ম্যাগলেভ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
একটি সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগলেভ ট্রেন। ছবিটি ২০০৫ সালের নভেম্বরে জাপানের ইয়ামানাশি জেলা থেকে তোলা।
জার্মানির রেলওয়ে পরীক্ষাগারে একটি ম্যাগলেভ ট্রেন।

ম্যাগলেভ (ইংরেজি শব্দ ম্যাগনেটিক লেভিটেশন থেকে উৎপন্য) হল চৌম্বকীয় শক্তির মাধ্যমে শূন্যে উত্তোলন করে কোন বস্তুকে চাকা, এক্সেল কিংবা বিয়ারিং ছাড়াই সামনের দিকে চালনা করার একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে যানবাহনকে ভূমি থেকে সামান্য ওপরে উঠিয়ে চৌম্বক শক্তির মাধ্যমেই সামনের দিকে ধাক্কা প্রদান করা হয়। সর্বব্যাপি ব্যবহার করা গেলে ম্যাগলেভচালিত রেল গাড়ি মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।[১]

ঘর্ষন জনিত সমস্যা না থাকায় সাধারণত ম্যাগলেভ ট্রেনগুলো অন্যান্য চাকাযুক্ত গতানুগতিক ট্রেনের চেয়ে অনেক মসৃণ ও শব্দহীনভাবে চলতে পারে। এছাড়া চৌম্বক শক্তির মাধ্যমে এর ভর পরিবর্তিত করার ফলে যেকোন আবহাওয়াতেই এই ট্রেন সর্বোচ্চ গতিবেগে চলতে পারে। যদিও ম্যাগনেটিক লেভিটেশনে চৌম্বক শক্তির মাধ্যমে বস্তুকে উত্তোলিত করা হয়, তথাপি কোন কোন ক্ষেত্রে বস্তুকে সামান্য পরিমাণে অবলম্বন প্রদানের উদ্দেশ্যে যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। ম্যাগলেভকে শূন্যে ভাসিয়ে রাখতে খুব একটা বেশি শক্তির প্রয়োজন না হলেও বাতাসের ঘর্ষন ভেদ করে সামনের দিকে ধাবিত হতেই শিংহভাগ শক্তি ব্যয় হয়।[২] বর্তমানে আধুনিক ইলেক্টিক টেনগুলো যথেষ্ট গতিতে চলাচল করলেও ম্যাগলেভ ট্রেন আজ পর্যন্ত গতির সমস্ত রেকর্ড ধরে রেখেছে।

প্রচলিত চাকাযুক্ত উচ্চগতি সম্পন্ন ট্রেনের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে ম্যাগলেভের জন্য রেললাইন বানাতে প্রচুর পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। চাকাযুক্ত রেলগাড়ি রেললাইনে চলার সময় প্রচুর ঘর্ষন এবং কম্পনের ফলে এর যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা খুব তাড়াতাড়ি ক্ষয়প্রাপ্ত ও নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য গতানুগতিক ট্রেনগুলোর উচ্চগতি ধরে রাখতে লাইন এবং ট্রেন উভয়ের প্রচুর পরিমাণে নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষনের প্রয়োজন হয় যা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ ব্যপার।[৩] তবে ম্যাগলেভের জন্য লাইন নির্মাণ ব্যয়সাপেক্ষ হলেও গতানুগতিক ট্রেনের তুলনায় এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Magnetbahnforum | Barriers and Paradigms"। Magnetbahnforum.de। ২০১৩-০৫-১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১১-০৪ 
  2. Transrapid ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে uses more power for air conditioning
  3. K.C.Coates (High-speed rail in the United Kingdom)। "High-speed rail in the United Kingdom" (PDF)। High-speed rail in the United Kingdom। ২০১১-০৯-১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ 2012-12-13  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]