূলত খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে নাবাতীয়দের তৈরি বাঁধের পুনর্নির্মাণ যা দিয়ে তারা ওয়াদি মুসা শতক ধরে নিয়ন্ত্রণ করত। এর প্রবেশপথে একটি মনোরম খিলান রয়েছে যার মধ্যে টিকে আছে খিলানের মাত্র দুটি প্রস্তর এবং কিছু কাটা পাথর। ১৮৯৬ সালের ভূমিকম্পে খিলনটি ধ্বসে পড়ে, কিন্তু এর গঠন সম্পর্কে ম্যাথু বোলবি ও ডেভিড রবার্টসদের লিথোগ্রাফ থেকে জানা যায়।[১]

বড় বড় কাফেলাগুলো পেত্রায় প্রবেশ করতে সিক ব্যবহার করত। গিরিখাতের দুটি দেওয়ালেই বেটিলাস যুক্ত খোদাইকৃত চিত্র দেখা যায় যা নির্দেশ করে এই সিক নাবাতীয়দের কাছে পবিত্র ছিলো। ১৯৯৮ সালে এই গিরিখাতের পথের ছয় ফুট নিচে খনন করে কিছু মূর্তি পাওয়া যায়। মূর্তির বাইরের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও এই মূর্তিগুলো থেকে দুজন বণিক এই দুটি উটকে চিহ্নিত করা গেছে। সেগুলোর আকৃতি জীবিতদের সাধারণ আকৃতির প্রায় দ্বিগুন।[১]

সিকে কিছু ভূগর্ভস্থ চেম্বার রয়েছে যেগুলো ব্যবহারের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট করা যায়নি। এটা হতে পারে যে এগুলো কবর যেগুলো খালি পড়ে আছে, এবং প্রত্নতাত্ত্বিকদের জন্য বিশ্বাস করা কঠিন যে এগুলো বাসস্থান ছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ মত হচ্ছে যে এগুলো পেত্রার প্রধান প্রবেশদ্বার রক্ষাকারীদের দূর্গ ছিল।[১]

ত্রিমাত্রিক নথিভুক্তকরণ[সম্পাদনা]

ইউনেস্কো সিক স্থিতিশীলতা প্রকল্পের অধীনে জামানি প্রজেক্ট ২০১১-২০১৪ সালে স্থানিকভাবে সিক ও পেত্রা প্রত্নতাত্ত্বিক পার্কের অধিকাংশ স্থান নথিভুক্ত করেছে।[২][৩][৪][৫][৬][৭][৮] অলাভজনক সংস্থাটি ত্রিমাত্রিক বাস্তব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ডিজিটাল নথিভুক্তকরণে দক্ষ, এবং আফ্রিকা ও তার বাইরে ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা ও জ্ঞান বাড়াতে চায়। জামানির উৎপন্ন তথ্য গবেষণা, পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি তথ্যভাণ্ডার হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।[৯][১০][১১]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. Al is assimilated and pronounced as because s (of Sīq) is a sun letter.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bourbon, Fabio (১৯৯৯)। Petra: Jordan's Extraordinary Ancient City। New York: Barnes & Noble Books। আইএসবিএন 0-7607-2022-3 
  2. "Site_Petra"zamaniproject.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-১৩ 
  3. "UNESCO launches second phase of project to mitigate disaster risk in Siq - JORDAN TIMES"UNESCO (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৫-১০-২০। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-১৩ 
  4. Rock Slope Potential Failures in the Siq of Petra (Jordan). In Sassa K., Canuti P., Yin Y. (eds) Landslide science for a safer geoenvironment. Targeted Landslides. BERLIN HEIDELBERG:Springer-VerlagResearchGate (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসবিএন 978-3-319-04995-3। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-১৩ 
  5. Mikoš, Matjaž; Casagli, Nicola; Yin, Yueping; Sassa, Kyoji (২০১৭-০৫-২০)। Advancing Culture of Living with Landslides: Volume 4 Diversity of Landslide Forms (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। আইএসবিএন 9783319534855 
  6. "SA team to map Petra"BusinessLIVE (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-১৩ 
  7. "Wadi Farasa, Petra - Taking the Lesser Travelled Path -"lidarnews.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬-০৮-২১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-১৩ 
  8. "Laser scanning of Petra" (PDF) 
  9. Rüther, Heinz। "An African heritage database, the virtual preservation of Africa's past" (PDF)www.isprs.org 
  10. Rajan, Rahim S.; Rüther, Heinz (২০০৭-০৫-৩০)। "Building a Digital Library of Scholarly Resources from the Developing World: An Introduction to Aluka"African Arts40 (2): 1–7। আইএসএসএন 0001-9933এসটুসিআইডি 57558501ডিওআই:10.1162/afar.2007.40.2.1 
  11. Rüther, Heinz; Rajan, Rahim S. (ডিসেম্বর ২০০৭)। "Documenting African Sites: The Aluka Project"Journal of the Society of Architectural Historians। University of California Press। 66 (4): 437–443। জেস্টোর 10.1525/jsah.2007.66.4.437ডিওআই:10.1525/jsah.2007.66.4.437 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • উইকিমিডিয়া কমন্সে সিক সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।