বিষয়বস্তুতে চলুন

পুনর্নিবেশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ফিডব্যাক থেকে পুনর্নির্দেশিত)
একটি পুনর্নিবেশ চক্র—প্রক্রিয়ার নির্গমন কার্যকারণ নিবেশ হিসেবে ফেরত আসে।

পুনর্নিবেশ বা ফিডব্যাক (ইংরেজি: Feedback) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো ব্যবস্থার নির্গমন বা ফলাফলকে—কার্যকারণ সম্পর্কের একটি শৃঙ্খলের অংশ হিসেবে—পুনরায় নিবেশ হিসেবে সেই ব্যবস্থায় ফেরত পাঠানো হয়, যার ফলে একটি বর্তনী বা চক্র (loop) গঠিত হয়।[] তখন বলা যায় যে ব্যবস্থাটি নিজের মধ্যেই তথ্য ফিড ব্যাক করছে। পুনর্নিবেশ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কার্যকারণের ধারণাটি সতর্কতার সাথে প্রয়োগ করতে হয়:

একটি পুনর্নিবেশ ব্যবস্থায় প্রচলিত কার্যকারণ যুক্তি প্রয়োগ করা কঠিন, কারণ প্রথম ব্যবস্থাটি দ্বিতীয়টিকে প্রভাবিত করে এবং দ্বিতীয়টি প্রথমটিকে—ফলে সৃষ্টি হয় বৃত্তাকার যুক্তি। এটি কার্যকারণভিত্তিক অনুমানকে জটিল করে তোলে; তাই সামগ্রিকভাবে ব্যবস্থাটিকে বিশ্লেষণ করা আবশ্যক। ওয়েবস্টারের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ফিডব্যাক হলো কোনো কাজ, ঘটনা বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে মূল্যায়নমূলক বা সংশোধনমূলক তথ্য মূল বা নিয়ন্ত্রণকারী উৎসের কাছে প্রেরণ করা।[]

কার্ল জোহান অস্ট্রম এবং রিচার্ড এম. মারে, ফিডব্যাক সিস্টেমস: বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীদের জন্য একটি ভূমিকা[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

স্ব-নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা প্রাচীনকাল থেকেই বিদ্যমান ছিল এবং অষ্টাদশ শতকের মধ্যে ব্রিটেনে অর্থনৈতিক তত্ত্বে পুনর্নিবেশের ধারণা প্রবেশ করতে শুরু করে, তবে সেই সময়ে এটি একটি সর্বজনীন বিমূর্ত ধারণা হিসেবে স্বীকৃত ছিল না; ফলে এর কোনো সুনির্দিষ্ট নামও ছিল না।[]

বিশ্বের প্রথম পরিচিত কৃত্রিম পুনর্নিবেশ যন্ত্রটি ছিল একটি ভাসমান কপাট বা ভাসমান কপাটকা, যা খ্রিষ্টপূর্ব ২৭০ অব্দে মিশরের আলেক্সান্দ্রিয়ায় আবিষ্কৃত হয়। এটি পানির স্তর ধ্রুবক বা স্থির রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো।[] এই যন্ত্রটি পুনর্নিবেশের নীতিকে চিত্রিত করে: পানির স্তর নিচে নেমে গেলে কপাটকাটি খুলে যায়, এরপর পানির স্তর বৃদ্ধি পেলে তা ব্যবস্থায় পুনর্নিবেশ প্রদান করে এবং প্রয়োজনীয় স্তরে পৌঁছালে কপাটকাটি বন্ধ হয়ে যায়। পানির স্তরের উঠানামার সাথে সাথে এই প্রক্রিয়াটি বৃত্তাকারে চলতে থাকে।[]

১৭শ শতাব্দী থেকে উইন্ডমিল বা বায়ুকলে জাঁতার পাথরগুলোর (millstone) মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্রবিমুখী গভর্নর ব্যবহৃত হতো। ১৭৮৮ সালে, জেমস ওয়াট তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার ম্যাথিউ বোল্টনের পরামর্শে বাষ্পীয় ইঞ্জিনে ব্যবহারের জন্য তাঁর প্রথম কেন্দ্রবিমুখী গভর্নর নকশা করেন। প্রাথমিক বাষ্পীয় ইঞ্জিনগুলো বিশুদ্ধভাবে রেসিপ্রোকেটিং মোশন বা অগ্র-পশ্চাৎ গতি ব্যবহার করত এবং পানি পাম্প করার জন্য ব্যবহৃত হতো—যেখানে কাজের গতিতে তারতম্য থাকলেও সমস্যা হতো না। কিন্তু অন্যান্য প্রয়োগে বাষ্পীয় ইঞ্জিনের ব্যবহারের জন্য গতির আরও সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন ছিল।

১৮৬৮ সালে, জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল "অন গভর্নরস" (On Governors) নামে একটি বিখ্যাত গবেষণাপত্র লেখেন, যা পুনর্নিবেশ নিয়ন্ত্রণ তত্ত্বে একটি ধ্রুপদী বা ক্লাসিক কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।[] এটি ছিল নিয়ন্ত্রণ তত্ত্ব এবং পুনর্নিবেশের গণিতের ওপর একটি যুগান্তকারী গবেষণাপত্র।

১৮৬০-এর দশকের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসা বোঝাতে টু ফিড ব্যাক (to feed back) ক্রিয়াটি ব্যবহৃত হতে থাকে।[][] ১৯০৯ সালে, নোবেল বিজয়ী কার্ল ফার্ডিনান্ড ব্রাউন বৈদ্যুতিন বর্তনীর উপাদানসমূহের মধ্যে (অবাঞ্ছিত) সংযোগ বোঝাতে বিশেষ্য হিসেবে "পুনর্নিবেশ" শব্দটি ব্যবহার করেন।[]

১৯১২ সালের শেষের দিকে, প্রাথমিক বৈদ্যুতিন বিবর্ধক (অডিয়ন টিউব) ব্যবহারকারী গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, নির্গমন সংকেতের কিছু অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে নিবেশ বর্তনীতে ফেরত পাঠালে বিবর্ধন বৃদ্ধি পায় (রিজেনারেশন বা পুনর্জন্মের মাধ্যমে), তবে এর ফলে অডিয়নটি শব্দ বা চিৎকার করতে শুরু করে।[১০] নির্গমন থেকে নিবেশে সংকেত ফেরত পাঠানোর এই ক্রিয়া থেকেই ১৯২০ সালের মধ্যে "ফিডব্যাক" শব্দটি একটি স্বতন্ত্র শব্দ হিসেবে প্রচলিত হয়।[১০]

১৯৪০-এর দশক থেকে সাইবারনেটিক্স-এর বিকাশ মূলত বৃত্তাকার কার্যকারণ পুনর্নিবেশ কার্যপদ্ধতির অধ্যয়নের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

দীর্ঘকাল ধরে পুনর্নিবেশের সর্বোত্তম সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক বিদ্যমান। সাইবারনেটিক্সবিদ অ্যাশবি (১৯৫৬)-এর মতে, গণিতবিদ ও তাত্ত্বিকেরা—যারা পুনর্নিবেশ কার্যপদ্ধতির নীতিতে আগ্রহী—"ক্রিয়ার বৃত্তাকারতা" (circularity of action)-এর সংজ্ঞাকে অগ্রাধিকার দেন, কেননা এটি তত্ত্বকে সহজ ও সুসংগত রাখে। বিপরীতক্রমে, ব্যবহারিক লক্ষ্যযুক্তদের মতে পুনর্নিবেশ হলো কোনো বাস্তব সংযোগের মাধ্যমে ঘটা একটি ইচ্ছাকৃত প্রভাব।

[ব্যবহারিক পরীক্ষকরা] গণিতবিদের সংজ্ঞায় আপত্তি জানান, এই বলে যে এটি তাদের সাধারণ পেন্ডুলামে... তার অবস্থান এবং ভরবেগের মধ্যে ফিডব্যাক আছে বলে মেনে নিতে বাধ্য করবে—একটি "ফিডব্যাক" যা ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুটা রহস্যময়। এর উত্তরে গণিতবিদ বলেন যে যদি ফিডব্যাককে কেবল তখনই উপস্থিত বলে ধরা হয় যখন সেখানে প্রকৃত কোনো তার বা স্নায়ু থাকে, তবে তত্ত্বটি বিশৃঙ্খল এবং অপ্রাসঙ্গিকতায় পূর্ণ হয়ে যায়।[১১](p54)

ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের প্রেক্ষাপটে, রামপ্রসাদ (১৯৮৩) পুনর্নিবেশকে সংজ্ঞায়িত করেন এভাবে: "...কোনো ব্যবস্থার প্রাচলের প্রকৃত স্তর এবং কাঙ্ক্ষিত স্তরের মধ্যে ব্যবধান সম্পর্কে তথ্য", যা "কোনোভাবে সেই ব্যবধান পরিবর্তনে" প্রয়োগ করা হয়। তিনি জোর দেন যে, তথ্য কেবল তখনই পুনর্নিবেশ বলে গণ্য হয় যখন তা কর্মে রূপান্তরিত হয়।[১২]

প্রকারভেদ

[সম্পাদনা]

ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ

[সম্পাদনা]
নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যাঘাত সত্ত্বেও ঋণাত্মক পুনর্নিবেশের মাধ্যমে ব্যবস্থার ত্রুটি হ্রাস।
লক্ষ্য বা গোল সহ একটি ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ চক্রের উদাহরণ।
ধনাত্মক পুনর্নিবেশ চক্রের উদাহরণ।


ধনাত্মক পুনর্নিবেশ (Positive feedback): যখন নির্গমন থেকে আগত সংকেতটি নিবেশ সংকেতের সাথে 'সমদশায় (in-phase) থাকে, তখন তাকে ধনাত্মক পুনর্নিবেশ বলা হয়।

ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ (Negative feedback): যখন সংকেতটি নিবেশ সংকেতের সাপেক্ষে ১৮০° 'বিপরীত দশায় (out of phase) থাকে, তখন তাকে ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ বলা হয়।

ঋণাত্মক পুনর্নিবেশের উদাহরণ হিসেবে, চিত্রটি একটি গাড়ির ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে উপস্থাপন করতে পারে, যা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য গতির (যেমন গতিসীমা) সাথে গাড়ির গতি মিলিয়ে রাখে। এখানে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাটি হলো গাড়ি; এর নিবেশে ইঞ্জিনের টর্ক এবং রাস্তার ঢাল পরিবর্তনের (ব্যাঘাত) সম্মিলিত টর্ক অন্তর্ভুক্ত থাকে। গাড়ির গতি (অবস্থা) একটি স্পিডোমিটার বা গতিমাপক দ্বারা পরিমাপ করা হয়। ত্রুটি সংকেত হলো গতিমাপক-পরিমিত গতি এবং লক্ষ্য গতির (সেট পয়েন্ট) মধ্যকার পার্থক্য। নিয়ন্ত্রক গতি বিশ্লেষণ করে গতিবর্ধক সমন্বয় করে এবং ইঞ্জিনে জ্বালানি প্রবাহের নির্দেশ দেয় (প্রভাবক)। ফলশ্রুতিতে, ইঞ্জিনের টর্কের পরিবর্তন (পুনর্নিবেশ) রাস্তার ঢাল পরিবর্তনজনিত টর্কের সাথে মিলিত হয়ে গতির ত্রুটি কমায় এবং ঢালের পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাস করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে "ধনাত্মক" এবং "ঋণাত্মক" শব্দদ্বয় প্রথমবারের মতো পুনর্নিবেশের ক্ষেত্রে প্রযোগ করা হয়েছিল। ধনাত্মক পুনর্নিবেশের ধারণাটি ১৯২০-এর দশকেই বিদ্যমান ছিল, যখন রিজেনারেটিভ সার্কিট তৈরি হয়েছিল।[১৩] ফ্রিস এবং জেনসেন (১৯২৪) বৈদ্যুতিন বিবর্ধকের সেটে এই বর্তনীটিকে এমন একটি ক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন যেখানে "ফিড-ব্যাক" ক্রিয়াটি ধনাত্মক, যা ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ ক্রিয়ার বিপরীত (যা তারা কেবল প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করেছিলেন)।[১৪] হ্যারল্ড স্টিফেন ব্ল্যাক-এর ১৯৩৪ সালের ক্লাসিক গবেষণাপত্রে বৈদ্যুতিন বিবর্ধকে ঋণাত্মক পুনর্নিবেশের ব্যবহারের বিস্তারিত প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। ব্ল্যাকের মতে:

ধনাত্মক পুনর্নিবেশ বিবর্ধকের লব্ধি বা লাভ বৃদ্ধি করে, ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ তা হ্রাস করে।[১৫]

মিনডেল (২০০২) এর মতে, এর ঠিক পরেই পরিভাষা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়:

... ফ্রিস এবং জেনসেন ব্ল্যাকের ব্যবহৃত "ধনাত্মক পুনর্নিবেশ" এবং "ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ"-এর মধ্যে একই পার্থক্য করেছিলেন, যা পুনর্নিবেশের চিহ্নের ওপর ভিত্তি করে নয় বরং বিবর্ধকের লব্ধির ওপর এর প্রভাবের ভিত্তিতে ছিল। এর বিপরীতে, নাইকুইস্ট এবং বোড, যখন তারা ব্ল্যাকের কাজের ওপর ভিত্তি করে কাজ করছিলেন, ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ বলতে বিপরীত চিহ্নযুক্ত পুনর্নিবেশকে বুঝিয়েছিলেন। ব্ল্যাককে তার আবিষ্কারের উপযোগিতা সম্পর্কে অন্যদের বোঝাতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল কারণ সংজ্ঞার মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল।[১৩](p121)

এমনকি এই শব্দসমূহ প্রচলিত হওয়ার আগেই, জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল বাষ্পীয় ইঞ্জিনে ব্যবহৃত কেন্দ্রবিমুখী গভর্নর-এর সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরণের "উপাদান গতি" (component motion)-র মাধ্যমে তাদের ধারণা বর্ণনা করেছিলেন। তিনি পার্থক্য করেছিলেন এমন উপাদান গতির মধ্যে যা ব্যাঘাত, ঢেউ বা দোলনের বিস্তারের ক্রমাগত বৃদ্ধি ঘটায় এবং যা একই গুণের হ্রাস ঘটায়।[১৬]

পরিভাষা

[সম্পাদনা]

ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ শব্দগুলো বিভিন্ন শৃঙ্খলার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

  1. কোনো প্রাচল বা বৈশিষ্ট্যের রেফারেন্স (কাঙ্ক্ষিত) এবং প্রকৃত মানের মধ্যে ব্যবধানের পরিবর্তন, ব্যবধানটি প্রশস্ত হচ্ছে (ধনাত্মক) নাকি সংকুচিত হচ্ছে (ঋণাত্মক) তার ওপর ভিত্তি করে।[১২]
  2. ক্রিয়া বা প্রভাব-এর ভ্যালেন্স বা আবেগীয় মান যা ব্যবধান পরিবর্তন করে, এটি প্রাপক বা পর্যবেক্ষককে সুখী (ধনাত্মক) নাকি অসুখী (ঋণাত্মক) করে তার ওপর ভিত্তি করে।[১৭]

এই দুটি সংজ্ঞা বিভ্রান্তিকর হতে পারে, যেমন যখন দুর্বল কর্মক্ষমতা বাড়ানোর (ব্যবধান কমানোর) জন্য কোনো প্রণোদনা (পুরস্কার) ব্যবহার করা হয়। সংজ্ঞা ১-এর ক্ষেত্রে, কিছু লেখক বিকল্প শব্দ ব্যবহার করেন, ইতিবাচক এবং নেতিবাচক-এর পরিবর্তে যথাক্রমে স্ব-শক্তিশালীকরণ (self-reinforcing) এবং স্ব-সংশোধনকারী (self-correcting),[১৮] শক্তিশালীকরণ (reinforcing) এবং ভারসাম্যপূর্ণ (balancing),[১৯] পার্থক্য-বর্ধক (discrepancy-enhancing) এবং পার্থক্য-হ্রাসকারী (discrepancy-reducing)[২০] অথবা রিজেনারেটিভ এবং ডিজেনারেটিভ[২১] ব্যবহার করেন। এবং সংজ্ঞা ২-এর জন্য, কিছু লেখক ক্রিয়া বা প্রভাবকে পুনর্নিবেশের পরিবর্তে ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক রিইনফোর্সমেন্ট বা শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করার পক্ষে।[১২][২২] তবুও, একটি শৃঙ্খলার মধ্যেও পুনর্নিবেশের উদাহরণকে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক বলা যেতে পারে, মানগুলো কীভাবে পরিমাপ বা উল্লেখ করা হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে।[২৩]

এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে কারণ পুনর্নিবেশ তথ্য প্রদান করতে বা অনুপ্রাণিত করতে ব্যবহৃত হতে পারে, এবং প্রায়শই এতে গুণগত এবং পরিমাণগত উভয় উপাদান থাকে। যেমনটি কানেলান এবং জেমকে (১৯৯৩) বলেছেন:

পরিমাণগত পুনর্নিবেশ আমাদের বলে কতটা এবং কতগুলি। গুণগত পুনর্নিবেশ আমাদের বলে কেমন ভালো, খারাপ বা উদাসীন।[২৪](p102)

ঋণাত্মক এবং ধনাত্মক পুনর্নিবেশের সীমাবদ্ধতা

[সম্পাদনা]

যদিও সরল ব্যবস্থাকে কখনো কখনো এক বা অন্য প্রকারের বলে বর্ণনা করা যায়, পুনর্নিবেশ চক্রযুক্ত অনেক ব্যবস্থাকে কোনো নির্দিষ্ট প্রকারে আরোপিত করা সম্ভব হয় না—বিশেষত যখন একাধিক চক্র বিদ্যমান থাকে।

যখন কেবল দুটি অংশ এমনভাবে যুক্ত থাকে যে প্রত্যেকে অন্যকে প্রভাবিত করে, তখন পুনর্নিবেশের বৈশিষ্ট্যগুলি সমগ্রের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ এবং দরকারি তথ্য দেয়। কিন্তু যখন অংশের সংখ্যা চারের মতো অল্পও হয়, যদি প্রত্যেকে অন্য তিনটিকে প্রভাবিত করে, তবে তাদের মধ্যে বিশটি বর্তনী চিহ্নিত করা যেতে পারে; এবং সমস্ত বিশটি বর্তনীর বৈশিষ্ট্য জানলেও ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় না।[১১](p54)

অন্যান্য ধরনের পুনর্নিবেশ

[সম্পাদনা]

সাধারণভাবে, পুনর্নিবেশ ব্যবস্থায় অনেক সংকেত ফেরত পাঠানো হতে পারে এবং পুনর্নিবেশ চক্রে প্রায়শই ধনাত্মক ও ঋণাত্মক পুনর্নিবেশের মিশ্রণ থাকে, যেখানে ব্যবস্থার অবস্থা-ক্ষেত্রের বিভিন্ন কম্পাঙ্কে বা বিভিন্ন বিন্দুতে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে।

দ্বিমেরু পুনর্নিবেশ (bipolar feedback) শব্দটি জৈবিক তন্ত্রের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ তন্ত্রসমূহ পরস্পর মিথস্ক্রিয়া করতে পারে এবং একে অপরের নিবেশ ও নির্গমনকে প্রভাবিত করে।[২৫]

পুনর্নিবেশযুক্ত কিছু ব্যবস্থায় অত্যন্ত জটিল আচরণ দেখা যেতে পারে, যেমন অরৈখিক (non-linear) ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খল আচরণ; আবার অন্যগুলোতে অনেক বেশি অনুমানযোগ্য আচরণ দেখা যায়, যেমন ডিজিটাল ব্যবস্থার নকশা ও নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।

ডিজিটাল ব্যবস্থায় পুনর্নিবেশ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাইনারি গণক (counter) ও অনুরূপ যন্ত্রে পুনর্নিবেশ প্রযুক্ত হয়, যেখানে বর্তমান অবস্থা ও নিবেশসমূহ নতুন অবস্থা গণনায় ব্যবহৃত হয় এবং তা যন্ত্রে পুনরায় প্রেরণ করে ক্লক সংকেতের মাধ্যমে হালনাগাদ করা হয়।

প্রয়োগ

[সম্পাদনা]

গণিত এবং গতিশীল ব্যবস্থা

[সম্পাদনা]
পুনর্নিবেশ অত্যন্ত জটিল আচরণ সৃষ্টি করতে পারে। ম্যান্ডেলব্রট সেট (কালো) একটি সরল সমীকরণের পুনরাবৃত্তিমূলক পুনর্নিবেশ থেকে অঙ্কিত।

পুনর্নিবেশ বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে প্রয়োগের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থার আচরণ পরিবর্তন করা সম্ভব; ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল, প্রতিক্রিয়াশীল বা স্থির রাখা যেতে পারে। প্রমাণিত হয়েছে যে পুনর্নিবেশযুক্ত গতিশীল ব্যবস্থা বিশৃঙ্খলা প্রান্তে (edge of chaos) অভিযোজিত হয়।[২৬]

পদার্থবিজ্ঞান

[সম্পাদনা]

ভৌত ব্যবস্থাসমূহ তাদের অংশের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্নিবেশ প্রদর্শন করে। পরীক্ষামূলক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, শব্দবিঘ্ন (noise) হ্রাস এবং সংকেত নিয়ন্ত্রণেও পুনর্নিবেশ প্রাসঙ্গিক।[২৭] ম্যাক্সওয়েলের দানব (Maxwell's demon) থেকে পুনর্নিবেশ-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার তাপগতিবিদ্যা পদার্থবিদদের কৌতূহলী করে তুলেছে, এবং এনট্রপি হ্রাস ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির ফলাফলের ওপর সাম্প্রতিক অগ্রগতি হয়েছে।[২৮][২৯]

জীববিজ্ঞান

[সম্পাদনা]

জৈবিক তন্ত্রে—যেমন জীব, বাস্তুতন্ত্র বা জীবমণ্ডল—অধিকাংশ প্রাচল (parameter) নির্দিষ্ট পরিবেশগত অবস্থায় একটি সর্বোত্তম স্তরের নিকটবর্তী সংকীর্ণ সীমার মধ্যে নিয়ন্ত্রিত থাকতে হয়। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশের পরিবর্তনে প্রাচলের সর্বোত্তম মান থেকে বিচ্যুতি ঘটতে পারে। তদুপরি, পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে তন্ত্রের ক্রিয়াশীলতার জন্য সেই সীমারও পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। প্রাচলের মান একটি গ্রাহক তন্ত্র (receptor system) দ্বারা নথিভুক্ত হয় এবং তথ্য মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ এককে (control module) প্রেরিত হয়। এর একটি উদাহরণ হলো ইনসুলিন স্পন্দন


জৈবিক তন্ত্রে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক—উভয় প্রকারের নিয়ন্ত্রক বর্তনী বিদ্যমান। অন্যান্য প্রসঙ্গের মতো, ধনাত্মকঋণাত্মক বলতে ভালো বা মন্দ প্রভাব বোঝায় না। ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ চক্র কোনো প্রক্রিয়াকে মন্থর করে, অপরদিকে ধনাত্মক পুনর্নিবেশ চক্র সেটিকে ত্বরান্বিত করে। মিরর নিউরনসমূহ সামাজিক পুনর্নিবেশ তন্ত্রের অংশ—যখন কোনো পর্যবেক্ষিত কাজ মস্তিষ্ক দ্বারা "প্রতিফলিত" হয়, যেন কাজটি নিজেই সম্পাদিত হচ্ছে।

বিভিন্ন কোষ-ধরনের মধ্যে সংযোগকারী অণু ও নিঃসৃত অণুসমূহের (মধ্যস্থতাকারী) মাধ্যমে পুনর্নিবেশ মিথস্ক্রিয়া দ্বারা সুস্থ কলার (tissue) অখণ্ডতা সংরক্ষিত হয়; ক্যান্সারে মূল পুনর্নিবেশ কার্যপদ্ধতির ব্যর্থতা কলার কার্যকারিতা ব্যাহত করে।[৩০] আহত বা সংক্রমিত টিস্যুতে, প্রদাহজনক মধ্যস্থতাকারীরা কোষে পুনর্নিবেশ প্রতিক্রিয়া জাগিয়ে তোলে, যা জিনের প্রকাশ পরিবর্তন করে এবং প্রকাশিত ও নিঃসৃত অণুগুলোর গ্রুপ পরিবর্তন করে, যার মধ্যে এমন অণু অন্তর্ভুক্ত থাকে যা বিভিন্ন কোষকে সহযোগিতা করতে এবং টিস্যুর গঠন ও কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করতে প্ররোচিত করে। এই ধরণের পুনর্নিবেশ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া এবং সংক্রমণ ও আঘাত থেকে পুনরুদ্ধারের সমন্বয় সক্ষম করে। ক্যান্সারের সময়, এই পুনর্নিবেশের মূল উপাদানগুলো ব্যর্থ হয়। এটি টিস্যুর কার্যকারিতা এবং অনাক্রম্যতা ব্যাহত করে।[৩১][৩২]

ব্যাকটেরিয়াতে পুনর্নিবেশের কৌশলগুলো প্রথম ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, যেখানে একটি পুষ্টি উপাদান তাদের কিছু বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপে পরিবর্তন আনে।[৩৩] জিন এবং জিন রেগুলেটরি নেটওয়ার্ক-এর ক্রিয়াকলাপেও পুনর্নিবেশ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। রিপ্রেসার (দেখুন ল্যাক রিপ্রেসার) এবং অ্যাক্টিভেটর প্রোটিন ব্যবহার করে জেনেটিক অপেরন তৈরি করা হয়, যা ১৯৬১ সালে ফ্রাঁসোয়া জ্যাকব এবং জ্যাক মনোদ পুনর্নিবেশ চক্র হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।[৩৪] এই পুনর্নিবেশ চক্রগুলো ধনাত্মক হতে পারে (যেমন চিনির অণু এবং প্রোটিনগুলোর মধ্যে সংযোগের ক্ষেত্রে যা ব্যাকটেরিয়াল কোষে চিনি আমদানি করে), অথবা ঋণাত্মক হতে পারে (যেমন প্রায়শই বিপাকীয় খরচের ক্ষেত্রে হয়)।

বৃহত্তর স্কেলে, বাহ্যিক পরিবর্তনের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হলেও প্রাণীর জনসংখ্যার ওপর পুনর্নিবেশের স্থিতিশীল প্রভাব থাকতে পারে, যদিও পুনর্নিবেশ প্রতিক্রিয়ায় সময়ের বিলম্ব শিকারি-শিকার চক্রের জন্ম দিতে পারে।[৩৫]

জাইমোলজি বা এনজাইমোলজিতে, বিপাকীয় পথে সরাসরি উৎপাদিত পণ্য বা পরবর্তী বিপাক দ্বারা এনজাইমের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পুনর্নিবেশ কাজ করে (দেখুন অ্যালোস্টেরিক নিয়ন্ত্রণ)।

হাইপোথ্যালামিক–পিটুইটারি–অ্যাড্রেনাল অক্ষ মূলত ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যার অনেকটাই এখনও অজানা।

মনোবিজ্ঞানে, শরীর পরিবেশ থেকে বা অভ্যন্তরীণভাবে একটি উদ্দীপনা পায় যা হরমোন নিঃসরণ ঘটায়। হরমোন নিঃসরণের ফলে আরও বেশি হরমোন নিঃসৃত হতে পারে, যা একটি ধনাত্মক পুনর্নিবেশ চক্র তৈরি করে। এই চক্রটি নির্দিষ্ট আচরণেও পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, যারা সহজেই লজ্জিত হয় তাদের মধ্যে "লজ্জার চক্র" দেখা যায়। যখন তারা বুঝতে পারে যে তারা লজ্জিত হচ্ছে, তখন তারা আরও বেশি বিব্রত বোধ করে, যা আরও লজ্জার দিকে নিয়ে যায় এবং এভাবেই চলতে থাকে।[৩৬]

জলবায়ু বিজ্ঞান

[সম্পাদনা]
বিশ্ব উষ্ণায়নের কিছু প্রভাব উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত (ধনাত্মক পুনর্নিবেশ) বা বাধাগ্রস্ত (ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ) করতে পারে।[৩৭][৩৮]

জলবায়ু ব্যবস্থা বায়ুমণ্ডল, মহাসাগর এবং স্থলের অবস্থাকে প্রভাবিত করে এমন প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে শক্তিশালী ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ চক্র দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। একটি সাধারণ উদাহরণ হলো বরফ–আলবেডো ধনাত্মক পুনর্নিবেশ চক্র যেখানে বরফ গলে গেলে আরও অন্ধকার মাটি উন্মুক্ত হয় (যার আলবেডো কম), যা ফলস্বরূপ তাপ শোষণ করে এবং আরও বরফ গলার কারণ হয়।

নিয়ন্ত্রণ তত্ত্ব

[সম্পাদনা]

নিয়ন্ত্রণ তত্ত্বে পুনর্নিবেশ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে অবস্থা স্থান (state space), পূর্ণ অবস্থা পুনর্নিবেশ (full state feedback) ইত্যাদি বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। নিয়ন্ত্রণ তত্ত্বের প্রেক্ষাপটে, "পুনর্নিবেশ" বলতে প্রথাগতভাবে "ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ" বোঝানো হয়।[৩৯]

নিয়ন্ত্রণ-চক্র পুনর্নিবেশ কৌশল ব্যবহার করা সবচেয়ে সাধারণ সাধারণ-উদ্দেশ্যমূলক নিয়ন্ত্রক হলো সমানুপাতিক-সমাকলনীয়-অবকলনীয় (পিআইডি) নিয়ন্ত্রক। স্বজ্ঞাতভাবে, একটি পিআইডি কন্ট্রোলারের শর্তাবলী সময়ের সাথে সম্পর্কিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে: প্রোপোরশনাল বা সমানুপাতিক শব্দটি বর্তমান ত্রুটির ওপর নির্ভর করে, ইন্টিগ্রাল বা সমাকলনীয় শব্দটি অতীত ত্রুটির সঞ্চয়নের ওপর নির্ভর করে এবং ডেরিভেটিভ বা অবকলনীয় শব্দটি পরিবর্তনের বর্তমান হারের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ ত্রুটির একটি পূর্বাভাস।[৪০]


শিক্ষা

[সম্পাদনা]

শিক্ষার প্রেক্ষাপটে পুনর্নিবেশের জন্য, দেখুন সংশোধনমূলক ফিডব্যাক

যন্ত্র প্রকৌশল

[সম্পাদনা]

প্রাচীনকালে, গ্রীক এবং রোমান জলঘড়িতে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে ফ্লোট ভালভ বা ভাসমান কপাট ব্যবহৃত হতো; অনুরূপ ফ্লোট ভালভ কার্বুরেটরে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ফ্লাশ টয়লেটে ট্যাংকের পানির স্তর নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়।

ডাচ উদ্ভাবক কর্নেলিস ড্রেবেল (১৫৭২–১৬৩৩) মুরগির ইনকিউবেটর এবং রাসায়নিক চুল্লির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে থার্মোস্ট্যাট তৈরি করেছিলেন (আনুমানিক ১৬২০)। ১৭৪৫ সালে, কামার এডমন্ড লি উইন্ডমিল বা বায়ুকলের উন্নতি করেছিলেন, যিনি বাতাসের দিকে উইন্ডমিলের মুখ রাখার জন্য একটি ফ্যানটেল যুক্ত করেছিলেন। ১৭৮৭ সালে, টম মিড একটি কেন্দ্রবিমুখী পেন্ডুলাম ব্যবহার করে বেডস্টোন এবং রানার স্টোনের মধ্যে দূরত্ব সামঞ্জস্য করতে (অর্থাৎ, লোড সামঞ্জস্য করতে) উইন্ডমিলের ঘূর্ণন গতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।

১৭৮৮ সালে জেমস ওয়াট তাঁর বাষ্পীয় ইঞ্জিনের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্রবিমুখী গভর্নর-এর ব্যবহার করেছিলেন যা শিল্প বিপ্লবের দিকে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল। বাষ্পীয় ইঞ্জিনগুলো যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম হিসেবে ফ্লোট ভালভ এবং চাপমুক্তি ভালভও ব্যবহার করত। ১৮৬৮ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল ওয়াটের গভর্নরের একটি গাণিতিক বিশ্লেষণ করেছিলেন।[১৬]

গ্রেট ইস্টার্ন ছিল তার সময়ের বৃহত্তম বাষ্পীয় জাহাজগুলোর মধ্যে একটি এবং ১৮৬৬ সালে জন ম্যাকফারলেন গ্রে দ্বারা ডিজাইন করা পুনর্নিবেশ কার্যপদ্ধতিসহ একটি বাষ্পচালিত রাডার ব্যবহার করেছিল। ১৮৭৩ সালে জোসেফ ফারকোট বাষ্পচালিত চালনা ব্যবস্থা বর্ণনায় সার্ভো শব্দটি তৈরি করেছিলেন। হাইড্রোলিক সার্ভোগুলো পরে বন্দুকের অবস্থান ঠিক করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। স্পেরি কর্পোরেশনের এলমার অ্যামব্রোস স্পেরি ১৯১২ সালে প্রথম অটোপাইলট ডিজাইন করেছিলেন। নিকোলাস মিনরস্কি ১৯২২ সালে স্বয়ংক্রিয় জাহাজ স্টিয়ারিংয়ের একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছিলেন এবং পিআইডি কন্ট্রোলার বর্ণনা করেছিলেন।[৪১]

বিংশ শতাব্দীর শেষে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনসমূহ যান্ত্রিক পুনর্নিবেশ কার্যপদ্ধতি যেমন ভ্যাকুয়াম টাইমিং অ্যাডভান্স ব্যবহার করত, কিন্তু ক্ষুদ্র, শক্তিশালী ও সাশ্রয়ী একক-চিপ মাইক্রোকন্ট্রোলার সহজলভ্য হওয়ার পর যান্ত্রিক পুনর্নিবেশ বৈদ্যুতিন ইঞ্জিন ব্যবস্থাপনা তন্ত্র দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

বৈদ্যুতিন প্রকৌশল

[সম্পাদনা]
একটি ফিডব্যাক অ্যামপ্লিফায়ারের সবচেয়ে সহজ রূপটি ইউনিলেটারাল উপাদান দ্বারা গঠিত আদর্শ ব্লক ডায়াগ্রাম দ্বারা উপস্থাপন করা যেতে পারে।[৪২]

বৈদ্যুতিন উপাদান যেমন বিবর্ধক, দোলক এবং অবস্থা-ধারক যুক্তি বর্তনী উপাদান যেমন ফ্লিপ-ফ্লপগণক নকশায় পুনর্নিবেশের ব্যাপক প্রয়োগ রয়েছে। বৈদ্যুতিন পুনর্নিবেশ ব্যবস্থাসমূহ যান্ত্রিক, তাপীয় ও অন্যান্য ভৌত প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

যদি নিয়ন্ত্রণ চক্রে ঘোরার পথে সংকেতটি উল্টে যায়, তবে ব্যবস্থাটিকে ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ বলা হয়;[৪৩] অন্যথায়, পুনর্নিবেশটিকে ধনাত্মক বলা হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের প্রভাব সংশোধন বা হ্রাস করে ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও নির্ভুলতা বাড়াতে প্রায়শই ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ প্রয়োগ করা হয়। ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া জানানোর চেয়ে নিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হলে এই কৌশল ব্যর্থ হতে পারে। তখন সংশোধনকারী সংকেত পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় অতিরিক্ত সংশোধন ঘটতে পারে, ফলে নির্গমন দুলতে (oscillate) বা "হান্ট" (hunt) করতে শুরু করে।[৪৪] যদিও এটি প্রায়শই ব্যবস্থার আচরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল, এই প্রভাবটি বৈদ্যুতিন দোলকে ইচ্ছাকৃতভাবে কাজে লাগানো হয়।

বেল ল্যাবস-এ হ্যারি নাইকুইস্ট পুনর্নিবেশ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নির্ধারণে নাইকুইস্ট স্থিতিশীলতা মানদণ্ড প্রণয়ন করেছিলেন। একটি সহজ কিন্তু কম সাধারণ পদ্ধতি হলো হেন্ড্রিক বোড কর্তৃক উদ্ভাবিত বোড প্লট ব্যবহার করে গেইন মার্জিন ও দশা মার্জিন নির্ধারণ। স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নকশায় প্রায়শই বিবর্ধকের মেরুসমূহের অবস্থান নিয়ন্ত্রণে কম্পাঙ্ক ক্ষতিপূরণ জড়িত থাকে।

বৈদ্যুতিন পুনর্নিবেশ চক্রসমূহ বৈদ্যুতিন যন্ত্রের নির্গমন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়, যেমন বিবর্ধক। নির্গমনের সমগ্র বা কিছু অংশ নিবেশে ফেরত পাঠালে পুনর্নিবেশ চক্র তৈরি হয়। পুনর্নিবেশ না থাকলে যন্ত্রটিকে মুক্ত চক্র (open loop) এবং পুনর্নিবেশ থাকলে আবদ্ধ চক্র (closed loop) বলা হয়।[৪৫]

যখন দুই বা ততোধিক বিবর্ধক ধনাত্মক পুনর্নিবেশ ব্যবহার করে আড়াআড়িভাবে সংযুক্ত করা হয়, তখন জটিল আচরণ সৃষ্টি হতে পারে। এই মাল্টিভাইব্রেটরগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এর মধ্যে রয়েছে:

  • অ্যাস্টেবল বর্তনী, যা দোলক হিসেবে কাজ করে।
  • মনস্টেবল বর্তনী, যাকে একটি অবস্থায় চালিত করা যায় এবং কিছু সময় পর এটি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসে।
  • বাইস্টেবল বর্তনী, যার দুটি স্থিতিশীল অবস্থা রয়েছে এবং এই দুটির মধ্যে পরিবর্তন করা যায়।

ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ

[সম্পাদনা]

ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ ঘটে যখন প্রত্যাবর্তিত নির্গমন সংকেতটি নিবেশ সংকেতের সাপেক্ষে ১৮০° আপেক্ষিক দশায় (উল্টো) থাকে। এই পরিস্থিতিকে কখনো বিপরীত দশা বলা হয়, তবে শব্দটি অন্যান্য দশা পার্থক্য নির্দেশেও ব্যবহৃত হয়, যেমন "৯০° বিপরীত দশা"। নির্গমন ত্রুটি সংশোধন করতে বা অনাকাঙ্ক্ষিত ওঠানামার প্রতি ব্যবস্থাকে সংবেদনহীন করতে ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ প্রয়োগ করা যায়।[৪৬] পুনর্নিবেশ বিবর্ধকে, এই সংশোধন সাধারণত তরঙ্গরূপ বিকৃতি হ্রাস[৪৭] বা নির্দিষ্ট লাভ স্তর প্রতিষ্ঠার জন্য প্রযুক্ত হয়। ঋণাত্মক পুনর্নিবেশ বিবর্ধকের লাভের একটি সাধারণ রাশি হলো অ্যাসিম্পটোটিক গেইন মডেল

ধনাত্মক পুনর্নিবেশ

[সম্পাদনা]

ধনাত্মক পুনর্নিবেশ ঘটে যখন প্রত্যাবর্তিত সংকেতটি নিবেশ সংকেতের সাথে সমদশায় (in phase) থাকে। নির্দিষ্ট লাভ শর্তে, ধনাত্মক পুনর্নিবেশ নিবেশ সংকেতকে এমন মাত্রায় শক্তিশালী করে যে যন্ত্রের নির্গমন তার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সম্ভাব্য অবস্থার মধ্যে দুলতে থাকে। ধনাত্মক পুনর্নিবেশ একটি বর্তনীতে হিস্টেরেসিসও প্রবর্তন করতে পারে, ফলে বর্তনীটি ক্ষুদ্র সংকেত উপেক্ষা করে কেবল বৃহৎ সংকেতে সাড়া দেয়। এটি কখনো ডিজিটাল সংকেত থেকে শব্দবিঘ্ন দূর করতে ব্যবহৃত হয়। কিছু পরিস্থিতিতে, ধনাত্মক পুনর্নিবেশ একটি যন্ত্রকে আটকে রাখতে পারে, অর্থাৎ এমন অবস্থায় পৌঁছাতে পারে যেখানে নির্গমন সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন অবস্থায় আটকে যায়। এই নীতিটি ডিজিটাল বৈদ্যুতিনবিদ্যায় তথ্যের উদ্বায়ী সংরক্ষণে বাইস্টেবল বর্তনী নির্মাণে ব্যাপকভাবে প্রযুক্ত হয়।

সাউন্ড রিইনফোর্সমেন্ট, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম এবং রক সংগীতে কখনো যে তীব্র চিৎকার বা শব্দ শোনা যায় তা শ্রবণযোগ্য পুনর্নিবেশ হিসেবে পরিচিত। কোনো মাইক্রোফোন এমন একটি লাউডস্পিকারের সামনে থাকলে যার সাথে এটি সংযুক্ত, মাইক্রোফোন গৃহীত শব্দ স্পিকার থেকে বেরিয়ে আবার মাইক্রোফোনে ফিরে এসে পুনরায় বিবর্ধিত হয়। চক্র লাভ যথেষ্ট হলে বিবর্ধকের সর্বোচ্চ শক্তিতে তীব্র শব্দ সৃষ্টি হতে পারে।

চক্র লাভ

[সম্পাদনা]

চক্র লাভ (loop gain) হলো একটি পুনর্নিবেশ চক্রের চারপাশে লাভের সমষ্টি, যা অনুপাত বা ডেসিবেলে প্রকাশিত হয়। পুনর্নিবেশ চক্রে, কোনো যন্ত্র, প্রক্রিয়া বা উদ্ভিদ (plant) এর নির্গমন থেকে নমুনা নেওয়া হয় এবং নির্গমনকে উন্নততরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে নিবেশ পরিবর্তনে প্রয়োগ করা হয়। চক্র লাভ, চক্র দশা সরণ সংশ্লিষ্ট ধারণার সাথে মিলিতভাবে, যন্ত্রের আচরণ নির্ধারণ করে—বিশেষত নির্গমন স্থিতিশীল না অস্থিতিশীল, যা দোলন ঘটাতে পারে। বৈদ্যুতিন পুনর্নিবেশ বিবর্ধক বৈশিষ্ট্যায়নে একটি প্রাচল হিসেবে চক্র লাভের গুরুত্ব সর্বপ্রথম ১৯২১ সালে হাইনরিখ বার্কহাউসেন স্বীকৃতি দেন এবং ১৯৩০-এর দশকে বেল ল্যাবস-এ হেন্ড্রিক ওয়েড বোডহ্যারি নাইকুইস্ট এটি আরও বিকশিত করেন।

নিবেশ সংকেতটি মুক্ত-চক্র লাভ A সহ বিবর্ধকে প্রয়োগ করে বিবর্ধিত করা হয়। বিবর্ধকের নির্গমন লাভ B সহ একটি পুনর্নিবেশ জালিকায় প্রয়োগ করে বিবর্ধকের নিবেশ থেকে বিয়োগ করা হয়। চক্র লাভ হলো চক্রের সকল লাভের গুণফল। প্রদর্শিত চিত্রে চক্র লাভ হলো বিবর্ধক ও পুনর্নিবেশ জালিকার লাভের গুণফল, −AB। ঋণাত্মক চিহ্নটি থাকার কারণ পুনর্নিবেশ সংকেতটি নিবেশ থেকে বিয়োগ করা হয়।

লাভ AB, এবং সেইজন্য চক্র লাভ, সাধারণত নিবেশ সংকেতের কম্পাঙ্কের সাথে পরিবর্তিত হয় এবং তাই সাধারণত রেডিয়ান প্রতি সেকেন্ডে কৌণিক কম্পাঙ্ক ω-এর ফাংশন হিসেবে প্রকাশিত হয়। এটি প্রায়শই একটি লেখচিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয় যার অনুভূমিক অক্ষে কম্পাঙ্ক ω এবং উল্লম্ব অক্ষে লাভ থাকে। বিবর্ধকে, চক্র লাভ হলো dB স্কেলে মুক্ত-চক্র লাভ রেখা ও আবদ্ধ-চক্র লাভ রেখার (প্রকৃতপক্ষে 1/B রেখা) মধ্যে পার্থক্য।[৪৮][৪৯][৫০]

একটি জনপ্রিয় অপ-অ্যাম্প শিথিলন দোলক

বৈদ্যুতিন দোলক হলো এমন একটি বৈদ্যুতিন বর্তনী যা একটি পর্যায়বৃত্ত, দোদুল্যমান বৈদ্যুতিন সংকেত উৎপন্ন করে, সাধারণত সাইন তরঙ্গ বা বর্গাকার তরঙ্গ[৫১][৫২] দোলকসমূহ বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে সরাসরি প্রবাহ (DC) কে পরিবর্তী প্রবাহ (AC) সংকেতে রূপান্তর করে। বহু বৈদ্যুতিন যন্ত্রে এগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। দোলক-উৎপন্ন সংকেতের সাধারণ উদাহরণের মধ্যে রয়েছে রেডিওটেলিভিশন ট্রান্সমিটার সম্প্রচারিত সংকেত, কম্পিউটার ও কোয়ার্টজ ঘড়ি নিয়ন্ত্রণকারী ঘড়ি সংকেত, এবং বৈদ্যুতিন বিপার ও ভিডিও গেম উৎপাদিত শব্দ।[৫১]

দোলকসমূহ প্রায়শই তাদের নির্গমন সংকেতের কম্পাঙ্ক অনুসারে শ্রেণিবদ্ধ:

  • নিম্ন-কম্পাঙ্ক দোলক (LFO) ≈২০ Hz-এর নিচে কম্পাঙ্ক উৎপন্ন করে। পরিভাষাটি সাধারণত অডিও সিন্থেসাইজার-এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, এটিকে শ্রবণযোগ্য কম্পাঙ্ক দোলক থেকে পৃথক করতে।
  • শ্রবণযোগ্য দোলক শ্রবণযোগ্য পরিসরে, প্রায় ১৬ Hz থেকে ২০ kHz পর্যন্ত কম্পাঙ্ক উৎপন্ন করে।[৫২]
  • আরএফ (RF) দোলক বেতার কম্পাঙ্ক (RF) পরিসরে প্রায় ১০০ kHz থেকে ১০০ GHz পর্যন্ত সংকেত উৎপন্ন করে।[৫২]

সরাসরি প্রবাহ সরবরাহ থেকে উচ্চ-ক্ষমতার পরিবর্তী প্রবাহ নির্গমন উৎপাদনে নকশাকৃত দোলকসমূহকে সাধারণত বৈপরীত্যকারী বলা হয়।

বৈদ্যুতিন দোলকের দুটি প্রধান শ্রেণি রয়েছে: রৈখিক বা সমমাত্রিক দোলক এবং অরৈখিক বা শিথিলন দোলক[৫২][৫৩]

ল্যাচ ও ফ্লিপ-ফ্লপ

[সম্পাদনা]
ডি-টাইপ ফ্লিপ ফ্লপ ব্যবহারে নির্মিত ৪-বিট বলয় গণক


ল্যাচ বা ফ্লিপ-ফ্লপ হলো এমন একটি বর্তনী যার দুটি স্থিতিশীল অবস্থা রয়েছে এবং যা অবস্থা-তথ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে। বর্তনীকে একটি অবস্থা প্রদানে এগুলো সাধারণত পুনর্নিবেশ ব্যবহার করে নির্মিত হয়, যা বর্তনীর দুটি বাহুর মধ্যে আড়াআড়িভাবে অতিক্রম করে। এক বা একাধিক নিয়ন্ত্রণ নিবেশে সংকেত প্রয়োগ করে বর্তনীটিকে অবস্থা পরিবর্তন করানো যায় এবং এর এক বা দুটি নির্গমন থাকে। এটি অনুক্রমিক যুক্তি-র মৌলিক সংরক্ষণ উপাদান। ল্যাচ ও ফ্লিপ-ফ্লপ কম্পিউটার, যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স ব্যবস্থার মৌলিক গাঠনিক উপাদান।

ল্যাচ ও ফ্লিপ-ফ্লপ উপাত্ত সংরক্ষণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের উপাত্ত সংরক্ষণ অবস্থা সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে এবং এরূপ বর্তনীকে অনুক্রমিক যুক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সসীম-অবস্থা যন্ত্রে ব্যবহৃত হলে, নির্গমন ও পরবর্তী অবস্থা কেবল বর্তমান নিবেশের ওপরই নয়, বরং বর্তমান অবস্থার ওপরও (এবং তাই পূর্ববর্তী নিবেশসমূহের ওপর) নির্ভর করে। এটি স্পন্দন গণনা এবং কোনো সূচক কালসংকেতের সাথে পরিবর্তনশীল-সময়ের নিবেশ সংকেতসমূহ সমকালায়নেও ব্যবহৃত হতে পারে।

ফ্লিপ-ফ্লপসমূহ সরল (স্বচ্ছ বা অস্বচ্ছ) অথবা ঘড়ি-নিয়ন্ত্রিত (সমকালিক বা প্রান্ত-চালিত) হতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে ফ্লিপ-ফ্লপ পরিভাষাটি সরল ও ঘড়ি-নিয়ন্ত্রিত উভয় বর্তনীকেই বুঝিয়েছে, তবে আধুনিক ব্যবহারে ঘড়ি-নিয়ন্ত্রিত বর্তনীর জন্য ফ্লিপ-ফ্লপ পরিভাষাটি সংরক্ষিত এবং সরল ধরনকে সাধারণত ল্যাচ বলা হয়।[৫৪][৫৫]

এই পরিভাষা অনুসারে, ল্যাচ স্তর-সংবেদনশীল (level-sensitive), যেখানে ফ্লিপ-ফ্লপ প্রান্ত-সংবেদনশীল (edge-sensitive)। অর্থাৎ ল্যাচ সক্রিয় হলে স্বচ্ছ হয়ে যায়, অন্যদিকে ফ্লিপ-ফ্লপের নির্গমন কেবল নির্দিষ্ট ধরনের (ধনাত্মক বা ঋণাত্মক) ঘড়ি প্রান্তে পরিবর্তিত হয়।

সফটওয়্যার

[সম্পাদনা]

সফটওয়্যার ও গণনা ব্যবস্থার পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিবর্তন নিয়ন্ত্রণে পুনর্নিবেশ চক্রসমূহ সাধারণ কার্যপদ্ধতি প্রদান করে।[৫৬] অভিযোজিত সফটওয়্যার প্রকৌশলে পুনর্নিবেশ চক্রসমূহ গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ, কারণ চলন-কালে ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যসমূহ নিশ্চিত করতে অভিযোজন প্রক্রিয়া জুড়ে নিয়ন্ত্রণ উপাদানসমূহের পারস্পরিক ক্রিয়ার আচরণ এগুলো সংজ্ঞায়িত করে। পুনর্নিবেশ চক্র ও নিয়ন্ত্রণ তত্ত্বের ভিত্তি গণনা ব্যবস্থায় সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।[৫৭] বিশেষত IBM Db2IBM Tivoli-র মতো পণ্যসমূহের বিকাশে এগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে। সফটওয়্যারের দৃষ্টিকোণ থেকে, আইবিএম গবেষকদের প্রস্তাবিত স্বশাসিত (MAPE—পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা, সম্পাদন) চক্র গতিশীল বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ এবং স্বশাসিত সফটওয়্যার ব্যবস্থার নকশা ও বিবর্তনে পুনর্নিবেশ চক্র প্রয়োগে আরেকটি মূল্যবান অবদান।[৫৮][৫৯]

সফটওয়্যার উন্নয়ন

[সম্পাদনা]

ব্যবহারকারী সংযোগমুখ নকশা

[সম্পাদনা]

ব্যবহারকারী সংযোগমুখ নকশায় পুনর্নিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ নকশা নীতি।

ভিডিও পুনর্নিবেশ

[সম্পাদনা]

ভিডিও পুনর্নিবেশ হলো শ্রবণিক পুনর্নিবেশ-এর ভিডিও সমতুল্য। এতে একটি ভিডিও ক্যামেরা নিবেশ এবং একটি ভিডিও নির্গমন, যেমন একটি টেলিভিশন পর্দা বা মনিটরের মধ্যে একটি চক্র জড়িত থাকে। ক্যামেরাকে প্রদর্শনীর দিকে লক্ষ্য করলে পুনর্নিবেশের ভিত্তিতে একটি জটিল ভিডিও চিত্র তৈরি হয়।[৬০]

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]
  • ("এক্সপেরিমেন্ট মডেল" দেখুন)

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Andrew Ford (২০১০)। "Chapter 9: Information feedback and causal loop diagrams"Modeling the Environment। Island Press। পৃ. ৯৯ ffআইএসবিএন ৯৭৮-১-৬১০৯১-৪২৫-৩This chapter describes causal loop diagrams to portray the information feedback at work in a system. The word causal refers to cause-and-effect relationships. The wordloop refers to a closed chain of cause and effect that creates the feedback.
  2. "feedback"। MerriamWebster। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২২
  3. Karl Johan Åström; Richard M. Murray (২০০৮)। "§1.1: What is feedback?"Feedback Systems: An Introduction for Scientists and Engineers। Princeton University Press। পৃ. ১। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০০৮-২৮৭৩-৯ অনলাইন সংস্করণ এখানে পাওয়া যাবে।
  4. Otto Mayr (১৯৮৯)। Authority, liberty, & automatic machinery in early modern Europe। Johns Hopkins University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০১৮-৩৯৩৯-৯
  5. 1 2 Moloney, Jules (২০১১)। Designing Kinetics for Architectural Facades। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-৬১০৩৪-৬
  6. Maxwell, James Clerk (১৮৬৮)। "On Governors"। Proceedings of the Royal Society of London১৬ (16): ২৭০–২৮৩। ডিওআই:10.1098/rspl.1867.0055জেস্টোর 112510
  7. "এতদনুসারে ... রোলারগুলির গতি বিপরীত করার প্রয়োজন হয়েছে, যার ফলে উপাদানটি ভ্রমণ বা ফিড ব্যাক করতে পারে, ..." HH Cole, "Improvement in Fluting-Machines", US Patent 55,469 (1866) অ্যাক্সেস করা হয়েছে ২৩ মার্চ ২০১২।
  8. "যখন জার্নাল বা স্পিন্ডলটি কাটা হয় ... এবং ক্যারেজটি স্ক্রু-শ্যাফ্টের সেকশনাল নাট বা বুরের পরিবর্তনের মাধ্যমে ফিড ব্যাক করতে উদ্যত হয়, তখন অপারেটর হ্যান্ডেলটি ধরে ফেলে..." JM Jay, "Improvement in Machines for Making the Spindles of Wagon-Axles", US Patent 47,769 (1865) অ্যাক্সেস করা হয়েছে ২৩ মার্চ ২০১২।
  9. "...যতদূর সম্ভব সার্কিটটির তদন্তাধীন ব্যবস্থায় কোনো পুনর্নিবেশ নেই।" Karl Ferdinand Braun, "Electrical oscillations and wireless telegraphy", Nobel Lecture, 11 December 1909. Retrieved 19 March 2012.
  10. 1 2 Stuart Bennett (১৯৭৯)। A history of control engineering, 1800–1930। Stevenage; New York: Peregrinus for the Institution of Electrical Engineers। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯০৬০৪৮-০৭-৮
  11. 1 2 W. Ross Ashby (১৯৫৭)। An introduction to cybernetics (পিডিএফ)। Chapman & Hall। ২৩ আগস্ট ২০০০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)
  12. 1 2 3 Ramaprasad, Arkalgud (১৯৮৩)। "On the definition of feedback"। Behavioral Science২৮: ৪–১৩। ডিওআই:10.1002/bs.3830280103
  13. 1 2 David A. Mindell (২০০২)। Between Human and Machine: Feedback, Control, and Computing before Cybernetics.। Baltimore, MD, US: Johns Hopkins University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০১৮-৬৮৯৫-৫
  14. Friis, H.T., and A.G.Jensen. "High Frequency Amplifiers" Bell System Technical Journal 3 (April 1924):181–205.
  15. H.S. Black, "Stabilized feed-back amplifiers", Electrical Engineering, vol. 53, pp. 114–120, January 1934.
  16. 1 2 Maxwell, James Clerk (১৮৬৮)। "On Governors"Proceedings of the Royal Society of London১৬ (16): ২৭০–২৮৩। ডিওআই:10.1098/rspl.1867.0055এস২সিআইডি 51751195
  17. Herold, David M., and Martin M. Greller. "Research Notes. FEEDBACK THE DEFINITION OF A CONSTRUCT." Academy of management Journal 20.1 (1977): 142-147.
  18. Peter M. Senge (১৯৯০)। The Fifth Discipline: The Art and Practice of the Learning Organization। New York: Doubleday। পৃ. ৪২৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৮৫-২৬০৯৪-৭
  19. John D. Sterman, Business Dynamics: Systems Thinking and Modeling for a Complex World, McGraw Hill/Irwin, 2000. আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৭-২৩৮৯১৫-৯
  20. Charles S. Carver, Michael F. Scheier: On the Self-Regulation of Behavior Cambridge University Press, 2001
  21. Hermann A Haus and Richard B. Adler, Circuit Theory of Linear Noisy Networks, MIT Press, 1959
  22. BF Skinner, The Experimental Analysis of Behavior, American Scientist, Vol. 45, No. 4 (SEPTEMBER 1957), pp. 343-371
  23. "যাইহোক, কাঠামোগত সমীকরণের পরিসংখ্যানগত বৈশিষ্ট্যগুলি যাচাই করার পরে, কমিটির সদস্যরা নিজেদের নিশ্চিত করেছিলেন যে প্রমিত স্কোর ব্যবহার করার সময় একটি উল্লেখযোগ্য ধনাত্মক পুনর্নিবেশ চক্র এবং প্রকৃত স্কোর ব্যবহার করার সময় একটি ঋণাত্মক চক্র থাকা সম্ভব।" Ralph L. Levine, Hiram E. Fitzgerald. Analysis of the dynamic psychological systems: methods and applications, আইএসবিএন ৯৭৮-০৩০৬৪৩৭৪৬৫ (1992) page 123
  24. Thomas K. Connellan and Ron Zemke, "Sustaining Knock Your Socks Off Service" AMACOM, 1 July 1993. আইএসবিএন ০-৮১৪৪-৭৮২৪-৭
  25. Alta Smit; Arturo O'Byrne (২০১১)। "Bipolar feedback"Introduction to Bioregulatory Medicine। Thieme। পৃ. ৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-১৩-১৪৬৯৭১-৭
  26. Wotherspoon, T.; Hubler, A. (২০০৯)। "Adaptation to the edge of chaos with random-wavelet feedback"। J. Phys. Chem. A১১৩ (1): ১৯–২২। বিবকোড:2009JPCA..113...19Wডিওআই:10.1021/jp804420gপিএমআইডি 19072712
  27. Bechhoefer, John (৩১ আগস্ট ২০০৫)। "Feedback for physicists: A tutorial essay on control"Reviews of Modern Physics৭৭ (3): ৭৮৩–৮৩৬। বিবকোড:2005RvMP...77..783Bডিওআই:10.1103/RevModPhys.77.783
  28. Sagawa, Takahiro; Ueda, Masahito (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৮)। "Second Law of Thermodynamics with Discrete Quantum Feedback Control"Physical Review Letters (ইংরেজি ভাষায়)। ১০০ (8) 080403। আরজাইভ:0710.0956বিবকোড:2008PhRvL.100h0403Sডিওআই:10.1103/PhysRevLett.100.080403আইএসএসএন 0031-9007পিএমআইডি 18352605
  29. Cao, F. J.; Feito, M. (১০ এপ্রিল ২০০৯)। "Thermodynamics of feedback controlled systems"Physical Review E (ইংরেজি ভাষায়)। ৭৯ (4) 041118। আরজাইভ:0805.4824বিবকোড:2009PhRvE..79d1118Cডিওআই:10.1103/PhysRevE.79.041118আইএসএসএন 1539-3755পিএমআইডি 19518184
  30. Vlahopoulos, SA; Cen, O; Hengen, N; Agan, J; Moschovi, M; Critselis, E; Adamaki, M; Bacopoulou, F; Copland, JA; Boldogh, I; Karin, M; Chrousos, GP (২০ জুন ২০১৫)। "Dynamic aberrant NF-κB spurs tumorigenesis: A new model encompassing the microenvironment."Cytokine & Growth Factor Reviews২৬ (4): ৩৮৯–৪০৩। ডিওআই:10.1016/j.cytogfr.2015.06.001পিএমসি 4526340পিএমআইডি 26119834
  31. Vlahopoulos, SA (আগস্ট ২০১৭)। "Aberrant control of NF-κB in cancer permits transcriptional and phenotypic plasticity, to curtail dependence on host tissue: molecular mode."Cancer Biology & Medicine১৪ (3): ২৫৪–২৭০। ডিওআই:10.20892/j.issn.2095-3941.2017.0029পিএমসি 5570602পিএমআইডি 28884042
  32. Korneev, KV; Atretkhany, KN; Drutskaya, MS; Grivennikov, SI; Kuprash, DV; Nedospasov, SA (জানুয়ারি ২০১৭)। "TLR-signaling and proinflammatory cytokines as drivers of tumorigenesis."। Cytokine৮৯: ১২৭–১৩৫। ডিওআই:10.1016/j.cyto.2016.01.021পিএমআইডি 26854213
  33. Sanwal, BD (মার্চ ১৯৭০)। "Allosteric controls of amphilbolic pathways in bacteria."Bacteriol. Rev.৩৪ (1): ২০–৩৯। ডিওআই:10.1128/MMBR.34.1.20-39.1970পিএমসি 378347পিএমআইডি 4315011
  34. Jacob, F; Monod, J (জুন ১৯৬১)। "Genetic regulatory mechanisms in the synthesis of proteins."। J Mol Biol (3): ৩১৮–৩৫৬। ডিওআই:10.1016/S0022-2836(61)80072-7পিএমআইডি 13718526এস২সিআইডি 19804795
  35. CS Holling. "Resilience and stability of ecological systems". Annual Review of Ecology and Systematics 4:1-23. 1973
  36. Scheff, Thomas (২ সেপ্টেম্বর ২০০৯)। "The Emotional/Relational World"Psychology Today। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৩
  37. "The Study of Earth as an Integrated System"nasa.gov। NASA। ২০১৬। ২ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত
  38. Fig. TS.17, Technical Summary, Sixth Assessment Report (AR6), Working Group I, IPCC, 2021, p. 96. Archived from the original on 21 July 2022.
  39. A. I. Mees (আনু.1981) Dynamics of Feedback Systems, New York: J. Wiley. আইএসবিএন ০-৪৭১-২৭৮২২-X. p. 69: "There is a tradition in control theory that one deals with a negative feedback loop in which a negative sign is included in the feedback loop ..."
  40. Araki, M., PID Control (পিডিএফ)
  41. Minorsky, Nicolas (১৯২২)। "Directional stability of automatically steered bodies"। Journal of the American Society for Naval Engineers৩৪ (2): ২৮০–৩০৯। ডিওআই:10.1111/j.1559-3584.1922.tb04958.x
  42. Wai-Kai Chen (২০০৫)। "Chapter 13: General feedback theory"Circuit Analysis and Feedback Amplifier Theory। Boca Raton, FL, USA: CRC Press। পৃ. ১৩.১ – ১৩.১৪আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪২০০-৩৭২৭-২। 423825181। [In a practical amplifier] the forward path may not be strictly unilateral, the feedback path is usually bilateral, and the input and output coupling networks are often complicated.
  43. Santiram Kal (২০০৯)। Basic Electronics: Devices, Circuits and IT Fundamentals। PHI Learning Pvt. Ltd। পৃ. ১৯১। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৩-১৯৫২-৩If the feedback signal reduces the input signal, i.e. it is out of phase with the input [signal], it is called negative feedback.
  44. যান্ত্রিক যন্ত্রের ক্ষেত্রে, হান্টিং বা দোলন যন্ত্রটিকে ধ্বংস করার মতো তীব্র হতে পারে।
  45. P. Horowitz & W. Hill, The Art of Electronics, Cambridge University Press (1980), Chapter 3, relating to operational amplifiers.
  46. ব্যবস্থায় সংবেদনশীলতা হ্রাসের বিশ্লেষণের জন্য, দেখুন S.K Bhattacharya (২০১১)। "§5.3.1 Effect of feedback on parameter variations"Linear Control Systems। Pearson Education India। পৃ. ১৩৪–১৩৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৩১৭-৫৯৫২-৩The parameters of a system ... may vary... The primary advantage of using feedback in control systems is to reduce the system's sensitivity to parameter variations.
  47. "Negative Feedback & Distortion"learnabout-electronics.org। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০২৪
  48. "TI Precision Labs - Op-amps - Stability 2" (পিডিএফ)To find the magnitude of AolB, we can simply subtract 1/B from Aol.
  49. "MT-033 TUTORIAL Voltage Feedback Op Amp Gain and Bandwidth" (পিডিএফ)The difference between the open-loop gain and the closed-loop gain is known as the loop gain
  50. "Operational amplifier gain stability, Part 2: DC gain-error analysis" (পিডিএফ)... shows the simplified open-loop gain ... along with the closed-loop gain ... The difference between these two curves is the loop gain, β×AOL.
  51. 1 2 Snelgrove, Martin (২০১১)। "Oscillator"McGraw-Hill Encyclopedia of Science and Technology, 10th Ed., Science Access online service। McGraw-Hill। ১৯ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১২
  52. 1 2 3 4 Chattopadhyay, D. (২০০৬)। Electronics (fundamentals And Applications)। New Age International। পৃ. ২২৪–২২৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২২৪-১৭৮০-৭
  53. Garg, Rakesh Kumar; Ashish Dixit; Pavan Yadav (২০০৮)। Basic Electronics। Firewall Media। পৃ. ২৮০। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৩১৮-০৩০২-৮
  54. Volnei A. Pedroni (২০০৮)। Digital electronics and design with VHDL। Morgan Kaufmann। পৃ. ৩২৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১২-৩৭৪২৭০-৪
  55. Latches and Flip Flops ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে (EE 42/100 Lecture 24 from Berkeley) "...Sometimes the terms flip-flop and latch are used interchangeably..."
  56. H. Giese; Y. Brun; J. D. M. Serugendo; C. Gacek; H. Kienle; H. Müller; M. Pezzè; M. Shaw (২০০৯)। "Engineering self-adaptive and self-managing systems"। Springer-Verlag।
  57. J. L. Hellerstein; Y. Diao; S. Parekh; D. M. Tilbury (২০০৪)। Feedback Control of Computing Systems। John Wiley & Sons।
  58. J. O. Kephart; D. M. Chess (২০০৩)। "The vision of autonomic computing"।
  59. H. A. Müller; H. M. Kienle & U. Stege (২০০৯)। "Autonomic computing: Now you see it, now you don't—design and evolution of autonomic software systems"।
  60. Hofstadter, Douglas (২০০৭)। I Am a Strange loop। New York: Basic Books। পৃ. ৬৭আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৬৫-০৩০৭৯-৮

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:জটিল ব্যবস্থা বিষয়সমূহ