শ্রীলঙ্কা মিলিটারি একাডেমি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শ্রীলঙ্কা মিলিটারি একাডেমি
শ্রীলঙ্কা মিলিটারি একাডেমির চিহ্ন.png
শ্রীলঙ্কা মিলিটারি একাডেমির চিহ্ন
সক্রিয়ফেব্রুয়ারি ৬, ১৯৫০; ১৯৯২ সালের ২০ আগস্ট থেকে মূল একাডেমী
দেশ শ্রীলঙ্কা
শাখা শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী
ধরনসামরিক প্রশিক্ষণ
ভূমিকাসামরিক অফিসার প্রশিক্ষণ
গ্যারিসন/সদরদপ্তরদিয়াতালাওয়া
নীতিবাক্যনেতৃত্ব পরিবেশন
বার্ষিকী২০ আগস্ট
কমান্ডার
বর্তমান
কমান্ডার
একজন কর্নেল বা ব্রিগেডিয়ার

শ্রীলঙ্কা মিলিটারি একাডেমি হচ্ছে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেটি শ্রীলঙ্কার মধ্য পার্বত্য অঞ্চলের শহর দিয়াতালাওয়ায় অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কার ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পরের বছর শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী গঠিত হলে এই দিওয়াতালাওয়া অঞ্চলে আর্মি রিক্রুট ট্রেনিং ডেপোট তৈরি করা হয়, ১৯৫০-এর দশকে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল এন্তন মুত্তুকুমারু এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আর্মি ট্রেনিং সেন্টার নামে নামকরণ করেন, মূলত এখানে সৈনিক এবং অফিসার সবারই প্রশিক্ষণ হত। ১৯৬০-এর দশকে এটার নাম মিলিটারি একাডেমী করা হবে বলে চিন্তা হয় এবং সত্তরের দশকে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সেপালা আত্তিগাল্লে এটিকে একটি একাডেমী পর্যায়ে রূপান্তর করে দেন, এবং তখন থেকে সৈনিকদের প্রশিক্ষণ আলাদা আলাদা রেজিমেন্ট কেন্দ্রে হওয়া শুরু হয়ে যায় (গঠিত হয়ে যাচ্ছিলো সৈন্যদের জন্য আলাদা রেজিমেন্টাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র)। তবে এই সামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমীতে রূপান্তরিত হয় ১৯৯২ সালে।

১৯৫০ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারী এই একাডেমীর প্রতিষ্ঠা দিবস ধরা হয় কারণ তখন এখানে সাধারণ সৈন্যদের মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ (রিক্রুট প্রশিক্ষণ) হতো এবং এটি তখন ছিলো শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর একমাত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র; কর্মকর্তাদের মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা খুবই দূর্বল ছিলো বিধায় ক্যাডেটদেরকে ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্ট সেনা একাডেমী বা পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে পাঠানো হতো, অধিকাংশ ক্যাডেটই বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীতে যোগদান করতো, তবে ১৯৯০-এর দশক থেকে ক্যাডেটদের বিদেশে যাওয়ার আর প্রয়োজন পড়েনি। একাডেমীটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২০ আগস্টও ধরা হয় কারণ ১৯৯২ সালের ২০ আগস্ট এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক বিদ্যায়তনে পরিণত হয়ে গিয়েছিলো।

প্রশিক্ষণ[সম্পাদনা]

সেনা ক্যাডেটদের মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ দুই বছর মেয়াদী হয়ে থাকে, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছয় মাস বা এক বছর বা দেড় বছরেও ক্যাডেটদেরকে কমিশন দেওয়া হয় - এটা মূলত নির্ভর করে সেনাবাহিনীর শাখার উপর যেমনঃ পদাতিক, সাঁজোয়া এবং গোলন্দাজ রেজিমেন্টের জন্য কর্মকর্তা ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ দুই বছরের নিচে হয়না, আবার ইঞ্জিনিয়ার্স, ইএমই, শিক্ষা কোর, সার্ভিস কোর, অর্ডন্যান্স কোর, সিগন্যালস কোর - এইগুলো ছয় মাস থেকে দেড় বছরের প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে কিংবা এগুলোও দুই বছরের প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে যদি সেনা ক্যাডেট আগে থেকেই স্নাতক উত্তীর্ণ হয়ে না আসে, আর দ্বাদশ শ্রেণী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য সব শাখাতেই কমিশনপ্রাপ্তির সুযোগ থাকে যেটা স্নাতক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের থাকেনা; পদাতিক, গোলন্দাজ এবং সাঁজোয়া শাখায় নারীদের এবং স্নাতক উত্তীর্ণ পুরুষদের ভর্তি করা হয়না। প্রতি ব্যাচে সাধারণত ২৫০ বা ৩০০ জনের মতো ক্যাডেট কমিশনপ্রাপ্ত হয় যাদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই পুরুষ থাকে।[১] তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২৫০-এর বা ৩০০-এর বেশি বা কম ক্যাডেটও থাকতে পারে এবং সব ব্যাচে নারীদেরকে নেওয়া হয়না।[২][৩][৪] সব ক্যাডেটদেরকে লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন দেওয়া হয়, ২য় লেফটেন্যান্ট পদবীটি এখন আর ব্যবহৃত হয়না তবে স্নাতক উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ক্যাপ্টেন বা মেজর হিসেবে কমিশন পেতে পারেন যেমনঃ ইঞ্জিনিয়ার্স বা ইএমই শাখায় এমনটাই করা হয়; অপরদিকে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী চিকিৎসা শাখার ক্যাডেটরা ৪ মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ক্যাপ্টেন হিসেবে কমিশন লাভ করেন।

যুদ্ধের কলা-কৌশল, সৈন্যদের নেতৃত্ব প্রদান সহ একজন সামরিক কর্মকর্তার যেসব গুণাবলি থাকা প্রয়োজন সব কিছুই প্রত্যেকটা ক্যাডেটকে শেখানো হয় এই প্রতিষ্ঠানে; তাছাড়া ক্যাডেটদেরকে সাধারণ সৈন্যদের মতোই যুদ্ধ করাটা শেখানো হয়।

একাডেমীর অধিনায়কদের তালিকা[সম্পাদনা]

  • কর্নেল এস এম অশোক জয়বর্ধণ; ১৫ জানুয়ারী ১৯৮১ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ১৯৮১
  • ব্রিগেডিয়ার জগৎ জয়সূর্য; ২০০২ - ২০০৪
  • ব্রিগেডিয়ার পার্সি ফার্নান্দো; ১৯৯৮-২০০০
  • কর্নেল মন্দক সমরসিংহ; ২০০৪-২০০৬
  • কর্নেল জনক ওয়ালগামা; ২০০৬-২০০৮
  • কর্নেল কুমুদু পেরেরা; ২০০৮-২০০৯
  • কর্নেল রুয়ান কুলাতুঙ্গা; ২০০৯-২০১২
  • ব্রিগেডিয়ার ইন্দুনীল রণসিংহ; ২০১২-২০১৪
  • ব্রিগেডিয়ার দুশবন্ত রাজগুরু; ২০১৪-২০১৬
  • কর্নেল এইচ এইচ সেনারত্ন; ২০১৬-২০১৭

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. 131 Newly Commissioned Officers Join the Army, Ministry of Defence ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৭-১২-২৫ তারিখে
  2. "177 More Cadet Officers at SLMA Pass Out to Serve Motherland"army.lk 
  3. "PM at passing out parade of 321 Cadet Officers"dailymirror.lk। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯। 
  4. "PASSING OUT PARADE 2019"army.lk। ২১ ডিসেম্বর ২০১৯। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]