ফিলিস্তিন শরণার্থী ক্যাম্প

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
১৯৪৮ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের গ্যালিলি ত্যাগ

ফিলিস্তিন শরণার্থী শিবির ১৯৪৮ আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধ পরবর্তীকালে ফিলিস্তিনের শরণার্থীদের ও নাকবার ফলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনী নাগরিকদের জন্য নির্মিত শরণার্থী ক্যাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ১৯৪তম ধারা অনুযায়ী এই সকল শরণার্থীরা "নিজেদের প্রতিবেশীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে" বসবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করলে নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকার রাখেন।

জাতিস্ংঘের সংজ্ঞা মতে, "১৯৪৬ সালের ১লা জুন থেকে ১৯৪৮ সালের ১৫ই মে সময়কালে ফিলিস্তিনে সাধারণভাবে বসবাসরত এবং ১৯৪৮ সালের দ্বন্দ্বে বস্তুচ্যূত হওয়া ফিলিস্তিন বাসিন্দা"রা ফিলিস্তিনের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।

এখন পর্যন্ত অনেক ফিলিস্তিনী এরকম শরণার্থী শিবিরে থেকে গেছেন। যদিও অন্যান্যরা জর্দানের সমাজে মিশে গেছেন, কেউবা ফিলিস্তিনী অধ্যুষিত অঞ্চলে বসতি গড়েছেন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৪৮ সালে সংঘটিত ফিলিস্তিন যুদ্ধের সময় ৭,০০,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি গৃহহীন হয়েছিল।[১] ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে ফিলিস্তিনের মোট উদ্বাস্তু সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।[২] তবে পরবর্তীতে গঠিত ইসরায়েলের ভূখন্ড থেকে ৮০%-এর কাছাকাছি আরব বাসিন্দা গৃহহীন হয়েছিল।[৩][৪] ইহুদিদের সামরিক আগ্রাসন, আরব গ্রামগুলিতে হামলা, দেইর ইয়াসিন গণহত্যার মত আরেকটি গণহত্যার ভয়সহ বিভিন্ন কারণে ফিলিস্তিনি বাস্তুহারা হয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়।[৫]:২৩৯–২৪০[৬][৭] পরবর্তীতে ইসরায়েলের প্রথম সরকারের জারিকৃত আইনসমূহে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদেরকে দেশটিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে ততকালীন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি ও তাদের বংশধররা ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুতে পরিণত হয় এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়।[৮][৯]

জাতিসংঘের ভূমিকা[সম্পাদনা]

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা, ইউএনআরডাব্লিউএ জর্দান, লেবানন, সিরিয়া, গাজা ভূখণ্ড এবং পশ্চিম তীরএর মোট ৫৯টি শরণার্থী শিবিরকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৪৮ সালের সংঘাত পরবর্তীকালে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও এই সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করে। ১৯৫২ সালে দেশটির কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ন দায়িত্ব নিজেরা তুলে নেয়ার আগ পর্যন্ত সংগঠনটি ত্রাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিল।

জাতিসংঘ কর্তৃক শরণার্থী শিবির তৈরির পূর্বে ত্রাতা রাষ্ট্র এবং ইউএনআরডাব্লিউএ-এর কর্তৃপক্ষের মাঝে সমঝোতা হয়। সংগঠনটি নিজেরা কোন শরণার্থী শিবির পরিচালনা করে না, নিজেদের পুলিশ জনবল নেই কিংবা প্রাশাসনিক ক্ষমতাবলও নেই, তারা শুধুমাত্র সেবা প্রদানকারী। তাবুঘেরা শহর, কনক্রিটের ব্লক ঘর, শহুরে বস্তিসহ বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে।

শরণার্থী শিবির সংখ্যা[সম্পাদনা]

এই তালিকায় ২০১৪ সালে শরণার্থী শিবিরগুলোর জনসংখ্যা এবং প্রতিষ্ঠাকাল লিপিবদ্ধ করা হল:[১০]

গাজা ভূখন্ড[সম্পাদনা]

গাজা ভূখন্ডে ৮টি শরণার্থী শিবিরে ১,১২২,১১০ নিবন্ধিত শরণার্থীরয়েছে।

  • ১৯৪৮, আল-শাতি (সৈকত শিবির) ৮৭,০০০
  • ১৯৪৯, বুরেজি, ৩৪,০০০
  • ১৯৪৮, দাইর আল-বালাহ শিবির, ২১,০০০
  • ১৯৪৮, জাবাইলা শিবির, ১১০,০০০
  • ১৯৪৯, খান ইউনুস শিবির, ৭২,০০০
  • ১৯৪৯, মাঘাজি, ২৪,০০০
  • ১৯৪৯, নুসাইরাত শিবির, ৬৬,০০০
  • ১৯৪৯, রাফাহ শিবির, ১০৪,০০০

পশ্চিম তীর[সম্পাদনা]

পশ্চিম তীরে ১৯টি শরণার্থী শিবিরে ৭৪১,৪০৯ নিবন্ধিত শরণার্থীর বসবাস। এর মাঝে একটি শিবির অপ্রাতিষ্ঠানিক (*)।

  • ১৯৪৮, আকাবাত জাবের, ৬,৪০০
  • ১৯৪৮, আইন আস-সুলতান, ১,৯০০,
  • ১৯৪৮, ক্কাদ্দুরা শিবির*, ১,৫৫৮
  • ১৯৪৯, ফার'আ, ৭,৬০০
  • ১৯৪৯, ফাওয়ার, ৮,০০০
  • ১৯৪৯, জালাযোন,১১,০০০
  • ১৯৪৯, কালান্দিয়া, ১১,০০০
  • ১৯৪৯, আম'আরি, ১৯,৫০০
  • ১৯৪৯, দাইর আম্মার শিবির 2,400
  • ১৯৪৯, ধাইশেহ, ১৩,০০০
  • ১৯৫০, আইদা, ৪,৭০০
  • ১৯৫০, আল- আররউন, ১০,৪০০
  • ১৯৫০, আসকার,১৫,৯০০
  • ১৯৫০, বালাতা, ২৩,৬০০
  • ১৯৫০, আজ্জা (বাইত জিবরিন), ১০০০
  • ১৯৫০, আইন বাইত আল মা (শিবির নম্বর ১), ৬,৭৫০
  • ১৯৫০, তুলকারা শিবির, ১৮,০০০
  • ১৯৫২, নূর শামস, ৯,০০০
  • ১৯৫৩, জেনিন শিবির,১৬,০০০
  • ১৯৬৫, শুয়াফাত শিবির, ১১,০০০

সিরিয়া[সম্পাদনা]

সিরিয়ার ১৩ টি শরণার্থী শিবিরে ৪৯৯,১৮৯ লোকের বসবাস।

লেবানন[সম্পাদনা]

লেবাননে ১২টি শরিণার্থী শিবিরে মোট ৪৪৮,৫৯৯ নিবন্ধিত শরণার্থী রয়েছে।

  • ১৯৪৮,বুর্জ এল-বারাজনেম ১৭,৯৪৫
  • ১৯৪৮,আইন আল-হিলভে, ৫৪, ১১৬
  • ১৯৪৮, এল বুস, ১১,২৫৪
  • ১৯৪৯, নাহর আল-বারেদ, ৫,৮৫৭
  • ১৯৪৯, শাতিলা, ৯,৮৪২
  • ১৯৪৮, ওয়াভেল, ৮,৮০৬
  • ১৯৫২, মার এলিয়াস, ৬৬২
  • ১৯৫৪, মিয়ে মিয়ে,৫,২৫০
  • ১৯৫৫, বেদ্দাভি, ১৬,৫০০
  • ১৯৫৫, বুর্জ এল-শেমালি, ২২,৭৮৯
  • ১৯৫৬, বায়েহ শিবির, ৪,৩৫১
  • ১৯৬৩, রাশীদিয়ে, ৩১,৪৭৮

জর্ডান[সম্পাদনা]

জর্ডানে মোট ১০টি শরণার্থী শিবির আছে। এই শিবিরগুলোতে নিবন্ধিত শরণার্থী সংখ্যা ২,০৩৪,৬৪১

  • ১৯৪৯, জারক্কা শিবির, ২০,০০০
  • ১৯৫২, জাবাল এই-হুসেইন, ২৯,০০০
  • ১৯৫৫, আম্মান নতুন শিবির (ভিহদাত),৫১,৫০০
  • ১৯৬৭, সৌ'ফ, ২০,০০০
  • ১৯৬৮, বাক'আ, ১০৪,০০০
  • ১৯৬৮, হুসন (শহীদ আজমি - এল-মুফতি শিবির), ২২,০০০
  • ১৯৮৬৮, ইরবিদ শিবির, ২৫,০০০
  • ১৯৬৮, জেরাশ শিবির, ২৪,০০০
  • ১৯৬৮, মারকা, ৫৩,০০০
  • ১৯৬৮, তালবিয়্যে, ৭,০০০

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. McDowall, David; Claire Palley (১৯৮৭)। The PalestiniansMinority Rights Group Report no 24। পৃষ্ঠা 10। আইএসবিএন 0-946690-42-1 
  2. Pedahzur, Ami; Perliger, Arie (২০১০)। "The Consequences of Counterterrorist Policies in Israel"। Crenshaw, Martha। The Consequences of Counterterrorism। New York: Russell Sage Foundation। পৃষ্ঠা 356। আইএসবিএন 978-0-87154-073-7। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১১ 
  3. Masalha, Nur (1992). "Expulsion of the Palestinians." Institute for Palestine Studies, this edition 2001, p. 175.
  4. Rashid Khalidi (সেপ্টেম্বর ১৯৯৮)। Palestinian identity: the construction of modern national consciousness। Columbia University Press। পৃষ্ঠা 21–। আইএসবিএন 978-0-231-10515-6। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১১  "In 1948 half of Palestine's… Arabs were uprooted from their homes and became refugees"
  5. Morris, Benny. "The Birth of the Palestinian Refugee Problem Revisited," Cambridge University Press, 2004. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৮১১২০-০
  6. Schechtman, Joseph (১৯৫২)। The Arab Refugee Problem। New York: Philosophical Library। পৃষ্ঠা 4। 
  7. Pittsburg Press (মে ১৯৪৮)। "British Halt Jerusalem Battle"। UP। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১০The British spokesman said that all 12 members of the Arab Higher Committee have left Palestine for neighboring Arab states… Walter Eyelan, the Jewish Agency spokesman, said the Arab leaders were victims of a "flight psychosis" which he said was sweeping Arabs throughout Palestine. 
  8. Kodmani-Darwish, p. 126; Féron, Féron, p. 94.
  9. UNRWA। "Overview"United Nations Relief and Works Agency। United Nations Relief and Works Agency for Palestine Refugees। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০১১ 
  10. "Where We Work - UNRWA"UNRWA। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০১৪ 

বহিঃসূত্র[সম্পাদনা]

মানচিত্র[সম্পাদনা]