সাফ ইবনে সাইয়্যাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সাফ ইবনে সাইয়্যাদ
الصف بن الصياد‎
জন্ম৭ম শতাব্দীতে
অন্তর্ধানডিসেম্বর ৬৩২
আক্বরাবার প্রান্তর, আল-ইয়ামামা, নাজদ, খোলাফায়ে রাশেদীন (বর্তমান সৌদি আরব)
অবস্থামৃত
অন্যান্য নামআব্দুল্লাহ ইবনে সাইদ
পরিচিতির কারণ
  • নবুওয়্যাতের দাবিদার,
  • দাজ্জাল এর ছদ্মবেশ

সাফ ইবনে সাইয়্যাদ[১] (আরবি: الصف بن الصياد‎‎), পরবর্তীতে পরিচিত আব্দুল্লাহ ইবনে সাইদ (আরবি: عبد الله بن سعيد‎‎) হিসেবে, তিনি নবী মুহাম্মাদ এবং তার সাথীদের সময় নবুওয়্যাতের কথিত দাবীদার ছিলেন, যিনি পরবর্তীতে রিদ্দার যুদ্ধের পর নিখোঁজ হয়েছিলেন। উমর ইবনে খাত্তাব এবং বর্তমানে কিছু পণ্ডিতের অনুমান, সে দাজ্জাল হতে পারে, যিনি পরবর্তীতে ভণ্ড মসীহ হিসেবে পৃথিবীতে আসবেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

তিনি আরবীয় ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার নাম থেকে বোঝা যায়, তার পিতার নাম সাইয়্যাদ। শৈশব থেকে মুহাম্মাদের প্রতি তার অহেতুক বিদ্বেষের কারণে তাকে দাজ্জাল হিসেবে অনুমান করা পণ্ডিতদের কাছে বলিষ্ঠ কারণ।

শৈশবে নবুওয়্যাতের দাবী[সম্পাদনা]

কৈশোরের শুরুতে ইবনে সাইয়্যাদ দাবী করেন যে, তিনি নবী এবং প্রাথমিকভাবে তাকে দাজ্জাল হিসেবে মনে করা হয়েছিল। কেননা তার বৈশিষ্ট্যগুলি ভণ্ড মসীহের মতোই ছিলঃ এটি বর্ণনা করা হয় যে, মুহাম্মাদ ইবনে সাইয়্যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন, সে সময় ইবনে সাইয়্যাদ কেবলমাত্র কৈশোরে পৌঁছেছিলেন। মুহাম্মাদ বললেনঃ "তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল?" ইবনে সাইয়্যাদ বললেনঃ "না, কিন্তু আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল?" অতঃপর উমার ইবনে খাত্তাব বললেনঃ "আল্লাহর রাসূল, আমাকে অনুমতি দিন; আমি তাকে হত্যা করি।" অতঃপর মুহাম্মাদ বললেনঃ "তোমার মতে যদি সে সেই ব্যক্তি (দাজ্জাল) হয়, তাহলে তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না এবং যদি সে না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করায় কোনই কল্যাণ নেই।"[২]

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

সাহাবা (সাথী) আবু বকর সিদ্দিক বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ দাজ্জাল সম্পর্কে বলেছেনঃ

"তার পিতার দৈহিক আকৃতি হবে লম্বাটে, হালকা-পাতলা গড়নের এবং তার নাকটা হবে পাখীর ঠোঁটের মত লম্বা। আর তার মা হবে মোটা এবং (তার মায়ের) দুইটি হাত লম্বা থাকবে। তারা উভয়ই ত্রিশ বছর নিঃসন্তান থাকবে। ত্রিশ বছর পর, একচোখ অন্ধ এবং সামান্য উপকার বিশিষ্ট ছেলে জন্মগ্রহণ করবে। তার দুই চোখ ঘুমালেও তার অন্তর ঘুমাবে না।"

- জামি আত-তিরমিজি ---সনদ দূর্বল।

যখন আবু বকর সিদ্দিক এবং যুবাইর ইবনু আওয়াম ইবনে সাইয়্যাদ এর আবাসস্থল পরিদর্শন করেন, তখন তারা তার পিতা-মাতা সম্পর্কে মুহাম্মাদ উল্লেখিত একই রকম বৈশিষ্ট্য পেয়েছেন।[৩]

হানাফি ইসলামি পণ্ডিত ড. ইসরার আহমেদ একটি বর্ণনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে, সাফ ইবনে সাইয়্যাদের পিছন থেকে দেখার জৈবিক ক্ষমতা ছিল। এছাড়াও তিনি আরো উদ্ধৃত করেন যেঃ

"সহীহ মুসলিমের" কিছু বর্ণনাতে আরো জানা যায় যে, সাফ ইবনে সাইয়্যাদের মানুষের মন পড়ার ক্ষমতা ছিল।

পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় দাজ্জাল হওয়া অস্বীকার করা[সম্পাদনা]

পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় ইবনে সাইয়্যাদের অনুতাপ এবং ইসলাম গ্রহণঃ

নাফি বর্ণনা করেন যে, ইবনে উমার ইবনে সাইয়্যাদ (এখন আব্দুল্লাহ ইবনে সাইদ নামে পরিচিত) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তার কিছু বন্ধুকে বললেনঃ আপনি বলেন যে, সে (দাজ্জাল)।" ইবনে সাইয়্যাদ বললঃ "আল্লাহর শপথ, কখনো না।" ইবনে উমার বললঃ তুমি আমাকে সত্য বলছো না; আল্লাহর শপথ! তোমাদের এক লোক তো আমাকে এ মর্মে খবর দিয়েছে যে, সে মৃত্যুবরণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের চাইতে সর্বাধিক বিত্তশালী এবং সন্তান-সন্ততি সম্পন্ন না হবে। আজ তো অনুরূপই হয়েছে বলে সে মন্তব্য করছে।"[৫] আবু সাঈদ আল-খুদরী বর্ণনা করেনঃ ইবনে সাইয়্যাদ বললঃ এমন কতিপয় লোকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটেছে যারা ধারণা করে যে, আমিই দাজ্জাল। মুহাম্মাদ কি বলেননি যে, সে কাফির হবে; অথচ আমি মুসলিম এবং তিনি আরো বলেছেন যে, তার কোনো সন্তান থাকবে না, অথচ আমার সন্তান আছে এবং তিনি আরো বলেছেনঃ নিশ্চয়, আল্লাহ তাকে মক্কায় প্রবেশ থেকে বিরত রাখবেন, অথচ আমি হজ্জ্বের জন্য সেখানে যাচ্ছি।" সে আরো বললঃ "আমি তার (দাজ্জালের) জন্মস্থান, তার বাসস্থান এবং তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানি।" [৬]

অন্তর্ধান[সম্পাদনা]

সাফ ইবনে সাইয়্যাদ সাহাবী দের সাথে ইয়ামামার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। এটি রিদ্দার যুদ্ধের একটি যুদ্ধ ছিল, যা মুহাম্মাদের মৃত্যুর পর স্ব-ঘোষিত নবী মুসায়লামা ইবনে হাবিবের বিরুদ্ধে খলীফা আবু বকর কর্তৃক পরিচালিত হয়েছিল। ইবনে সাইয়্যাদ যুদ্ধের সময় অন্তর্ধারিত হয়েছিলেন[৭] এবং তার সাথীদের কেউ আর কখনো তাকে দেখেনি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সহিহ বুখারী ৬১৭৪, iHadis.com
  2. সহিহ মুসলিম ৭২৩৪, iHadis.com সহিহ মুসলিম ৭২৩৫, iHadis.com সহিহ মুসলিম ৭২৩৬, iHadis.com সহিহ মুসলিম ৭২৪৪, iHadis.com
  3. জামে' আত-তিরমিজি ২২৪৮, iHadis.com আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু সালমান সূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি।
  4. সহিহ মুসলিম ৭২৩৫, iHadis.com
  5. সহিহ মুসলিম ৭২৫০, iHadis.com
  6. সহিহ মুসলিম ৭২৩৮, iHadis.com সহিহ মুসলিম ৭২৩৯, iHadis.com সহিহ মুসলিম ৭২৪০, iHadis.com
  7. সুনানে আবু দাউদ ৪৩৩২, iHadis.com