বিঙ্কি (মেরু ভালুক)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বিঙ্কি
বিঙ্কি (মেরু ভালুক).jpg
একজন দর্শনার্থীর জুতা মুখে বিঙ্কি
প্রজাতি মেরু ভালুক
লিঙ্গ পুরষ

বিঙ্কি (১৯৭৫ - ২০ জুলাই ১৯৯৫) ছিল একটি মেরু ভালুক; যে অ্যাংকারিজ এর আলাস্কা চিড়িয়াখানাতে বাস করতো। একে আলাস্কার উত্তরে ঢালু অঞ্চলে এতিম ভালুক হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল। একে চিড়িয়াখানাতে নিয়ে আসার পর এটি চিড়িয়াখানার এক প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। ১৯৯৪ সালে সে দুইজন দর্শককে মারার কারনে টেলিভিশন চ্যানেলের আওতায় আসে। ১৯৯৫ সালে পরাশ্রয়ী রোগ সারকোসাইসটোসিস -এ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৭৫ সালের বিঙ্কিকে আলাস্কার ক্যাপ বিউফোর্টের উত্তর ঢালু উঞ্চলে এতিম ভালুক হিসেবে পাওয়া যায়। আলাস্কা ডিপার্টমেন্ট অব ফিশ এন্ড গেম একে রক্ষা করেছিল।[১][২] একে আলাস্কা শিশু চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আলাস্কা চিড়িয়াখানাতে পাঠানো হয় যেখানে সে খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ১৯৭৬ সালে বিঙ্কির রক্ষক বলেছেন যে, বিঙ্কি অভিনেতা ছিল এবং যখন তার দর্শকরা সন্ধ্যা হলে চলে যেত তখন সে কাঁদতো।

বিঙ্কিকে প্রাথমিকভাবে ১৩ফুটX২০ফুট ডিম্বাকার ঘরে রাখা হতো যেখানে সে খুব তাড়াতাড়ি অনেক বড় হয়ে ওঠে। বিঙ্কির বড় হওয়ার জন্য চিড়িয়াখানায় নতুন ঘর বানাতে কর্তৃপক্ষের ১৫০,০০০ লক্ষ ডলার প্রয়োজন ছিল। কর্তৃপক্ষ বিঙ্কিকে মিলাউকী চিড়িয়াখানা তে পাঠাতে ভয় পেয়েছিল। একটি ফান্ডরাইজার এবং উন্মুক্ত ঘর বসানো হলো পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করার জন্য। এতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা এবং ব্যবসায়িকরা অর্থ দান করতো। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় শহর চিড়িয়াখানার জমিন ১০০,০০০ ডলারে লীজ নেয় এবং শর্ত ছিল চিড়িয়াখানাকে বছরে ৫৫ কিস্তিতে প্রতি বছরে ২,৫০০ ডলার দিতে হবে। বিঙ্কির নতুন থাকার জায়াগা ১৯৭৭ সালের মে মাস থেকে শুরু হয়। একই বছরে ক্যাল ওর্থিংটন -এর একটি ডিলারশিপ বানিজ্যে 'মাই ডগ স্পট' হিসেবে দেখা দেয়।[৩]

বিঙ্কি যখন যৌন পরিপক্বতা লাভ করে তখন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ওকলাহোমা'র টুলসা চিড়িয়াখানা থেকে মিমি নামের একটি স্ত্রীভালুক নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। যখন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে তখনই মিমি একটি ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে টুলসা চিড়িয়াখানাতেই মৃত্যুবরণ করে। ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দু'টি জমজ মেরু ভালুক (নুকা, যে ছিল মেয়ে এবং সিকু, যে ছিল ছেলে) এনে বিঙ্কির বসবাসের স্থানে রাখে। বিঙ্কি সিকুর সাথে খারাপ আচরণ করতো বলে সিকুকে মেক্সিকো'র মোরলিয়া চিড়িয়াখানাতে ১৯৮১ সালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

পূর্ণস্বাস্থ্যবান এবং পূর্ণবয়স্ক বিঙ্কির ওজন ছিল ১,২০০ পাউন্ড। বিঙ্কি আক্রমণকারী ভালুক ছিল। সে চিড়িয়াখানার একজন কর্মীর আঙ্গুল কামড়ে দিয়েছিল। ১৯৮৩ সালে বিঙ্কির রক্ষক বলেছেন, ''বিঙ্কি স্বাধীন এবং একগুঁয়ে ভালুক ছিল। সে খেলতে পছন্দ করে। যখন সে একঘেয়ে অনুভব করে তখন তার কুঠুরের অর্ধেক হেঁটে বসে পড়ে। সে জানে আমি তার কাছে যাবোনা। সে খুবই চালাক একটি ভালুক।''[৪]

মারধর, যশ এবং মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৯৪ সালের জুলাই মাসে ২৯ বছর বয়সী একজন অস্ট্রেলিয়ান পর্যটক 'ক্যাথরিন ওয়ারবার্টন' সুরক্ষা সীমানার উপর লাফিয়ে বিঙ্কির বাসস্থানের খুব কাছাকাছি চলে আসে বিঙ্কির একটি ছবি তোলার জন্য। কিন্তু সুরক্ষা সীমানার সামনে চলে আসার কারণে বিঙ্কি তাকে আঁকড়ে ধরলো এবং এবং মারাত্মকভাবে জখম করলো যার ফলে অস্ট্রেলিয়ান পর্যটকের একটি পা ভেঙে গিয়েছিল। আরেকজন পর্যটক ঘটনাটি ধারণ করে নিল একটি টেপ-এ। বিঙ্কি ঐ মহিলার একটি জুতো তিন দিন ধরে রেখে দিয়েছিল; সে জুতোটি কামড়াতো এবং পরবর্তীতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বিঙ্কি থেকে সেই জুতো উদ্ধার করে নেয়। মহিলাকে আক্রমণ করার পরের দিন আলাস্কা স্টার এর একজন ফটোগ্রাফার 'রব ল্যামান' বিঙ্কির একটি ছবি তুলে নেয় এবং পরবর্তীতে প্রায় সকল সংবাদপত্রেই এই ছবি প্রকাশিত হলো এবং পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করা হলো। ওয়ার্টবনের আরেকটি জুতো 'বার্ড ক্রীক'র পাশে গিয়ে পড়েছিল এবং জুতোটি পুড়িয়ে ফেলার আগে সেখানেই ছিল।

ছয় সপ্তাহ পরে বিঙ্কি আরেকটি মারামারির সাথে যুক্ত হয়ে যায়। স্থানীয় ১৯ বছর বয়সী এক মাতাল যুবক বিঙ্কি'র বাসস্থানের খুব কাছাকাছি চলে আসে এবং এটা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল যুবকটি বিঙ্কির পুলে গোসল করতে চাচ্ছিল। তাই বিঙ্কি যুবককে মারধর করে পা ভেঙে দেয় এবং পরে যুবকটিকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এটা নিশ্চিত হতে পারেনি যে বিঙ্কিই ছিল আক্রমনকারী। তবে এই ঘটনার পর বিঙ্কির মুখে রক্ত লেগে থাকতে দেখা যায়।[৫]

এই আক্রমণের পরে বিঙ্কি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুলোর নজর আকর্ষন করে। বিঙ্কির জুতো হাতে ছবি এবং একটি স্লোগান ব্যবহার করে টি-শার্ট, মগ, এবং বাম্পার স্টিকার ব্যবহার করা হতো। স্লোগানটি ছিলঃ আরেকজন পর্যটক পাঠাবে, সেও বহুদূরে পালাবে। স্থানীয় সম্পাদকরা মারামারির দু'টি ঘটনার পর বিঙ্কিকে সামর্থন করতে লাগলো এবং যুক্তি দেখালো মেরু ভালুকের ভয়ংকর রূপকে সবার সম্মান করা উচিত। চিড়িয়াখানার পরিচালক স্যামি সিওয়েল ওয়ার্টবর্নের কাজটির সমালোচনা করে অ্যাংকারিজ ডেইলি নিউজকে বলেন, "সে চিড়িয়াখানার আইন ভঙ্গ করেছে এবং ভালুকের স্বাভাবিক জীবন বিপন্ন করেছে।" যদিও আক্রমণের ঘটনার পর সিওয়েল প্রাথমিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, তবে পরবর্তীতে তিনি দর্শকদের নিরাপত্তার জন্য বিঙ্কির বাসস্থানের চারপাশে মজবুত করে নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরী করেন।

১৯৯৫ সালের ১৪ই জুলাই বিঙ্কির সঙ্গীনি (নুকা) সাকোসাইটোসিস নামক পরজীবী রোগে আক্রান্ত হয়ে যকৃতের কার্যক্ষমতা হারিয়ে মারা যায়। কিছু সময় পরে বিঙ্কির দেহেও একই রোগের লক্ষণ দেখা যায় এবং ২০ জুলাই সকালে বিঙ্কির খিঁচুনি উঠে মৃত্যুবরণ করে। বিঙ্কির দর্শকরা তার খালি বাসস্থানের সামনে ফুলের তোড়া দিয়ে যেত এবং চিড়িয়াখানার মেমোরিয়াল সার্ভিস লক্ষ্য করলো বিঙ্কির কিছু খারাপ কর্মকান্ড সত্ত্বেও ভক্তরা তার মৃত্যুতে শোকাহত হয়েছিল। বিঙ্কিকে চিড়িয়াখানার মাটিতেই সমাহিত করা হয়।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Jones, Sally W. (মে ৭, ১৯৭৬)। "Binky the polar bear faces uncertain future"Anchorage Daily News। পৃষ্ঠা 2। 
  2. "Zoo to open for Binky's party"Anchorage Daily News। মে ১৩, ১৯৭৬। পৃষ্ঠা 2। 
  3. "Bear joins ad team"। The Times-NewsHendersonville, North Carolina। ফেব্রুয়ারি ২৫, ১৯৭৭। 
  4. McCoy, Kathleen (ডিসেম্বর ২৯, ১৯৮৩)। "He's got a bear of a job"Anchorage Daily News। পৃষ্ঠা E1। 
  5. "Zoo bear suspected in mauling"Eugene Register-Guard। সেপ্টেম্বর ১৩, ১৯৯৪। পৃষ্ঠা 3A। 
  6. Phillips, Natalie (অক্টোবর ৮, ১৯৯৬)। "Jackie the brown bear, ailing with cancer, is euthanized"। Anchorage Daily News। পৃষ্ঠা B3। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]