মোঃ সাদত আলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মৃত্যু১৯৭১
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ

ড. মো. সাদত আলী ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত বুদ্ধিজীবিদের একজন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।

১৯৭১ সালে অবস্থান[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সাদত আলী তার গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেছিলেন ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য। সেদিন কার্জন হল এলাকায় তার আত্মীয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে তার দেখা হয়। আমিনুল ইসলাম তাকে টাকা তুলে তার বাসায় যেতে বলেছিলেন। তিনি তার অপেক্ষায় ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে টহলরত পাকিস্তানি সেনারা তাকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। এরপর আমিনুল ইসলাম কোথাও তার খোঁজ পাননি।

জন্ম ও পরিবার[সম্পাদনা]

নরসিংদী জেলার রসুলপুর গ্রামের সাধারণ এক পরিবারে ১৯৪২ সালের ২৮ জানুয়ারি মো. সাদত আলীর জন্ম। বাবা মো. হযরত আলী, মা মমতাজের নেসা। পড়াশোনা শুরু গ্রামের জুনিয়র স্কুলে। মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ১৯৫৬ সালে গাজীপুর জেলার গাছা হাইস্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৫৮ সালে এই স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। মো. সাদত আলীর স্কুলজীবন কাটে লজিংয়ে থেকে। দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালেই তিনি বাংলা-ইংরেজি অভিধান মুখস্থ করে ফেলেছিলেন। রসুলপুর জুনিয়র স্কুলের এক শিক্ষক তাকে এ টি দেবের অভিধান থেকে এক বসায় দুই হাজার শব্দের অর্থ জিজ্ঞেস করেছিলেন। সব শব্দের সঠিক উত্তর দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৬০ সালে নরসিংদী কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট (আইকম) পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬৩ সালে বিকম ও ১৯৬৪ সালে এমকম পাস করেন। ১৯৭১ সালে তিনি অর্থনীতিতে এমএ পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। মো. সাদত আলী তিন কন্যাসন্তানের জনক। বড় মেয়ে মাহমুদা আকতার আলী, মেজো মেয়ে ফাহমিদা আকতার আলী ও ছোট মেয়ে শাহিদা আকতার আলী। স্ত্রী আজিজুন নাহার।

পেশাজীবন[সম্পাদনা]

মো. সাদত আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন শেষ করে নরসিংদী কলেজে বাণিজ্য বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এখানে কিছুদিন শিক্ষকতা করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সময় তিনি আমেরিকার কলোরাডো স্টেট কলেজে যান উচ্চশিক্ষার্থে। ১৯৬৯ সালের প্রথমার্ধে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। একই বছরের ৩১ মে তিনি সিনিয়র লেকচারার পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭০ সালের ৮ জুন শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।