বদর আউলিয়ার দরগাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মাজারের পশ্চিম দেয়ালের বহির্ভাগের শিলালিপি

বদর আউলিয়ার দরগাহ চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম।[১] এটি নগরীর বকশির হাট এলাকায় বদরপাতি রোডে অবস্থিত। বদর পীরের নামানুসারে স্থাপনাটির নামকরণ করা হয়। চট্টগ্রামে ইসলাম প্রচারক প্রথম সুফি সাধক হিসাবে বদর শাহই পরিচিত।[২] চট্টগ্রামে তিনি বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন- বদর আলম, বদর মোকাম, বদর পীর, বদর শাহ, বদর আউলিয়া প্রভৃতি। তার আগমন নিয়ে অনেক মজার মজার কথা প্রচলিত আছে। বদর পীরের চাটির কথা চট্টগ্রামে আজো কিংবদন্তি; কেউ কেউ মনে করেন, বদর শাহের চাটি থেকে চাটিগ্রাম হয়ে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

  • বদর আউলিয়ার মাজার
  • বদর আউলিয়া মাজারের নবনির্মিত গেইট

চট্টগ্রাম মুসলমানদের রাজ্যভূক্ত হওয়ার আগে অর্থাৎ ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ চট্টগ্রাম জয় করার আগেই ইসলাম প্রচারের জন্য সুদূর আরব থেকে হযরত বদর শাহ (রঃ) এখানে আসেন। বলা হয়, পাথরের বুকে চেপে সাগর পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছেন তিনি। চট্টগ্রামের মানবব্‌রজিত পরিবেশে তিনি দৈত্যদানবের কাছ থেকে এবাদত করার জন্য এক চাটি পরিমাণ জায়গা চেয়ে নেন। চাটির আলো ও আজানের ধবনির বিস্তারে দৈত্য-দানবরা পালিয়ে যায়। এ ঐতিহ্যবাহী চাটি হতে চট্টগ্রামের নামকরণ বলে ব্যাপক জনশ্রতি আছে[৩]। আউলিয়া বদর শাহই প্রথম চট্টগ্রামে চেরাগ জেলে গোড়াপত্তন করেন এ শহরের[৪]। আর এই ঐতিহাসিক স্মৃতি বহন করছে মোমিন রোডস্থ 'চেরাগী পাহাড়'। অনেকে মনে করেন , ১৪৪০ সালে মৃত্যুমুখে পতিত হওয়া বিহারের ছোট দরগাহে শায়িত পীর বদর উদ্দীন বদর -ই-আলম আর বন্দরনগরীর বদরপাতি পীর একই ব্যক্তি। কিন্তু এর সাথে দিমত পোষণ করেন।[৫]। বদরশাহ মানুষের গানের মধ্য দিয়েও বেঁচে আছেন, তার প্রমাণ- মাঝিদের বিখ্যাত উদ্দীপনামূলক গান-"বদর বদর বদর বদর হেঁইয়ো--বদর বদর বদর বদর হেঁইয়ো"। চট্টগ্রামে পীর বদরের আস্তানা প্রায় সাড়ে ছয়শো বছরের স্মৃতি বহন করছে। পীর বদরের সমাধি ভবনটি সুলতানি আমলে তৈরী করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. চট্টগ্রামের প্রাচীন ইমারত - প্রথম আলো
  2. বাংলাপেডিয়ায় বদর আউলিয়া
  3. estern bengal district gazette chittagong, page-1
  4. দৈনিক আজাদীর ৩৫ বছর পূরতি বিশেষ সংকলন
  5. চট্টগ্রামে ইসলামী ঐতিহ্য-আব্দুল করিম-জ্ঞানলোক প্রকাশনী, পৃঃ৯