বিষয়বস্তুতে চলুন

রাজসাক্ষী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

রাজসাক্ষী হচ্ছে যে অপরাধী প্ররোচক বা জড়িত হিসেবে অপরাধের বিষয়ে বা প্রত্যেক সহ অপরাধীর (Accomplice) বিষয়ে তার জ্ঞানের মধ্যে থাকা সমগ্র ঘটনা, মূল অপরাধী ও সহায়তাকারী হিসেবে জড়িত সব অপরাধীর সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও সত্য ঘটনার বিবরন প্রকাশ করে আদালতে সাক্ষ্য দেন এবং এই শর্তে তাকে বিচারক ক্ষমা করার কিংবা স্বল্প সাজার প্রস্তাব দিতে পারেন।[][] ফৌজদারী মামলাতে এই সুযোগপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাজসাক্ষী (Approver) বলা হয়।[] ভারতীয় সাক্ষ্য আইনে যদিও রাজসাক্ষী কথাটি সংজ্ঞায়িত করা নেই।[]

অপরাধের সহযোগী

[সম্পাদনা]

ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের (The Indian Evidence Act-1872) ১৩৩ নং ধারায় সহ অপরাধী, অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণের বিরুদ্ধে সাক্ষী হতে পারে এবং তার দেওয়া সাক্ষ্যে দোষী সাব্যাস্তকরণ কেবলমাত্র এই কারণে বে-আইনি হবেনা, যে তা অসমর্থিত সাক্ষ্যের (Uncorroborated Testimony) ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।[] সরকার পক্ষের এই সাক্ষ্যদানকারী সহ অপরাধীকেই প্রচলিত আদালত পরিভাষায় রাজসাক্ষী নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৭, ৩৩৮ ও ৩৩৯ ধারায় রাজসাক্ষী কে হবেন, রাজসাক্ষীকে ক্ষমা করা ও বিচারপদ্ধতির বিষয় বর্ণনা করা আছে। অন্যদিকে ‘অ্যাপ্রুভার’–এর ক্ষমাসংক্রান্ত বিধান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১৫ ধারায় আছে।[]

রাজসাক্ষীর গুরুত্ব

[সম্পাদনা]

ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের ১১৪ নং ধারা অনুসারে সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে যে রাজসাক্ষীর বয়ান যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য নয় যদিনা তা বিশিষ্টতায় পরিপূর্ণ বা সমর্থিত (Corroborated) হয়। সহ অপরাধী বা রাজসাক্ষীর বক্তব্যে নির্ভর করে সাজা দান করার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও আদালতের বিচক্ষণতা কাম্য।[][]

ঐতিহাসিক রাজসাক্ষী

[সম্পাদনা]

ভারতীয় উপমহাদেশে নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার সংখ্যা হাতে গোনা বলে যানা যায়।[]

১৯০৮ সালে আলিপুর বোমা মামলায় নরেন গোঁসাই সরকার পক্ষের রাজসাক্ষী হয়েছিল। যাকে এই অপরাধে হত্যা করেন বিপ্লবী কানাইলাল দত্তসত্যেন্দ্রনাথ বসু[] মহাত্মা গান্ধীর হত্যা মামলায় হিন্দু মহাসভা কর্মী দিগম্বর বাগদে রাজসাক্ষী হয়।

২০০৪ সালে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ সিকদারের দেহরক্ষী নূরে আলম রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। এরশাদ সিকদারের সব কুকর্ম আদালতে প্রকাশ করেছিলেন নূরে আলম। তিনি ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ হত্যা মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় মামলা থেকে খালাস পান।[]

২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই গণহত‍্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশটির সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গণহত‍্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন এবং স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাজসাক্ষী হওয়ার সম্মতি দেন।[][][][১০]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "আসামি থেকে রাজসাক্ষী: সুবিধা-অসুবিধা"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২৫
  2. 1 2 3 4 আসাদুজ্জামান (১১ জুলাই ২০২৫)। "রাজসাক্ষী কে, আসামি কীভাবে রাজসাক্ষী হন, শর্ত কী"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২৫
  3. 1 2 3 Batuk Lal (২০০৪)। Law of Evidence। Allahabad: Central Law Agency। পৃ. ৪২৭।
  4. Justice V. Ramkumar (৭ জুন ২০১৬)। "Tendering perdon to an accomplice"। Live Law। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১৭
  5. Ayus Yadav (২১ নভেম্বর ২০১১)। "Accomplice Witness and it's Admissibility"। Legal India। ১৫ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  6. Article in the 'Bangalee' 19th september, 1908। "Documents in the life of Sri Arabinda"। ৮ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১৭{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  7. প্রতিবেদক, জ্যেষ্ঠ (১০ জুলাই ২০২৫)। "জুলাই গণহত্যার দায় স্বীকার, রাজসাক্ষী হলেন চৌধুরী মামুন"dhakapost.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২৫
  8. "দোষ স্বীকার করে ট্রাইব‍্যুনালে যা বললেন 'রাজসাক্ষী' সাবেক আইজিপি মামুন"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২৫
  9. "আমি জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত: সাবেক আইজিপি মামুন"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২৫
  10. "রাজসাক্ষী হচ্ছেন সাবেক আইজিপি মামুন, নিরাপত্তার আবেদন আইনজীবীর"www.ajkerpatrika.com। ৯ জুলাই ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২৫