ফরেনসিক রসায়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ফরেনসিক রসায়ন[সম্পাদনা]

ফরেনসিক রসায়ন মূলত: রসায়ন এবং এর উপশাখা ফরেনসিক বিষবিদ্যার (forensic toxicology) আইনি ক্ষেত্রে প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করে । একজন ফরেনসিক রসায়নবিদ কোনও অপরাধস্থলে (crime scene).[১] পাওয়া অজানা বস্তুর সনাক্তকরণে সহায়তা করেন । অজানা বস্তুর সনাক্তকরণের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা অনেকরকম যন্ত্র এবং পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন । সাধারণত ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলির মধ্যে high-performance liquid chromatography(HPLC), gas chromatography-mass spectrometry(GCMS),atomic absorption spectroscopy(AAS), Fourier transform infrared spectroscopy (FTIR), এবং thin layer chromatography(TLC) ইত্যাদি প্রধান । অপরাধস্থলে অনেক ধরনের অজানা পদার্থ পাওয়া যেতে পারে এবং সনাক্তকরণে ব্যবহৃত কোনো কোনো যন্ত্র ধংসাত্মক পদ্ধতিতে কাজ করে, তাই সনাক্তকরণে কী পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে তা ঠিক করা খুব গুরুত্বপূর্ণ । যেখানে সম্ভব, সেখানে প্রথমে অ-ধংসাত্মক পদ্ধতি প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হয় । এতে প্রামাণ্য বস্তূও নষ্ট হয় না, আবার কোন ধংসাত্মক পদ্ধতি ব্যবহার করলে সনাক্তকরণ সহজ হবে, তারও ধারণা পাওয়া যায় ।

অন্যান্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাথে সাথে ফরেনসিক রসায়নবিদরা আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রত্যক্ষদর্শীর মত তাঁদের প্রমাণ পেশ করেন । ফরেনসিক রসায়নবিদদের কাজ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা,(যেমন Scientific Working Group on the Analysis of Seized Drugs) দ্বারা প্রস্তাবিত নিয়মাবলী ও মানদন্ড মেনে চলতে বাধ্য । নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্ধারিত মানদন্ড ছাড়াও , বিভিন্ন ফরেনসিক সংস্থা তাদের ফলাফল ও যন্ত্রপাতির গুণমানের নিশ্চয়তা বজায় রাখতে নিজস্ব কিছু বাড়তি নিয়মকানুন অনুসরণ করে । প্রাপ্ত ফলাফল যাতে নিখুঁত হয় তা নিশ্চিত করার জন্য ফরেনসিক রসায়নবিদরা যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিকের পরিমাণ তারা ঠিকভাবে পরিমাপ করতে পারছে কী না , তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা হয় ।

তদন্তে সহায়তা[সম্পাদনা]

রসায়নবিদরা Oklahoma City bombing.[২] এর ঘটনাস্থলে ANFO বিস্ফোরক টি সনাক্ত করেন

ফরেনসিক রসায়নবিদরা তদন্তের দিকনির্দেশ করতে এবং তদন্তকারীর কোনও অনুমান সমর্থন বা বাতিল করায় সাহায্য করেন । ঘটনাস্থলে পাওয়া অজানা পদার্থের পরিচয় জানা গেলে কোন পথে তদন্ত এগোবে, সেটা ঠিক করা সহজ হয় । যেমন, অগ্নিঘটিত ঘটনায়, ফরেনসিক রসায়নবিদ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারেন যে আগুন লাগাতে কোনও অতিদাহ্য পদার্থ , (যেমন পেট্রল বা কেরোসিন )ব্যবহৃত হয়েছিল কিনা ; সেক্ষেত্রে আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল এই সিদ্ধান্তে আসা যায় [৩] । আবার সন্দেহভাজনদের মধ্যে কার নাগালে বিশেষ কোনও জিনিস আছে, তা জানলে অপরাধীর তালিকা বাছাই করতে সুবিধা হয় । যেমন, বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে , RDX বা C-4 পাওয়া গেলে তা দুর্ঘটনার সাথে মিলিটারি সংযোগের প্রমাণ দেয় , কারণ এই সব বিস্ফোরক মিলিটারীরই ব্যবহার করে থাকে । আবার, যদি TNT ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রমানিত হয়, তবে সন্দেহভাজনের তালিকা বেড়ে যায়, কেননা, এটা মিলিটারি আর ভাঙ্গার কাজ, দুটোতেই ব্যবহার করা হয় [৪] । বিষপ্রয়োগের ঘটনার তদন্তে ,নির্দিষ্ট কিছু বিষ পাওয়া গেলে সেটা গোয়েন্দার জিজ্ঞাসাবাদের সময় সহায়ক হয় । যেমন ,যদি রাইসিন প্রয়োগে মৃত্যু হয়ে থাকে , তবে তদন্তকারী এর সম্ভাব্য উত্‍স (রেড়ী গাছের বীজ )খুঁজতে পারেন । অন্যদিকে, যদি স্ট্রিকনিন প্রয়োগে মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে এর গাছ বা এর বীজ অনলাইনে অর্ডার দিয়ে কে কিনেছিল, তা জানা যেতে পারে ।

তদন্তকারীদের যদি সন্দেহ হয় যে ড্রাগ বা এলকোহল প্রয়োগ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ফরেনসিক রসায়নবিদ পরীক্ষা করে তা নিশ্চিত অথবা বাতিল করতে পারেন । ফরেনসিক রসায়নবিদরা যে সব যন্ত্র ব্যবহার করেন, সেগুলো খুব সামান্য মাত্রায় ও কোনও বস্তুর উপস্থিতি সনাক্ত করতে পারে । তাই সম্ভাব্য বস্তুর পরিমাণও তদন্তে খুব গুরুত্বপূর্ণ । যেমন, মদ খেয়ে গাড়ী চালালে রক্তে এলকোহলের মাত্রা মেপে শাস্তি হবে কিনা , তা বলা যায় [৫]। অতিমাত্রায় ড্রাগ গ্রহনের ফলে মৃত্যু হয়েছে , এমন ঘটনায় মৃত ব্যক্তির শরীরে পাওয়া ড্রাগের পরিমাণ মেপে তা নিশ্চিত করা যায় ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

[১]

[২]

[৩]

[৪]

[৫]

  1. "A Simplified Guide to Forensic Drug Chemistry" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৫ 
  2. Browne, Malcolm W. (এপ্রিল ২১, ১৯৯৫)। "Terror in Oklahoma: The Science; Experts Search for Debris to Link Bomb to a Suspect"। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৮, ২০১৫ 
  3. Stern, Wal। "Modern Methods of Accelerant Analysis"T.C. Forensic। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৮, ২০১৫ 
  4. "Common Explosives"The National Counterterrorism Center। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৮, ২০১৫ 
  5. "Legal BAC limits Data by country"World Health Organization। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৩০, ২০১৫