প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস (২০০৫-এর চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস
Prideandprejudiceposter.jpg
যুক্তরাজ্যে মুক্তি পাওয়া পোস্টার
পরিচালক জো রাইট
প্রযোজক টিম বেভান
এরিক ফেলিনার
পল ওয়েবস্টার
রচয়িতা চিত্রনাট্য:
ডেবোরা মোগ্যাচ
উপন্যাস:
জেন অস্টেন
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকার দারিও মারিয়ানেল্লি
মুক্তি
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৫ (২০০৫-০৯-১১) (টরন্টো)
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৫ (২০০৫-০৯-১৬) (যুক্তরাজ্য)
দৈর্ঘ্য ১২৭ মিনিট[১]
দেশ যুক্তরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্র
ফ্রান্স
ভাষা ইংরেজি
নির্মাণব্যয় £২২ মিলিয়ন
($২৮ মিলিয়ন)[২][৩]
আয় $১২১.১ মিলিয়ন[৪]

প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস (ইংরেজি ভাষায়: Pride and Prejudice) বিখ্যাত ইংরেজ সাহিত্যিক জেন অস্টেনের একই নামের উপন্যাস থেকে করা ব্রিটিশ রোমান্টিক চলচ্চিত্র। ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির পরিচালক জো রাইট। এক অসচ্ছল ইংরেজ পরিবারের পাঁচ মেয়ের কাহিনী নিয়ে এই চলচ্চিত্রটি আবর্তিত। এতে মূল চরিত্রে (এলিজাবেথ বেনেট) রূপদান করেছেন কিরা নাইটলি এবং তার বিপরীতে মি. ডারসি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাথিউ ম্যাকফ্যাডিয়েন। ওয়ার্কিং টাইটেল ও স্টুডিওক্যানালের প্রযোজনায় ছবিটি যুক্তরাজ্যআয়ারল্যান্ডে মুক্তি পায় ২০০৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে ও যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায় একই বছরের ১১ নভেম্বরে। চারটি ক্ষেত্রে ছবিটি অস্কার মনোনয়ন লাভ করেছিল। ক্ষেত্রগুলো হল: সেরা অভিনেত্রী, সেরা শিল্প নির্দেশনা, সেরা পোশাক সজ্জা ও সেরা মৌলিক সঙ্গীত।

মুক্তির পর ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। সারা বিশ্বে ছবিটি আয় করেছে ১২১ মিলিয়ন ডলার। ৭৮তম একাডেমি এ্যাওয়ার্ডে ছবিটি ৪টি বিভাগে মনোনয়ন পায়, যার মধ্যে একটি ছিল কিরা নাইটলির পাওয়া শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে।

কাহিনী সূত্র[সম্পাদনা]

১৮ শতকের শেষ দিকে গ্রামীণ ইংল্যান্ডের অসচ্ছল বেনেট পরিবারের পাঁচ মেয়ে- জেন, এলিজাবেথ, মেরি, কিটি ও লিডিয়া। মি. বেনেটের মৃত্যুর পর আত্মীয় মি. কলিন্সের কাছে পারিবারিক সম্পত্তি চলে যাবে বিধায় মিসেস বেনেট সদা ব্যস্ত মি. বেনেট জীবিত থাকতে তার মেয়েদের ধনী যুবকদের সাথে বিয়ে দিতে। এমন সময় কাছের সমৃদ্ধ এস্টেট নেথারফিল্ডে ভাড়াটে হয়ে আসেন ধনী অবিবাহিত যুবক মি. বিংলি এবং তার অহঙ্কারী বোন ক্যারোলাইন বিংলি। তাদের সম্মানে আয়োজিত পার্টিতে বেনেট মেয়েদের সাথে বিংলির পরিচয় হয়। প্রথম দেখাতেই জেনের প্রতি আকৃষ্ট হন বিংলি। তবে বিংলির সাথে আসা তার বন্ধু মি. ডারসির প্রতি তাৎক্ষণিকভাবে রুষ্ট হয় তারা, বিশেষ করে এলিজাবেথ। ডারসি তরুণ জমিদার এবং বেশ অহংকারী স্বভাবের। তার এই নাকউঁচু স্বভাবের জন্যই এলিজাবেথের মনে তার প্রতি বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয় যখন এলিজাবেথ অনিচ্ছাকৃতভাবে শুনে ফেলে তাকে নিয়ে করা ডারসির রূঢ় মন্তব্য। পার্টির পরদিন জেনের কাছে নেথারফিল্ডে বেড়াতে যাওয়ার আমন্ত্রণ আসে। বিংলির সাথে জেনের সম্পর্ক গভীর করার কথা ভেবে মিসেস বেনেট জেনকে বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও ঘোড়ার পিঠে করে পাঠান। তার পরিকল্পনা সফল হয় যখন জেন জ্বর আসায় কয়েকদিন নেথারফিল্ডে থাকতে বাধ্য হয়। বোনকে দেখতে এলিজাবেথও নেথারফিল্ডে যায়। চপল এবং বাকপটু স্বভাবের প্রখর বুদ্ধিমতী এলিজাবেথের সাথে সেখানে ডারসির দেখা হয় এবং ডারসি এলিজাবেথের চরিত্র সম্বন্ধে আস্তে আস্তে জানতে শুরু করে।

নেথারফিল্ড থেকে বাড়ি ফেরার পর বেনেটদের বাড়িতে বেড়াতে আসে মি. কলিন্স। হাস্যকর ও চটুল স্বভাবের জন্য সে বেনেট মেয়েদের কাছে হাসির পাত্র। কলিন্স কেবলমাত্র তার অভিভাবিকা ধনী ডাচেস লেডি ক্যাথারিনের ব্যাপারে কথা বলতে অভ্যস্ত। অন্যদিকে নেথারফিল্ডে আরেকটি বল নাচের পার্টির আয়োজন করা হয় যার জন্য কেনাকাটা করতে গিয়ে মেয়েদের দেখা হয় তরুণ সুদর্শন সৈনিক মি. উইকহ্যামের সাথে। হাসিখুশি ও মিশুক চরিত্রের জন্য তাকে পছন্দ করে বেনেট মেয়েরা। উইকহ্যামের সাথে কথা বলে এলিজাবেথ জানতে পারে যে, উইকহ্যাম ডারসির পরলোকগত পিতার খানসামার ছেলে। ডারসির পিতা উইকহ্যামকে সম্পত্তির ভাগ দেওয়ায় ডারসির সাথে তার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এবং ডারসি তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে। একথা শুনে ডারসির প্রতি এলিজাবেথের ঘৃণা আরো বেড়ে যায়। ফলশ্রুতিতে নেথারফিল্ডের পার্টিতে ডারসির সাথে নাচার সময় এলিজাবেথের সাথে তার তিক্ত বাদানুবাদ হয়।

পরদিন সকালে কলিন্স এলিজাবেথকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় ও সঙ্গত কারণে এলিজাবেথ তা প্রত্যাখ্যান করে। অপদার্থ কলিন্সের প্রস্তাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মিসেস বেনেট তার প্রতি ক্ষিপ্ত হন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন যে কলিন্সের সাথে বিয়ে হলে এলিজাবেথ তাদের বর্তমান সম্পত্তিটি পাবে। পরে এলিজাবেথ জানতে পারে যে, তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী শার্লট লুকাস কলিন্সকে বিয়ে করেছে। অপরদিকে ক্যারোলাইনের কাছ থেকে জেনের চিঠি আসে যে, বিংলি নেথারফিল্ড ছেড়ে চলে যাচ্ছে এবং বিংলির স্ত্রী হিসেবে ডারসির বোন জর্জিয়ানা অধিক উপযুক্ত। জেনের বিয়ে ভাঙার কারণ হিসেবে এলিজাবেথ বুঝতে পারে যে, তাদের অসচ্ছলতার কারণে এবং আরো ধনী ডারসির সাথে নিজের বিয়ে সহজ করতে ক্যারোলাইন এ কাজ করেছে। মন ভাল করতে (এবং 'অনিচ্ছাকৃতভাবে' বিংলির সাথে দেখা হতে) জেন খালা-খালুর কাছে লন্ডনে বেড়াতে যায় এবং শার্লটের আমন্ত্রণে রোসিংসে বেড়াতে যায় এলিজাবেথ। সেখানে লেডি ক্যাথারিনের সাথে দেখা করে তারা। রোসিংস পার্কে (লেডি ক্যাথারিনের বাড়ি) ডারসি এবং তার বন্ধু কর্নেল ফিজউইলিয়ামের সাথে দেখা হয় এলিজাবেথের। লেডি ক্যাথারিন এলিজাবেথ এবং তার পরিবারকে অপমান করে নানা কথা বলেন যার চমৎকার সব উত্তর দেয় এলিজাবেথ। এলিজাবেথের প্রখর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়ে ধীরে ধীরে মুগ্ধ হতে থাকে লেডি ক্যাথারিনের ভাগ্নে ডারসি। পরদিন গির্জায় ফিজউইলিয়ামের সাথে কথা বলে এলিজাবেথ জানতে পারে যে ডারসি তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে (বিংলি) ভুল বিয়ে থেকে বাঁচিয়েছে। এলিজাবেথ বুঝতে পারে যে ক্যারোলাইন নয়, জেনের বিয়ে ভেঙেছে ডারসি। গির্জা থেকে বেরিয়ে প্রচন্ড বৃষ্টি থেকে বাঁচতে এক দালানের নিচে দাঁড়ায় এলিজাবেথ। ডারসি তাকে অনুসরণ করে এবং আচমকা এলিজাবেথের প্রতি তার ভালবাসা প্রকাশ করে ও তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। জেন এবং উইকহ্যামের বিষয় নিয়ে এর উত্তরে তাদের মধ্যে প্রচন্ড কথা কাটাকাটি হয় এবং এলিজাবেথ তাকে জানায় যে সে কখনই ডারসিকে বিয়ে করবে না। ডারসি সে সময় এবং পরে এলিজাবেথের কাছে লেখা এক চিঠিতে জানায় যে, তার কাছে মনে হয়েছে যে বিংলির প্রতি জেনের অনুভূতি ততটা প্রবল ছিল না (প্রকৃতপক্ষে জেন ছিল লাজুক), তাই বন্ধুকে ভালবাসাহীন বিয়ে থেকে বাঁচাতে ডারসি বিয়ে ভেঙেছে। আর উইকহ্যাম আসলে স্বার্থপর এবং অর্থলোভী যে তার সম্পত্তি জুয়ার পেছনে উড়িয়েছে। সব জেনে এলিজাবেথের মনে তীব্র অপরাধবোধের সৃষ্টি হয়। বাড়ি ফিরে এলিজাবেথ দেখে যে খালা-খালুর সাথে জেন লন্ডন থেকে ফিরে এসেছে এবং লিডিয়া সৈনিকদের সাথে ব্রাইটনে বেড়াতে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে। খালা-খালুর সাথে এলিজাবেথ পরদিন পেমবারলি হাউসে ঘুরতে যায় ও জানতে পারে যে সেটি ডারসির বাড়ি। ডারসি বাড়িতে নেই ভেবে সে বাড়িটি ঘুরে দেখে এবং বাড়ির ভৃত্যদের কাছে ডারসির চরিত্র ও আচরণের প্রশংসা শোনে। ডারসির বোনের পিয়ানোবাদন শুনতে গিয়ে হঠাৎ ডারসির সাথে তার দেখা হয়। ডারসির আমন্ত্রণে পরদিন পেমবারলি হাউসে জর্জিয়ানার সাথে এলিজাবেথ সাক্ষাত করে। মিষ্টি স্বভাবের জর্জিয়ানার সাথে এলিজাবেথের সদ্ভাব হয়। সরাইখানায় ফিরে জেনের চিঠিতে এলিজাবেথ খবর পায় যে লিডিয়া উইকহ্যামের সাথে পালিয়ে গেছে। বেনেট পরিবারের সম্মান বাঁচাতে তার খালু, তার পিতা এবং ডারসি তাদের সন্ধানে লন্ডন যায় এবং খালুর খরচে লিডিয়া ও উইকহ্যামের বিয়ে হয়। বাড়িতে বেড়াতে এসে লিডিয়া ভুলে ফাঁস করে দেয় যে আসলে সব খরচ ও আয়োজন ডারসির, যে ব্যাপারটি গোপন রাখতে চেয়েছিল।

পরদিন বাজারে বেনেটরা জানতে পারে যে, বিংলি নেথারফিল্ডে আসছে। বিংলি ও ডারসি তাদের বাড়িতে এসে তাদের সাথে দেখা করে এবং ক্ষমা চেয়ে বিংলি জেনকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সেদিন রাতে হঠাৎ লেডি ক্যাথারিন ডারসি ও এলিজাবেথের বাগদানের গুজব শুনে লংবার্ণে তাদের বাড়িতে আসে এবং এলিজাবেথকে প্রচন্ড কঠোর ভাষায় অপমান করেন যাতে সে ডারসিকে বিয়ে না করে। রাতে ঘুমাতে না পেরে পরদিন সূর্যোদয়ের আগে এলিজাবেথ হাঁটতে যায় এবং সেখানে ডারসির সাথে তার দেখা হয়। ডারসি তাকে দ্বিতীয়বারের মত প্রস্তাব দেয়। এতদিনে ডারসির মহানুভব চরিত্রের পরিচয় পেয়ে এলিজাবেথের মন পরিবর্তিত হয়েছে, তাই সে প্রস্তাব গ্রহণ করে।

ছবির যুক্তরােজ্যর পরিসমাপ্তি হয় এলিজাবেথ ও তার পিতার কথোপকথনের মাধ্যমে। আর যুক্তরাষ্ট্রীয় সমাপ্তিতে নবদম্পতিকে পেমবারলি হাউসের বাইরে একটি অতিরিক্ত দৃশ্যে দেখা যায়।

কুশীলব[সম্পাদনা]

  • এলিজাবেথ বেনেট : কিরা নাইটলি
  • মি. ডারসি : ম্যাথিউ মাকফ্যাডিয়েন
  • জেন বেনেট : রোজামন্ড পাইক
  • মি. বিংলি : সাইমন উডস
  • মি. বেনেট : ডোনাল্ড সাদারল্যান্ড
  • মিসেস বেনেট : ব্রেন্ডা ব্লেদিন
  • মি. কলিন্স : টম হল্যান্ডার
  • শার্লট লুকাস : ক্লডি ব্ল্যাকলি
  • মি. উইকহ্যাম : রুপার্ট ফ্রেন্ড
  • লিডিয়া বেনেট : জেনা মালোন
  • মেরি বেনেট : ট্যালুলা রাইলি
  • কিটি বেনেট : ক্যারি মুলিগান
  • লেডি ক্যাথারিন ডি বার্গ : জুডি ডেঞ্চ
  • ক্যারোলাইন বিংলি : কেলি রেলি
  • জর্জিয়ানা ডারসি : তামযিন মার্চেন্ট

প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

সমালোচকরা মূলত প্রশংসা করেছেন। রিভিউ সংগ্রাহক ওয়েবসাইট রটেন টম্যাটোস-এ এর রেটিং ৮৫% অর্থাৎ অনলাইনে শতকরা ৮৫ জন সমালোচকই ইতিবাচক সমালোচনা করেছেন।[৫] মেটাক্রিটিক-এ ৩৭টি রিভিউয়ের উপর ভিত্তি করে এর রেটিং নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২%।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Pride & Prejudice (U)"United International Picturesব্রিটিশ বোর্ড অব ফিল্ম ক্লাসিফিকেশন। ২৫ জুলাই ২০০৫। ৪ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৮ 
  2. British Film Institute
  3. The Numbers
  4. Box Office Mojo Profile
  5. Rotten Tomatoes
  6. Metacritic

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]