রঙ তত্ত্ব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

দৃশ্য শিপ্ল অনুযায়ী, বিভিন্ন রং-কে মিশ্রনের মাধ্যমে এক বা একাধিক নির্দিষ্ট রঙ তৈরি করার পদ্ধতিই হল রঙ তত্ত্ব। রংগুলোকে তাদের ধরন ও উথস অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়, যেমনঃ প্রাইমারি বা প্রাথমিক বা মৌলিক রঙ, সেকেন্ডারি বা যৌগিক রঙ[১] এবং টারশিয়ারি বা মিশ্র রঙ[২]। যদিও রঙ তত্ত্বের কথা সর্বপ্রথম লিপিবদ্ধ হয় ১৫ শতকে লিয়োন বাতিস্তা আল্বারতি [৩] ও লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি-র[৪] লেখনিতে, এর প্রকৃত ব্যবহার শুরু হয় ১৮ শতকে স্যার আইজ্যাক নিওটন এর রঙ তত্ত্ব ও মৌলিক রঙ[৫] এর ধর্ম নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে। এর পর থেকে এটি স্বতন্ত্র ঐতিহ্যের সাথে বিকাশ লাভ করে এবং দৃষ্টিবিজ্ঞানের[৬] অংশ হিসেবে গণ্য হতে থাকে।

ঐতিহাসিক পটভূমি[সম্পাদনা]

রঙ তত্বটি মূলত গড়ে উঠেছিল লাল, নিল, হলুদ; এই তিনটি রঙ এর উপর নির্ভর করে। ধারণা করা হত যে, এই তিনটি হল মৌলিক রঙ এবং এদের সুষম মিশ্রনের ফলে অন্য সকল রঙের উথপত্তি ঘটে।

লাল, নীল, হলুদ; এই তিনটি মৌলিক রঙের উপর ভিত্তি করে ১৮ শতকের রঙ তত্ব গড়ে উঠেছিল। এই তত্বটি পরবর্তীতে আরো সমর্থন পায় সমসাময়িক বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের পরিক্ষা নীরিক্ষা থেকে। বিজ্ঞানিদের এসকল পরিক্ষা-নীরিক্ষা সর্বপ্রথম লিপিবদ্ব হয় জার্মান কবি জোহান ওল্ফগ্যাং ফন গয়েথ এর 'থিওরি অফ কালারস' টেমপ্লেট:থিওরি অফ কালারস এবং ফরাসী শিল্প রসায়নবিদ মিশেল ইউগেনে শেভ্রিউল এর 'দ্য ল অফ সিমুলটেইনিয়াস কালার কনট্রাস্ট (1839)' -এ। চার্লস হাইটার ১৮২৬ সালে তার লেখা "A New Practical Treatise on the Three Primitive Colors Assumed as a Perfect System of Rudimentary Information (London 1826)" গ্রন্থে বর্ণনা করেছিলেন কীভাবে সমস্ত রঙগুলি কেবল তিনটি রঙ থেকে পাওয়া যায়।

১৮ শতকের শেষ দিকে শিল্প বিপ্লব ঘটলে, জটিল রঙ তৈরির জন্য এই তিনটি রঙের ব্যবহার অপ্রতুল হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে জটিল রঙ তৈরির জন্য 'সায়ান, ম্যাজেন্টা এবং হলুদ (সিএমওয়াই)' সিস্টেম ব্যবহৃত হতে থাকে। সিএময়াই ও আরজিবি সিস্টেমে মিল থাকায় এটি সম্ভব হয়েছিল এবং শিল্পক্ষেত্রে এর সুবিধার জন্য ব্যপক সমাদৃত হয়েছিল।

১৯ শতকের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শৈল্পিক রঙের তত্ত্বটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক পিছিয়ে ছিল। পরবর্তীতে ২০ শতকে বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের দ্বারা "রঙ তত্ব" এর প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয় এবং তা আজকের অবস্থানে পৌছায়।

উষ্ণ বনাম শীতল রঙ[সম্পাদনা]

"উষ্ণ" এবং "শীতল" রঙগুলির মধ্যে পার্থক্য 18 শতকের শেষের দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছিল। দিবালোক বা সূর্যাস্তের সাথে "উষ্ণ" রংগুলি যুক্ত এবং ধূসর বা মেঘলা দিনের সাথে "শীতল" বর্ণগুলি সম্পর্কিত বলে মনে করা হত। উষ্ণ বর্ণগুলি প্রায়শই হলুদ, বাদামি এবং লাল থেকে লালচে বর্ণ বলে; শীতল রঙগুলি প্রায়শই নীল থেকে নীলাভ বেগুনি এবং নীলাভ সবুজ বর্ণ বলে সংজ্ঞায়িত ছিল।

ঐ সময় বিভিন্ন চিত্রকর্মে উষ্ণ রঙের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শীতল রঙের ব্যবহারের হ্রাস পেতে থাকে এবং অন্যদিকে ঘরোয়া সাজসজ্জায় উষ্ণ রঙের ব্যবহার কমতে থাকে এবং শীতল রঙের ব্যবহার বাড়তে থাকে। বিশ্বাস করা হত যে উষ্ণ রং দর্শকদের জাগ্রত করতে বা উদ্দীপিত করে, যখন শীতল রঙগুলি দর্শককে প্রশান্তি এবং আরামদায়ক অনুভুতি দেয়।

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

কালার থিওরি বা রঙ তত্ব এখনো সম্পূর্ণভাবে সকল বৈজ্ঞানিক ঘটনা করতে পারে নি। যার ফলে এটি এখনও অসম্পূর্ণ তত্ব হিসেবে রয়ে গেছে এবং বিজ্ঞানীরা এখনও এর উপর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যান্য তথ্য[সম্পাদনা]

রেফারেন্স[সম্পাদনা]

  1. "Secondary color"Wikipedia (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৩-০৫। 
  2. "Tertiary color"Wikipedia (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৭-০৩। 
  3. "Leon Battista Alberti"Wikipedia (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৮-০৬। 
  4. "Leonardo da Vinci"Wikipedia (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৮-০৭। 
  5. "Primary color"Wikipedia (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৭-০৯। 
  6. "Vision science"Wikipedia (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৬-২০।