রবার্ট দ্য ডল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রবার্ট দ্য ডল

রবার্ট, এছাড়া রবার্ট দ্য ডল বা ভূতুড়ে পুতুল নামেও পরিচিত; হলো একটি পুতুল যার মালিক ছিলেন কি ওয়েস্ট দ্বীপের চিত্রশিল্পী এবং লেখক রবার্ট ইউজিন অটো।[১] পুতুলটি প্রেতাত্মা দ্বারা আবিষ্ট হওয়ার অভিযোগ রয়েছে ও এটির একধরনের ভয়াল খ্যাতি রয়েছে। বর্তমানে পুতুলটি কি ওয়েস্ট ফ্লোরিডা মার্টেল্লো যাদুঘরে রয়েছে।

কিংবদন্তী[সম্পাদনা]

১৯০৬ সালে বাহামার একজন চাকর ইউজিনকে পুতুলটি উপহার হিসেবে দিয়েছিল। কথিত রয়েছে বাহামার ঔ চাকরটি কালো জাদু ও ডাকিনীবিদ্যায় পরদর্শী ছিল এবং তার পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক খুব ভালো ছিলো না। পরবর্তীতে ইউজিন পরিবার পুতুলটি বাড়িতে নিয়ে আসে এবং তারা অভিযোগ করেছিল পুতুলটির মাঝে ভৌতিক কোন ব্যাপার রয়েছে। ইউজিনের পিতা মাতা বলেছিলেন, তারা প্রায়ই ছোট ইউজিনকে পুতুলটির সাথে কথা বলতে শুনত এবং পুতুলটিও কথার উত্তর দিত। যদিও তারা প্রথমে মনে করত যে ইউজিন পুতুলের হয়ে কণ্ঠ পরিবর্তন করে উত্তর দিয়ে দিত কিন্তু পরবর্তীতে তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে পুতুলটিও কথা বলতে পারে।

প্রতিবেশীরা অভিযোগ করতেন ইউজিনের পরিবার যখন বাইরে থাকতো তখন তারা পুতুলটিকে ঘরের এক জানালা থেকে আরেক জানালায় স্থান পরিবর্তন করতে দেখতো। অটো পরিবার শপথ করে বলতেন তারা পুতুলটিকে মাঝে মাঝে ভৌতিক হাসি দিতে শুনত এবং এক ঘর থেকে অপর ঘরে আবছা আলো ছায়া দেখতে পেত। মাঝে মাঝে রাতে ইউজিনের ঘর থেকে চিৎকার শুনত এবং ঘরে প্রবেশ করে দেখত সকল আসবাবপত্র এলোমেলো এবং ইউজিন এক কোণায় বসে আছে এবং বলছে, “রবার্ট এমনটি করেছে”।

১৯৭৪ সালে ইউজিন মারা যাওয়ার পর বাড়িটি বিক্রি হয়ে যায় এবং নতুন একটি পরিবার বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। নতুন পরিবারে একটি ১০ বছরের মেয়ে ছিল। কিংবদন্তী অনুসারে, কিছু দিনের মধ্যেই মেয়েটিও চিৎকার করতে শুরু করে এবং অভিযোগ করে রবার্ট সাড়া ঘরে ঘুরে বেড়ায়। প্রায় ত্রিশ বছর পর মেয়েটি এক সাক্ষাতকারে দাবি করে পুতুলটি জীবীত এবং তাকে হত্যা করতে চায়।[২]

পুতুলটিকে যাদুঘরে রাখার পর যাদুঘরের কর্মীরা দাবি করেন, পুতুলটি স্থান পাওয়ার পর থেকে যাদুঘরে অনেক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। ২০০৮ সালের মে মাসে ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটারে অনুষ্ঠিত এক প্যারানরমাল কনভেনসনে পুতুলটিকে হাজির করা হয়েছিল। এটিই পুতুলটির জন্য এর আবির্ভারে সময় থেকে এখন পর্যন্ত (২০০৮ সালের হিসাবমতে ১০৪ বছর) কি ওয়েস্টের বাইরে আসা।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. David L. Sloan, Ghost of Key West, Phantom Press, 2003
  2. Moran, M, Austin, J, & Sceurman, M. (2006). Weird hauntings: true tales of ghostly places. New York City, NY: Sterling Publishing Company. p. 212.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]