মুহাম্মদ মাহদী আকিফ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মুহাম্মদ মাহদী আকিফ
محمد مهدي عاكف
৭ম মুর্শিদে আ'ম মিশরীয় ইখওয়ানুল মুসলিমিনের
কাজের মেয়াদ
জানুয়ারি ২০০৪ – জানুয়ারি ২০১০
পূর্বসূরীমা'মুন আল হুদায়বি
উত্তরসূরীমুহাম্মদ ব'দি
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯২৮-০৭-১২)১২ জুলাই ১৯২৮
মিশর
মৃত্যু২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭(2017-09-22) (বয়স ৮৯)[১]
কায়রো, মিশর
প্রাক্তন শিক্ষার্থীAin Shams University

মুহাম্মদ মাহদী আকিফ (Arabic: محمد مهدى عاكف) (জুলাই ১২, ১৯২৮ – সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭) ছিলেন মিশরের ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুডের ৭ম মুর্শিদে আ'ম। ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। তার পুর্বসূরী মামুন আল হুদায়বির মৃত্যুর পর তিনি এই দায়িত্ব পান। ২০১০ সালে তিনি স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব থেকে অবসর নেন। মাহদী আকিফ ২০১৩ সালের ৪ জুলাই সিসি সরকার কর্তৃক গ্রেফতার হন। তিনি ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।

শৈশব[সম্পাদনা]

মাহদী আকিফ ১৯২৮ সালে উত্তর মিশরের দাখলিয়া প্রদেশের কাফর আওয়াদ আল সেনিতাতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যে বছর জন্মগ্রহণ করেন সেই বছরই ইখওয়ানুল মুসলিমিন প্রতিষ্ঠিত হয়। মাহদী আকিফ প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছেন আল মনসুরা প্রাইমারি স্কুল থেকে এবং কায়রোর ফুয়াদ ১ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষার সার্টিফিকেট অর্জন করেন। এরপর তিনি ইন্সটিটিউট অব ফিজিক্যাল এডুকেশনে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন। ১৯৫০ সালের মে মাসে তিনি সেখান থেকে ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর তিনি ১ম ফুয়াদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৪০ সালে মাহদী আকিফ মাত্র ১২ বছর বয়সেই হাসান আল বান্নার নেতৃত্বে ইখওয়ানে যোগদান করেন। মাহদী আকিফ ছিলেন সুঠামদেহী এবং একজন উদ্যমী খেলোয়াড়। যখন তার বয়স সতের তখন হাসান আল বান্না তাকে একটা বিশেষ প্যারামিলিটারি বাহিনীর জন্য নির্বাচন করেন। এটি ছিল গোপন বিশেষ সংগঠন। এই বিশেষ বাহিনী কাজ করতো মিশরে দখলদার ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এবং ফিলিস্তিনে দখলদার ইহুদীবাদীদের বিরুদ্ধে। [২]

১৯৪৮ সালে যখন তার বয়স ২০ বছর তখন তিনি ১ম গ্রেফতার হন। ১৯৫৪ সালে স্বৈরাচারী জামাল আব্দেল নাসের প্রায় ১০০ জন ইখওয়ান নেতাকর্মীকে আটক করেন। সেই ১০০ জনের মধ্যে একজন ছিলেন মাহদী আকিফ। তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। তবে কিছুদিনের মধ্যেই তার মৃত্যুদন্ডাদেশ যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে রূপ নেয়।[৩]

তিনি বিশ বছর কারাগারে ছিলেন। মুক্তি পান ১৯৭৪ সালে। মুক্তি পাওয়ার তিনবছর পর ১৯৭৭ সালে তিনি সৌদী আরবে ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি যুক্ত হন বিশ্বখ্যাত মুসলিম এনজিও ওয়ামীর (WAMY) সাথে। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি ওয়ামীর বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ওয়ামীর হয়ে বিশ্বব্যাপী মুসলিম ইয়ুথ ক্যাম্পের অর্গানাইজার ছিলেন। [২]

১৯৮৩ সালে মাহদী আকিফ ইউরোপ গমন করেন। তিনি কিছুদিন জার্মানিতে ইসলামিক সেন্টার ইন মিউনিখের প্রধান হিসেবে কাজ করেন। জার্মানিতে থাকাকালে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের ইন্টারন্যশনাল এফেয়ার্সের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন কমিউনিটির সাথে ও বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামী আন্দোলনের সাথে ইখওয়ানুল মুসলিমিনের সংযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখেন।

মাহদী আকিফ মিশরে প্রত্যাবর্তন করেন ১৯৮৭ সালে। একই বছর তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। একই সময়ে তিনি একটি সংসদীয় আসনে বিজয় লাভ করেন এবং ৩৭ জন সংসদ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ব্রাদারহুডের সংসদীয় ব্লকের অংশ হিসেবে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। ইখওয়ানের সেসময় সংসদীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি ছিল না কিন্তু সমাজতান্ত্রিক লেবার পার্টির সাথে একটা বিশেষ এলায়েন্সের মাধ্যমে ইখওয়ান নির্বাচনে অংশ নেয়।

১৯৯৬ সালে মিশরের সেনা সরকার তাকে আবারো গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি শ্রমিক ইউনিয়নের মাধ্যমে বিদ্রোহ করতে চেয়েছিলেন। মিলিটারি কোর্ট সেসময় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি ঘোষণা করে। মাহদী আকিফ তিনবছর সশ্রম কারাদন্ড শেষে ১৯৯৯ সালে মুক্তি পান।

২০০৪ সালে জানুয়ারিতে মা’মুন আল হুদায়বির মৃত্যুর পর মাহদী আকিফ ইখওয়ানুল মুসলিমিনের মুর্শিদে আ’ম নির্বাচিত হন। একই সালের মার্চ মাসে তার নেতৃত্বে মুসলিম ব্রাদারহুড প্রথমবারের মতো একটি রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। যা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নারী অধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করা দল ও গোষ্ঠীগুলোর দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়। ইখওয়ানের এই সংস্কার আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় হয় যা সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা দেয়।[৩]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মিশরের কারাগারে বন্দী অবস্থায় মাহদী আকিফ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]