মঙ্গলাকান্তি রায়
মঙ্গলাকান্তি রায় | |
|---|---|
সাক্ষাৎকারে মঙ্গলাকান্তি রায় (১ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে) | |
| প্রাথমিক তথ্য | |
| জন্ম | ১৯২১ (বয়স ১০৪–১০৫) ধওলাগুড়ি, ময়নাগুড়ি জলপাইগুড়ি বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ) |
| মৃত্যু | ২৯ মে ২০২৬ (বয়স ১০৫)[১] ধওলাগুড়ি, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত[২] |
| ধরন | লোকসঙ্গীত |
| বাদ্যযন্ত্র | সারিন্দা |
| কার্যকাল | ১৯৪০ – ২০২৬ |
| দাম্পত্য সঙ্গী | চম্পা রায় |
| পুরস্কার | বঙ্গরত্ন (২০১৭) পদ্মশ্রী (২০২৩) |
মঙ্গলাকান্তি রায় (বা মঙ্গলাকান্ত রায়, যিনি 'মঙ্গলা গোঁসাই' নামে পরিচিত),(১৯২১ - ২৯ মে ২০২৬) ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বর্ষীয়ান এক লোক সঙ্গীত শিল্পী,[৩] যিনি উত্তরবঙ্গের প্রাচীনতম বাদ্যযন্ত্র সারিন্দাবাদক বা সারিঞ্জাবাদক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। আট দশকের বেশি সময় ধরে তিনি সারিন্দা পরিবেশন করেন।[৪] শিল্পকলায় স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গরত্ন এবং ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী লাভ করেন। [৫][৬]
জীবনী
[সম্পাদনা]মঙ্গলাকান্তির জন্ম ব্রিটিশ ভারতের অধুনা পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ধওলাগুড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অতি অল্প বয়স থেকেই তার বাদ্যযন্ত্র বাজানোর প্রতি আগ্রহ ছিল। তবে মঙ্গলাকান্তি উত্তরবঙ্গের সুপ্রাচীন বাদ্যযন্ত্র সারিন্দা বাজানোর তালিম নেন অধুনা বাংলাদেশের শিল্পী ধূমাকান্ত রায়ের কাছে। তার কাছ থেকেই কিনে নেওয়া সারিন্দা নিয়েই চর্চা করেন।[৭] দীর্ঘদিনের চর্চায় রাজবংশী সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত লুপ্তপ্রায় সারিন্দা বাজানোর তার বিশেষ মুন্সিয়ানা আছে। বাদ্যযন্ত্রটির মাধ্যমে পাখিদের সুর তৈরি করে শ্রোতাদের যেন জাদুবলে মন্ত্রমুগ্ধ করতে পারেন তিনি। সারিন্দা বাদ্যযন্ত্রকে সংরক্ষণ করতে আট দশকেরও বেশি সময় ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।[৮] ওয়ার্কশপের আয়োজন
মৃত্যু
[সম্পাদনা]বার্ধক্যজনিত দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং গলার সমস্যার কারণে ২০২৬ সালের ২৯ মে শুক্রবার ভোরে মঙ্গলাকান্তি রায় জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ধওলাগুড়ি গ্রামে তাঁর পৈতৃক বাসভবনে ১০৪ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।[৯]
মৃত্যুর পূর্বে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় প্রথমে তাঁকে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছিল। কিছুদিন সুস্থ বোধ করায় তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও শেষ দিনগুলোতে গলার গুরুতর সমস্যার কারণে তিনি আহার গ্রহণ একপ্রকার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর স্ত্রী চম্পা রায়, তিন পুত্র, পৌত্র-পৌত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে উত্তরবঙ্গের তথা সমগ্র বাংলার লোকসংস্কৃতি মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
সম্মাননা
[সম্পাদনা]শতায়ু সারিন্দাবাদক শিল্পী মঙ্গলাকান্তি অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যেই সঙ্গীতের সাধনা অব্যাহত রাখেন। আগামী প্রজন্মের কাছে সারিন্দাবাদনকে বাঁচিয়ে রাখতে ওয়ার্কশপের আয়োজন করেন। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে কাজের স্বীকৃতি লাভ করেন।
- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বঙ্গরত্ন সম্মানে ভূষিত করে।
- ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে লাভ করেন ভারত সরকার চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী [৬]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "১০৪ বছর বয়সে থামল 'সারিন্দা'র সুর, প্রয়াত পদ্মশ্রী লোকশিল্পী মঙ্গলা কান্তি রায়"। শিলিগুড়ি ক্রনিকল। ২৯ মে ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মে ২০২৬।
- ↑ "১০৪ বছর বয়সে থামল 'সারিন্দা'র সুর, প্রয়াত পদ্মশ্রী লোকশিল্পী মঙ্গলা কান্তি রায়"। শিলিগুড়ি ক্রনিকল। ২৯ মে ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মে ২০২৬।
- ↑ "বয়স একশো পার, দিন চলে ভিক্ষা করে, লোকসঙ্গীত শিল্পী মংলা গোঁসাই পেলেন পদ্মশ্রী"। ২০ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৩।
- ↑ "পদ্মশ্রী পাচ্ছেন বর্ষীয়ান সারিঞ্জাবাদক 'বঙ্গরত্ন' মঙ্গলাকান্তি রায়"। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৩।
- ↑ "সারিন্দা বাজিয়ে ৮ যুগ ধরে ভেল্কি! ১০২ বছর পার করে পদ্মশ্রী পেলেন ময়নাগুড়ির বৃদ্ধ"। ২০ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৩।
- 1 2 "Padma Awards 2023 announced"। PIB। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২৩।
- ↑ "পদ্ম পুরস্কারে ভূষিত সারিন্দা শিল্পী মঙ্গলাকান্তি রায়, উঠে এল ছত্রে ছত্রে লড়াইয়ের কাহিনি"। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৩।
- ↑ "দিলীপ মহালানবিশ, মঙ্গল রায়, ধনিরাম টোটোকে পদ্ম সম্মাননা"। ২০ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২৩।
- ↑ "১০৪ বছর বয়সে থামল 'সারিন্দা'র সুর, প্রয়াত পদ্মশ্রী লোকশিল্পী মঙ্গলা কান্তি রায়"। শিলিগুড়ি ক্রনিকল। ২৯ মে ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মে ২০২৬।