রাধামোহন ভট্টাচার্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

রাধামোহন ভট্টাচার্য (ইংরেজি: Radhamohan Bhattacharya) (সেপ্টেম্বর,  ১৯০৮ - ১৩ জানুয়ারি, ১৯৮৩)  ছিলেন ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র ও মঞ্চ অভিনেতা ও সিনেমা সমালোচক, বহু ভাষাবিদ। ধ্রুপদী সংগীতে ব্যুৎপত্তি সহ সেতার, এস্রাজ বাজাতে পারদর্শী ছিলেন। আবৃত্তিকার হিসাবে তার যথেষ্ট খ্যাতি ছিল। [১]

সংক্ষিপ্ত জীবনী[সম্পাদনা]

রাধামোহনের জন্ম বৃটিশ ভারতের অধুনা পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে। তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থশাস্ত্রের কৃতি ছাত্র ছিলেন।  ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে জ্যোতির্ময় রায়ের উদয়ের পথে ছায়াছবিতে আদর্শবাদী নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে রাতারাতি জনপ্রিয় হন। এর আগে অবশ্য ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে 'অপরাধ' ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় এবং হিন্দি ছবি 'তমন্না' য় অভিনয় করেছেন। ছবিতে যেকোনো চরিত্রে তিনি ছিলেন সাবলীল। অসম্ভব প্রতিভাবান  অভিনেতা ছিলেন তিনি। 'উদয়ের পথে' ছবির পরিচালক রাধামোহন সম্পর্কে  এক পত্রে তাঁকে লিখেছিলেন -

আপনি আমার পরিকল্পিত চরিত্রে প্রাণ সঞ্চার করেছেন, আপনার অভিনয় শুধু নৈপুণ্যে উজ্জ্বল নয়, প্রতিভার স্পর্শে গভীর।

[২]

ছবিতে অভিনেতা হিসাবে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে "গিরিশ থিয়েটারে" 'ডাউন ট্রেন' নাটকে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ মঞ্চাভিনেতার পুরস্কার পান। ইংরাজী দৈনিক "স্টেটসম্যান" পত্রিকায় সংগীত-সিনেমা সমালোচক হিসাবে কাজ করেছেন। ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের উপর তার লেখাও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হত। রাধামোহন রুশ, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিখেছিলেন। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি মস্কো যান ইংরাজী থেকে রুশ সাহিত্য বাংলায় অনুবাদ করার জন্য। রুশ গ্রন্থ 'খোঁড়া রাজকুমার' ও 'মুমু' বাংলায় অনুবাদ করেন।রাধামোহন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতির সদস্য ও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষণাপত্রের পরীক্ষক ছিলেন। এছাড়া তিনি শিল্পী সংসদের পৃষ্ঠপোষক এবং কিছুকাল অভিনেতৃসংঘের সভাপতি ছিলেন।

অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

  • 'অপরাধ' (১৯৪২)
  • 'উদয়ের পথে'(১৯৪৪)
  • 'হামরাহী' (১৯৪৫) উদয়ের পথে ছবির হিন্দি ভার্সান
  • 'অভিযাত্রী' (১৯৪৭)
  • 'স্বর্ণসীতা' (১৯৪৮)
  • 'মানদণ্ড' (১৯৫০)
  • 'জীবনসৈকত' (১৯৫০)
  • 'শঙ্খবাণী' (১৯৫১)
  • 'আঁধি' (১৯৫২)
  • 'জালিয়াত' (১৯৫৩)
  • 'কাবুলিওয়ালা' (১৯৫৭)
  • 'ক্ষণিকের অতিথি' (১৯৫৯)
  • 'ক্ষুধিত পাষাণ' (১৯৬০)
  • 'ঝিন্দের বন্দী' (১৯৬১)
  • 'কান্না' (১৯৬২)
  • 'ন্যায়দণ্ড' (১৯৬৩)
  • 'নিশিথে'( ১৯৬৩)
  • 'দোলনা' (১৯৬৫)
  • 'সুদূর নীহারিকা' (১৯৭৫)
  • 'আকালের সন্ধানে' (১৯৮০) [৩]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

অকৃতদার প্রতিভাবান অভিনেতা রাধামোহন ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৩ ই জানুয়ারি কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট  ২০১৬, পৃষ্ঠা ৬৫২, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. "নায়ক থেকে পার্শ্বচরিত্রে উজ্জ্বল রাধামোহন ভট্টাচার্য"। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-১২ 
  3. "Radhamohan Bhattacharya Filmography"। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-১২