ফুটবল (খেলা)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ফুটবল দলগত ক্রীড়ার গোত্রভুক্ত যেখানে বিভিন্নভাবে একটি বলকে পদাঘাত করে গোল করা হয় । যদিও ফুটবল শব্দটি আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে প্রদর্শিত হয়,তবে সব অঞ্চলের মধ্যে 'ফুটবল' শব্দটাই বেশী প্রচলিত। কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে 'ফুটবল' নামক খেলা দ্বারা এসোসিয়েশন ফুটবল (কিছু দেশে সকার নামে পরিচিত); গ্রিডরন ফুটবল (বিশেষ করে আমেরিকান ফুটবল বা কানাডিয়ান ফুটবল); অস্ট্রেলিয়ান নিয়মে ফুটবল; রাগবি ফুটবল (রাগবি লিগ বা রাগবি ইউনিয়ন); এবং গ্যালিক ফুটবল ইত্যাদি বোঝানো হয়। ফুটবলের এই বিভিন্ন বৈচিত্রগুলি ফুটবল কোড হিসাবে পরিচিত।
ইতিহাসে ফুটবলের বিভিন্ন রুপ শনাক্ত করা যায়,অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি কৃষকদের জনপ্রিয় খেলা ছিল।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইংরেজি পাবলিক স্কুলগুলোতে ফুটবলের সমসাময়িক কোডগুলোকে নিজেকেদের ফুটবলে অন্তর্ভুক্ত করতে দেখা যায়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার ফুটবলের এই নিয়মগুলোকে সরাসরি নিয়ন্ত্রিত সাম্রাজ্যের বাইরে ব্রিটিশ প্রভাবে থাকা অঞ্চলেও ছড়িয়ে দিতে থাকে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে, স্বতন্ত্র আঞ্চলিক কোড ইতিমধ্যেই উন্নয়নশীল ছিল: গালিক ফুটবল, উদাহরণস্বরূপ, তাদের ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ফুটবল খেলার নিয়মগুলি অন্তর্ভুক্ত করে। ১৮৮৮ সালে ইংল্যান্ডে ফুটবল লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় যেটি সকল পেশাদার ফুটবল প্রতিযোগিতার মধ্যে প্রথম। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন ধরনের ফুটবল বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।


সাধারণ উপাদান

ফুটবলের বিভিন্ন কোডগুলোর কিছু সাধারণ উপাদান আছে: আমেরিকান ফুটবল, কানাডিয়ান ফুটবল, রাগবি ইউনিয়ন এবং রাগবি লিগ খেলোয়াড়দের খেলা শুরুতে মাঠের সীমিত এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে। তারা বল চালানোর প্রধান উপায় হিসাবে ছুড়ে মারা এবং দৌড় ব্যবহার করে থাকে এবং কেবলমাত্র কিছু সীমিত সময়েই বলে লাথি মারে। শারীরিক মোকাবেলা একটি প্রধান দক্ষতা । অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল এবং গালিক ফুটবলে পিচের চারপাশে বলটি সরানোর জন্য লাথি ব্যবহার করতে হয়, সঙ্গে আরো সীমিত দক্ষতা। শারীরিক নিয়ন্ত্রণ খেলার ক্ষেত্রে কম গুরুত্ত্বপূর্ণ এবং খেলোয়াড়রা মাঠে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতে পারবে (অফসাইড আইন সাধারণত কম কঠোর)।

ক্রীড়ার সাধারণ নিয়মাবলিঃ
-দলগুলো সাধারণত গঠিত হয় ১১ এবং ১৮ জনের মধ্যে; কিছু পরিবর্তন যেখানে কম খেলোয়াড় (প্রতি দলে পাঁচ কিংবা তারও অধিক) থাকে,সেটি আরও জনপ্রিয়।
-একটি নির্দিষ্ট এলাকা যেখানে খেলাটি পরিচালিত হবে।
-বিরোধী দলের অঞ্চলের শেষ সীমানায় বল নিয়ে এবং লক্ষ্য অঞ্চলে কিংবা লক্ষ্যদাগে পৌছিয়ে গোল করা বা পয়েন্ট অর্জন করা।
-গোল এবং পয়েন্ট হয় দুই গোলপোস্টের মাঝে থাকা খেলোয়াড়দের বল রাখার ভিত্তিতে।
-গোল কিংবা লক্ষ্য দাগ বিরোধীদলের দ্বারা রক্ষিত থাকে।
-খেলোয়াড়রা বলটিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরায় কিছু নিয়ম মেনেঃ লাথি মেরে,বহন করে কিংবা হাত দিয়ে আরেকজনের কাছে দিয়ে।
-খেলোয়াড়রা বল সরাতে শুধুমাত্র তাদের শরীর ব্যাবহার করে।

সকল নিয়মেই সাধারণ দক্ষতা হল বল পাস করা,মোকাবেলা করা,ধরে ফেলা এবং লাথি মারা। বেশিরভাগ নিয়মে খেলোয়াড়দের চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু নিয়ম রয়েছে এবং খেলোয়াড়দের গোল করার জন্য বলকে গোলপোস্টের ভেতরে বা বাইরে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিয়ে যেতে হবে।