বিবাহ নিবন্ধন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বিবাহ নিবন্ধন বলতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারী দলিলে বিবাহের অন্তর্ভুক্তি বোঝায়। বাংলাদেশে সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত কাজী মুসলমানদের বিবাহ নিবন্ধন করে থাকেন। [১]

আইনী বাধ্যবাধকতা[সম্পাদনা]

দেশে বিদ্যমান আইনের দ্বারা নির্ধারিত তথ্যাবলী দিয়ে নির্ধারিত ছকপূরণ করে সরকারিভাবে বিবাহ তালিকাভূক্তি করাই হচ্ছে বিবাহ নিবন্ধন। ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দের খ্রিস্টান ম্যারেজ এ্যাক্ট অনুযায়ী খ্রিস্টানদের জন্য বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। একইভাবে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪ মোতাবেক অনুযায়ী মুসলমানদের প্রতিটি বিবাহ নিবন্ধন করতে হবে। বাংলাদেশে বিদ্যমান হিন্দু পারিবারিক আইনে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের কোন বিধান নাই। বৌদ্ধ বিবাহ হিন্দু পারিবারিক আইন মতে পরিচালিত হযয়ে থাকে। এ কারণে বৌদ্ধদের ক্ষেত্রেও বিবাহ নিবন্ধনের কোনরূপ আইনী বাধ্যবাধকতা নেই। যে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সে ক্ষেত্রে বিবাহ নিবন্ধন না-করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।[১]

মুসলমানদের বিবাহ নিবন্ধন[সম্পাদনা]

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪ মোতাবেক অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ নিবন্ধন করতে হবে। বিবাহের দিন বা কোন কারণে তা সম্ভব না-হলে বিবাহের ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। মুসলমানদের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কাজী সরকার নির্ধারিত ছকে বিবাহের নিবন্ধন করবেন। যে কাগজে এই নিবন্ধন করা হয় তা-ই কাবিননামা তথা নিকাহনামা নামে পরিচিত। কাবিননামায় যা অবশ্যই থাকবে তা হলো: বিবাহের ও নিবন্ধনের তারিখ, স্বামী ও স্ত্রীর নাম, পরিচয় ও বয়স, বিবাহের সাক্ষীদের নাম ও পরিচয়, বিবাহের দেনমোহরের পরিমাণ এবং তা আদায়ের ও বাকীর পরিমাণ, কাজীর সাক্ষর ও সিলমোহর ইত্যাদি। বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বরপক্ষ নিবন্ধন ফি প্রদান করবে। বিয়ে নিবন্ধনের পর কাজী তথা নিকাহ রেজিষ্টার স্বামী ও স্ত্রীকে কাবিননামার সত্যায়িত কপি প্রদানে বাধ্য। নিবন্ধনের সময় কাজী যাচাই করবেন (ক) স্বামীর বয়স কমপক্ষে ২১ এবং স্ত্রীর বয়স কমপক্ষে ১৮ হয়েছে কিনা, বিবাহে স্বামী ও স্ত্রী’র পূর্ণ সম্মতি রয়েছে কি-না, (গ) বিয়ের সাক্ষীগণ উপস্থিত কি-না এবং (ঘ) দেমমোহরের পরিমাণ যথাযোগ্য কি-না এবং তার কত অংশ আদায় করা হয়েছে। এ সমব বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে কাজী নিবন্ধনে অগ্রসর হবেন।[১]

শাস্তির বিধান[সম্পাদনা]

মুসলিম আইনে অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধন না করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিবাহ নিবন্ধন না করলে বিচারক্রমে ২ বৎসর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০০০ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড প্রযোজ্য হতে পারে।

নিবন্ধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

নিবন্ধনের ফি[সম্পাদনা]

খ্রিস্টানদের বিবাহ নিবন্ধন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় ই-তথ্যকোষ"। ২১ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬ 

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]