মাসুমা এসমতি-ওয়ারদাক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাসুমা এসমতি-ওয়ারদাক
শিক্ষা মন্ত্রণালয় (আফগানিস্তান)
হাউস অব দ্য পিউপেল এর সদস্য
কাজের মেয়াদ
১৯৬৫-১৯৬৯

মাসুমা ইসমতী-ওয়ারদাক একজন আফগান লেখক এবং রাজনীতিবিদ, তিনি যৌথভাবে আফগান পার্লামেন্টে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম নারী এবং আফগান শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

১৯৫৩ সালে তিনি কাবুল মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন এবং ১৯৫৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায শিক্ষায় ডিগ্রি লাভ করেন। [১]

নারী অধিকারে অবদান[সম্পাদনা]

১৯৫৯ সালে, তিনি এবং কুবরা নূরজাই আফগানিস্তানে রানী হুমাইরা বেগমকে পর্দা ছাড়াই প্রকাশ্যে উপস্থিত হওয়ার প্রথম নারীদের মধ্যে একজন হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ দাউদ খানের নারীদের স্বেচ্ছায় তাদের পর্দা সরানোর আহ্বানকে সমর্থন করেছিলেন। [২]১৯৬৪ সালে বাদশাহ মোহাম্মদ জহির শাহ তাকে একটি উপদেষ্টা কমিটিতে নিযুক্ত করেন যা ১৯৬৪ সালের সংবিধানের খসড়া পর্যালোচনা করে [৩] নারীদের ভোট দেওয়ার এবং নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার প্রদান করে। ১৯৬৫ সালে তিনি কান্দাহার থেকে সংসদের হাউস অব দি পিউপেল এর প্রতিনিধিত্ব করতে নির্বাচিত হন এবং নারী অধিকারের অন্যতম উকিল হয়ে ওঠেন। [১][৪] তিনি ১৯৬৫ সালের নির্বাচনে চারজন নারীর মধ্যে একজন ছিলেন এবং ১০৬৯ সালে পুনঃনির্বাচনে তাঁর আসন হারান। [৫]

আফগান মহিলা পরিষদ[সম্পাদনা]

আফগান মহিলা পরিষদ (নারী পরিষদ নামেও পরিচিত) ছিল একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তান (১৯৭৮-৮৭) এবং আফগানিস্তান প্রজাতন্ত্রের অধীনে (১৯৮৭-৯২) একক একটি নারী সংগঠন। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সংগঠনের নেতা ছিলেন মাসুমা ইসমাতি-ওয়ারদাক। সংগঠনটি পরিচালনা করত ওয়ারদাক এবং আটজন নারী কর্মী। ১৯৭৮ সালে, নূর মুহাম্মদ তারকীর অধীনে সরকার নারীদের সমান অধিকার প্রদান করে। এতে নারীরা স্বামী এবং তাদের ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। আফগান মহিলা পরিষদ এর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০০০০ এবং প্রায় সব প্রদেশে এর অফিস ছিল। কাবুলের বেশিরভাগ নারীই মুজাহিদিনদের প্রতিবাদ করেছিলেন কারণ তারা নারীদের ব্যাপারে তাদের পশ্চাদপসরণমূলক আইন করেছিল।[৬]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৫৯-১৯৬৪ এর মধ্যে তিনি কাবুলের জারঘুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ছিলেন এবং তারপর মাধ্যমিক শিক্ষার মহাপরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ৯৬৪ সালে সাংবিধানিক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হয়েছিলেন এবং নারী বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত আফগান প্রগতিশীল সরকার ১৯৬৪ সালে অন্তর্ভুক্ত করে আফগান সংবিধান অনুমোদন করেছিল।[৭]

বৈবাহিক জীবন[সম্পাদনা]

তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম ওয়ার্দাককে বিয়ে করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি আফগান মহিলা পরিষদের সভাপতি হন। [১]

রচনা[সম্পাদনা]

মাসুমা আফগান নারীদের অবদান এবং প্রচেষ্টার বিষয়ে পশতু এবং দরি উভয় ভাষায় নারীর অধিকার সম্পর্কে অনেক বই লিখেছেন। পশতু ভাষায় লেখা “মৌখিক ঐতিহ্যতে মহিলাদের অবদান” বইটি ইংরেজিতেও অনুবাদ করা হয়েছে[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Mattar, Philip (2004). Encyclopedia of the Modern Middle East & North Africa: D-K. Macmillan Reference USA. p. 786. আইএসবিএন ৯৭৮-০-০২৮৬৫-৭৭১-৪.
  2. Tamim Ansary (2012) Games without Rules: The Often-Interrupted History of Afghanistan
  3. Sarfraz Khan (2013) Politics of policy and legislation affectin g women in Afghanistan: One step forward two steps back Central Asia Journal, Number 73
  4. Skaine, Rosemarie (2001). The Women of Afghanistan Under the Taliban. McFarland. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৮৬৪৮-১৭৪-৩.
  5. Louis Dupree (2014) Afghanistan Princeton University Press, p653
  6. "Women's rights in Afghanistan"HiSoUR - Hi So You Are (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৮-০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-২১ 
  7. "How old is Masuma Esmati-Wardak"HowOld.co (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-২১ 
  8. peoplepill.com। "About Masuma Esmati-Wardak: Afghan politician | Biography, Facts, Career, Wiki, Life"peoplepill.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-২১