বিশেষ আবহধ্বনি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গ্রিসের একটি বেতার কর্মশালাতে বিভিন্ন শব্দযন্ত্র
ডিজিটাল (সাংখ্যিক) উপায়ে সৃষ্ট গভীর, স্পন্দনশীল বিশেষ আবহধ্বনি
একটি মানবকণ্ঠ "জা" বলছে, তার পরে ডিজিটাল (সাংখ্যিক) উপায়ে এই ধারণকৃত ধ্বনিটির সাথে বিশাল অনুরণনমূলক বিশেষ আবহধ্বনি যোগ করা হয়েছে।
একটি কালো দামা পাখি গান গাইছে, তারপর ধারণকৃত গানটির মূল রূপটিকে ৫টি ভিন্ন কণ্ঠে একত্রে বাজানো হয়েছে, যা একটি বিশেষ আবহধ্বনি।

বিশেষ আবহধ্বনি বলতে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট, পুনরুৎপাদিত বা প্রবর্ধিত ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে বোঝায় যেগুলিকে মঞ্চনাটক, বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র বা অ্যানিমেশন, ভিডিও খেলা, সঙ্গীত, বা অন্য কোনও শিল্পকলা মাধ্যমে পরিবেশিত বা প্রদর্শিত ঘটনাগুলিকে আরও বাস্তব রূপ দিতে বা অন্য কোনও বিশেষ শৈল্পিক কারণে যোগ করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে বিশেষ আবহধ্বনিগুলি মঞ্চনাটকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মঞ্চে পরিবেশিত নাটকে কাহিনীর প্রয়োজনে অনেক বিশেষ ধ্বনির প্রয়োজন হয়, যেগুলি বাস্তবে মঞ্চের পরিসরের তুলনায় অনেক বৃহৎ কোনও ক্ষেত্রে সৃষ্টি হতে হয়, কিংবা যেগুলি বাস্তবে সৃষ্টি করা খুবই বিপজ্জনক কিংবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এগুলিকে তাই মঞ্চের পর্দার নেপথ্যে বিশেষ আবহধ্বনি হিসেবে বাস্তবায়িত করা হয়। যেমন মঞ্চে অভিনেতাদের পটভূমিতে ঘটমান কোনও যুদ্ধকে শিঙা, বন্দুকের গুলি ছোঁড়া, চিৎকার, ঘোড়ার খুরের শব্দ, তরবারির খাপ থেকে খোলা ও তরবারির সাথে তরবারি লেগে ঝনঝনানি, ইত্যাদি বিশেষ আবহধ্বনি দিয়ে ছদ্মরূপে পরিবেশন করা হতে পারে। এছাড়া কিছু বিপজ্জনক ঘটনার ধ্বনি যেমন বিস্ফোরণ, সংঘর্ষ, কাচ বা কাঠ ভেঙে পড়া, ইত্যাদিও মঞ্চের নেপথ্যে সৃষ্টি করতে হয়। মঞ্চে প্রদর্শিত ঘটনার সাথে সমন্বয় করে বিশেষ আবহধ্বনিগুলি সৃষ্টি করতে হয়। এজন্য পর্দার আড়ালে একজন শব্দ কৌশলী বা ধ্বনি কৌশলী কাজ করেন। বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র মাধ্যমে বিশেষ আবহধ্বনিগুলিকে আগে থেকে ধারণ করে রাখা হয় এবং এগুলিকে কাহিনী বা সৃষ্টিশীলতার স্বার্থে যোগ করা হয়। কথোপকথন বা আবহ সঙ্গীত থেকে এগুলি আলাদা। তবে কথোপকথন ও নেপথ্য সঙ্গীতের মূল ধারণকৃত রূপটিকে কোনও কৃত্রিম উপায়ে পরিবর্তন সাধন করা হলে (যেমন প্রতিধ্বনি, অনুরণন তথা রিভার্ব, ফ্ল্যাঞ্জিং, ইত্যাদি) সেটিকেও বিশেষ আবহধ্বনি হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইংরেজিতে বিশেষ আবহধ্বনিকে সাউন্ড ইফেক্ট (Sound effect) বা অডিও ইফেক্ট (Audio effect) নামে ডাকা হয়ে থাকে।