সাদ ইবনে মুয়াজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সাদ ইবন মুয়াজ(মৃত্যু-৫ম হিজরি) মুহাম্মাদ সাঃ এর একজন অন্যতম সাহাবা ছিলেন। যিনি বদর,উহুদখন্দকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। হিজরতের পূর্বে মদিনাতে তিনি নিজ গোত্র আওসের নেতা ছিলেন। মদিনাবাসীদেরকে ইসলাম শিক্ষা দেয়ার জন্য মুহাম্মাদ (সাঃ) মুসয়াব ইবনে উমাইরকে পাঠালে তাঁর হাতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। মুহাম্মাদ (সাঃ) বনু কুরায়যাকে অবরোধ করলে তারা সাদের সিদ্ধান্ত মানতে মত দেয়। তিনি বনু কুরায়রার যুদ্ধ উপযোগী সকল পুরুষকে হত্যা, তাদের নারীদেরকে দাসী এবং তাদের সম্পদ ও ভূমি মুসলিমদের মাঝে বণ্টনের সিদ্ধান্ত দেন। এ ঘটনার অল্প কিছুদিন পরেই তিনি মারা যান। [১] তিনি বনু কুরাইজা গোত্রের শাস্তির সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন ।[২]

নাম ও বংশ পরিচয়[সম্পাদনা]

সাদ ইবন মুয়াজ এর ডাক নাম ছিলো "আবু আমর","লকব" এবং উপাধি ছিলো "সায়্যিদুল আউস অর্থ আউস গোত্রের নেতা ।[৩] তিনি মদীনার বিখ্যাত আউস গোত্রের আবদুল আশহাল শাখার সন্তান। পিতার নাম মুয়াজ ইবন নুমান, মাতার নাম কাবশা মতান্তরে কুবাইশা বিনতু রাফি। সাদের মা প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবূ সা’ঈদ আল খুদরীর চাচাতো বোন ছিলো । সাদ ইবন মুয়াজের পিতা তাঁদের গোত্রের মধ্যে নেতা পর্যায়ের অবস্থানে ছিলো এবং ইসলাম প্রকাশের পূর্বেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।[৪][৫]

ইসলাম গ্রহণ ও হিজরত[সম্পাদনা]

১ম আকাবার ঘটনার পরেই মুসয়াব ইবন উমাইরের দাওয়াতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন ।[৬][৭][৮][৯][১০] । এবং আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ মতান্তরে সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাসের সাথে ভ্রাতৃ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হয় । (তাবাকা [১১]

যুদ্ধে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

বদরের যুদ্ধ[সম্পাদনা]

বদররের যুদ্ধের পূর্বে হিজরী ২য় সনে রাবীউল আওয়াল মাসে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) কুরাইশ নেতা উমায়্যা ইবন খালাফের নেতৃত্বাধীন ১০০ লোকের একটি কাফিলার সন্ধানে বের হন। ইতিহাসে এটা বাওয়াত অভিযান নামে খ্যাত। একটি বর্ণনা মতে মুহাম্মাদ (সাঃ) স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে সা’দ ইবন মু’য়াজকে মদীনায় রেখে যান।[১২] বদরের যুদ্ধে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন । তিনি কিছু আনসারী সাহাবী সঙ্গে নিয়ে আরীশের দরজা নামক একটি দরজা পাহারার দায়িত্ব পালন করেন । একটি বর্ণনা মতে, এ যুদ্ধে তিনি তাঁর একটি দাসকে সঙ্গে নিয়ে আমর ইবন উবাইদুল্লাহকে হত্যা করেন ।[১৩]

উহুদের যুদ্ধ[সম্পাদনা]

উহুদের যুদ্ধে তিনি মুহাম্মাদ (সা:) এর অবস্থানস্থল পাহারার দায়িত্ব পালন করেন। উহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ১৫ জন ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সাঃ) পাশেই অবস্থান করেছিলেন তাঁদের মধ্যে সাদ ইবন মুয়াজ একজন। এই উহুদে তাঁর ভাই আমর ইবনে মুয়াজ মৃত্যুবরণ করেন।[১৪][১৫]

খন্দকের যুদ্ধ[সম্পাদনা]

খন্দকের যুদ্ধের সময় হিববান ইবন আবদি মান্নাফ তাঁর দিকে লক্ষ্য করে তীরড়ে। কোন বর্ণনায় হিববানের পরিবর্তে আবু উসামা ইবন আসিম অথবা খাফাজা ইবন আসিমের নাম এসেছে। তীরটি তাঁর হাতে লেগে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে।[১৬][১৭]

খন্দক যুদ্ধে কুরাইশরা পরাজয় বরণ করলে মুহাম্মাদ (সাঃ) ইহুদী গোত্র বনু কুরায়জাকে শাস্তি দানের সিদ্ধান্ত নেন । এবং এই শাস্তির রায়ের ব্যপারে ইহুদিদের আবেদনক্রমে মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁদের মিত্র গোত্রের সন্তান সাদ ইবন মুয়াজকে নির্বাচিত করলেন । এই শাস্তির রায় দিতে মুয়াজ উঠে দিলেন,

আমি আমার রায় ঘোষণা করছিঃ তাদের মধ্যে যারা যুদ্ধ করার উপযুক্ত তাদেরকে হত্যা করা, তাদের নারী ও শিশুদেরকে দাস-দাসীকে পরিণত করা এবং তাদের ধন-সম্পদ বন্টন করে দেওয়া হোক।

তার এই রায় শুনে মুহাম্মাদ (সাঃ) সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন ।[১৮][১৯]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

বনু কুরায়জার ব্যাপারে সা’দের রায় বাস্তবায়িত হওয়ার পর অল্প কিছু দিন তিনি জীবিত ছিলেন। খন্দকের ক্ষত হওয়া অংশ থেকে রক্ত পরা বৃদ্ধি পাওয়ার দরুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন । তিনি ৫ম হিজরিতে মৃত্যু বরণ করেন ।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর । তাকে মদীনার বাকী গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়।[২০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দ্রঃ সীরাতু ইবন হিশাম - (২/২৫২) 
  2. সীরাতু ইবন হিশাম - (২/২৩৯) 
  3. তাবাকাত - (৩/৪২০) 
  4. উসুদুল গাবা - (২/২৯৬) 
  5. তাহজীবুত তাহজীর - (৩/৪৮১ 
  6. দ্রঃ তাবাকাত - (৩/৪২০, ৪২১) 
  7. সীরাতু ইবন হিশাম - (১/৪৩৫, ৪৩৭, ৪৭৯) 
  8. আল-বিদায়া - (৩/১৫২) 
  9. উসুদুল গাবা - (৩/২৯৬) 
  10. হায়াতুস সাহাবা - (১/১৮৭-১৯০) 
  11. ৩/৪২১ - ( সীরাতু ইবন) 
  12. আনসাবূল আশরাফ - (১/২৮৭) 
  13. আনসাবুল আশরাফ - (১/২৯৭, ৪৭৯) 
  14. তাবাকাত - ( ২/৩০) 
  15. (আনসাবুল আশরাফ- ১/৩১৮, ৩২৯) 
  16. দ্রঃ সীরাতু ইবন হিশামঃ (২/২২৬-২২৮) 
  17. (উসুদুল গাবা- ২/২৯৬) 
  18. উসুদুল গাবা - (২/২৯৭) 
  19. আল-ইসাবা - (২/৩৮) 
  20. আল-আ’লাম - (৩/১৩৯)