সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
তুলা চাষের জমিতে আইপিএম ফাঁদ

আইপিএম বা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বলতে পরিবেশকে দুষণমুক্ত রেখে প্রয়োজনে এক বা একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ বালাইকে অর্থনৈতিক ক্ষতি সীমার নিচে রাখাকে বুঝায়, যাতে করে পরিবেশ দূষিত না হয়।[১] উপকারী পোকামাকড় সংরক্ষণ, বালাই সহনশীল জাত ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহার এবং সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বালাই নাশকের সময়োচিত ও যুক্তি সঙ্গত ব্যবহারকে নিশ্চিত করে।[২]

উপকারিতা[সম্পাদনা]

  • আই পি এম গ্রহণের ফলে উপকারী পোকা মাকড়, মাছ, ব্যাঙ, পশু, পাখিগুই সাপ প্রভৃতি সংরক্ষণ করা যায়।
  • ‌‌ক্ষতিকারক কীটনাশকের যুক্তি সঙ্গত ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, যথেচ্ছ ব্যবহার না হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমে।
  • বালাইনাশকের পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোধ করা সম্ভব হয়। এতে করে বালাইনাশকজনিত দুর্ঘটনা সহজেই এড়ানো যায়।
  • ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় বালাইনাশক সহনশীলতা অর্জন করার সুযোগ পায় না।
  • বালাই- এর পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা কম।
  • সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং দুষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

উপাদান সমূহ[সম্পাদনা]

আইপিএম এর পাঁচটি উপাদান।[৩]

উপকারী পোকামাকড় ও প্রাণী সংরক্ষণ[সম্পাদনা]

  1. জৈবিক দমনে ব্যাঙ, চিল, পেঁচা, গুইসাপ, মাকড়সা, লেডী বার্ড বিটল, ক্যারাবিড বিটল, বোলতা, মিরিড বাগ, ওয়াটার বাগ, ড্যামসেল ফড়িং প্রভৃতি উপকারী পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাণী ক্ষতিকারক পোকা দমনে যথেষ্ট সাহায্য করে।
  2. উপকারী পোকামাকড়ের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য :
  • ধান ক্ষেতের আইলে শিম ও শসা জাতীয় ফসল আবাদ করা।
  • জমিতে পরিমিত পরিমাণ পানি রাখা।
  • ফসল কাটার অন্তত: ৪/৫ ঘণ্টা পর জমিতে লাঙল দেওয়া।
  • ফসল কাটার পর আইলে কিছু খরকুটা বিছিয়ে দেওয়া।
  • জমিতে বাঁশের বুষ্টার স্থাপনের মাধ্যমে বোলতা প্রতিপালন করা।
  • বালাইনাশকের এলোপাতাড়ি ব্যবহার পরিহার করা।

বালাই সহনশীল জাতের চাষাবাদ[সম্পাদনা]

ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ অনেকাংশে রোধ করতে পারে। যেমন-

  • বি আর ২৬: সাদা-পিঠ গাছ ফড়িং ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধশীল এবং পাতাপোড়া রোগ, বাদামি গাছ ফড়িং সবুজ পাতা ফড়িং আক্রমণে মধ্যম প্রতিরোধশীল।
  • বাদামী গাছ ফড়িং ও সবুজ পাত ফড়িং আক্রমণে মধ্যম প্রতিরোধশীল ।
  • ব্রি ধান ২৭: সাদা পিঠ গাছ ফড়িং এর আক্রমণে প্রতিরোধশীল।
  • টুংরো, ব্লাস্ট, পাতাপোড়া রোগ এবং বাদামি গাছ ফড়িং ও পামরী পোকার আক্রমণে মধ্যম প্রতিরোধশীল।
  • ব্রি ধান ৩১: বাদামি গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণে প্রতিরোধশীল এবং পাতা পোড়া ও টুংরো রোগে মধ্যম প্রতিরোধশীল ।
  • ব্রি ধান ৩৫: বাদামি গাছ ফড়িং প্রতিরোধশীল এবং টুংরো রোগ মধ্যম প্রতিরোধশীল ।

আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির ব্যবহার[সম্পাদনা]

সুস্থ বীজ, সঠিক দূরত্বে রোপন, সবল চারা, সুষম সার, আগাছা মুক্ত জমি, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা, সারিতে রোপণ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণে অধিক ফলন পাওয়া যায়।

যান্ত্রিক দমন পদ্ধতি[সম্পাদনা]

  • হাত জালের সাহায্যে পোকা ধরে মারা।
  • আলোর ফাঁদে পোকা ধরা।
  • আক্রান্ত পাতার আগা কেটে দেওয়া।
  • পাখি বসার জন্য ডাল পুঁতা।
  • হাত দিয়ে পোকার ডিম সংগ্রহ করে ধংশ করা।
  • এসব পদ্ধতি ব্যবহারে বালাইকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

রাসায়নিক দমন ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

  • নিয়মিতভাবে অপকারী ও উপকারী পোকামাকড়ের উপস্থিতি জরিপ করা।
  • সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে কেবল আক্রান্ত জমিতে সঠিক বালাইনাশক, সঠিক সময়, সঠিক মাত্রায় ও সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা।

প্রথম ৪টি উপাদানের সাহায্যে ও যদি ক্ষতিকারক পোকা- মাকড় ও রোগের আক্রমণ দমিয়ে রাখা সম্ভব না হয়, কেবল তখনই সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বালাইনাশক ব্যবহার করা র্অথাৎ পোকার সংখ্যা অর্থনৈতিক দ্বারপ্রান্তে (ইটিএল) পৌঁছে গেলে তখনই বালাইনাশক সঠিকভাবে ব্যবহার করা দরকার।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

References[সম্পাদনা]

  1. "AGP - Integrated Pest Management"। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০১২ 
  2. Charles Perrings; Mark Herbert Williamson; Silvana Dalmazzone (১ জানুয়ারি ২০০০)। The Economics of Biological Invasions। Edward Elgar Publishing। আইএসবিএন 978-1-84064-378-7 
  3. "Integrated Pest Management (IMP) Principles"। United States Environmental Protection Agency। ২০১২।