মুহাম্মদ ইবনে রুশায়দ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মুহিব্ব আল-দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে রুশায়দ আল-ফিহরি আল-সাবতি (১২৫৯ - ১৩২১, আরবি: ابن رشيد الفهري، أبو عبد الله محمد بن عمر ) একাধারে একজন বিচারক, লেখক ও হাদিস এর পন্ডিত। তিনি উত্তর আফ্রিকার সিউটাতে জন্মগ্রহণ করেন; বর্তমানে এটি স্পেনের অংশ। ১২৮৪ সালে তিন বছরের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যান, এসময়টাতে হজ্জ্ব আদায়ের পাশাপাশি অধ্যয়ন করেন। এসময় ইবনে আল-হাকিমের এক নিমন্ত্রণসভায় গ্রানাদার ভবিষ্যৎ উজির ইবনে আল-হাকিম আল-রুনদীর সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তিনি ১২৯২ অথবা ১২৯৩ সালে গ্রানাদায় আসেন, এখানে প্রথমে ইমাম এবং পরে বিচারক পদে নিযুক্ত হোন। ১৩০৯ সালে উজিরকে হত্যা করা হলে তিনি মারিনিদ প্রদেশে চলে আসেন, সেখানে মারাকেশে ইমাম হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি সুলতান দ্বিতীয় আবু সায়্যিদ উসমান আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হয়ে উঠেন। তিনি ফেব্রুয়ারি, ১৩২১ তে ফেজে মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় যেমন তিনি সম্মানিত ছিলেন, তেমনি মৃত্যুর পরও ইতিহাস তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। তিনি হাদিস, সাহিত্য ও ভ্রমণসহ নানা বিচিত্র বিষয়ে তিনি লেখালেখি করেছেন।

জীবন[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ ইবনে রুশায়দ ১২৫৯ সালে সিউটাতে জন্মগ্রহণ করেন। তরুণ বয়সে তিনি হাদিস ও আরবি ব্যাকরণ নিয়ে অধ্যয়ন করেন। হজ্জ্ব আদায় ও শিক্ষালাভের জন্য তিনি ১২৮৪ সালে মধ্যপ্রাচ্যে আসেন। গ্রানাদা আমিরাতে যাত্রাবিরতিতে প্রায় সমবয়সী কবি ইবনে আল-হাকিম আল-রুনদির সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে। রোন্দার অধিবাসী আল-হাকিম একই উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছিলেন। অচিরেই তাঁরা বন্ধু হয়ে উঠেন এবং একসাথে মক্কা, মদিনা, দামাস্কাস, কায়রো ও উত্তর আফ্রিকার প্রধান প্রধান শহর ভ্রমণ করেন; প্রখ্যাত শিক্ষদের কাছে পাঠ গ্রহন করেন। তাঁর বন্ধু ১২৮৬ সালে রোন্দায় ফিরে গেলেও তিনি আরো একবছর ভ্রমণ অব্যাহত রাখেন।

ভ্রমণ শেষে ১২৯২ বা ১২৯৩ সালের দিকে সিউটাতে ফিরে আসেন। আল-হাকিম বিচারশালার মন্ত্রী হলে তিনি রুশায়দকে গ্রানাদায় ডেকে পাঠান। সেখানে নগরীর বড় মসজিদে ইমাম ও খতিব পদে নিযুক্ত হোন। সেখানে সহিহ আল-বুখারি থেকে প্রতিদিন দুটি হাদিস বয়ান করতেন। পরবর্তীতে কাদি আল-মানাকিহ উপাধি নিয়ে বিচারক পদে আসীন হোন। ১৪ মার্চ, ১৩০৯ সালে তৃতীয় মুহাম্মাদ ক্ষমতাচ্যুত হলে প্রভাবশালী উজির ইবনে আল-হাকিমকে হত্যা করা হয়।

ইবনে আল-হাকিমের মৃত্যু হলে তিনি গ্রানাদা থেকে পশ্চিমে মারিনিদ প্রদেশে চলে যান। মারিনিদ সুলতান দ্বিতীয় আবু সায়িদ উসমান (শাসনকাল ১৩১০-১৩৩১) তাকে মারাকেশ পুরান মসজিদে ইমাম নিযুক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি মালিকী বিদ্যালয়ে আইনজ্ঞ নিযুক্ত ছিলেন। তিনি উত্তর আফ্রিকায় সম্মানিত হয়ে উঠেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সুলতানের আস্থাভাজন উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ফেজে ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৩২১ এ মৃত্যুবরণ করেন ( ২৩ মোহারম, ৭২১ হিজরি)।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]