বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখন্ডে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(পন্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখন্ডে থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
পন্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখন্ডে

পন্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখন্ডে (জন্ম: আগস্ট ১০, ১৮৬০ - মৃত্যু: সেপ্টেম্বর ১৯, ১৯৩৬) ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একজন প্রথিতযশা পন্ডিতজন ।

ততকালীন বোম্বাই এর কাছে বালকেশ্বর নামক স্থানে ভাতখন্ডেজী জন্মগ্রহণ করেন| অবস্থাপন্ন ঘরের সন্তান ছিলেন তিনি, সুতরাং শিক্ষালাভে তাঁর কোনও অসুবিধা হয়নি| স্কুলে শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সঙ্গীতের দিকে আকৃষ্ট হন| ছোটবেলায় মায়ের কাছে ভজন শিখেছিলেন| সঙ্গীতচর্চা চলতে থাকে এবং সঙ্গীত প্রতিয়োগিতায় তিনি কয়েকটি পুরস্কারও পান| একইসঙ্গে প্রকাশ পায় তাঁর সাহিতি্‍‍‌ক দক্ষতাও| এরপর সেতার শিখতে শুরু করেন| বেনারসের সুপ্রসিদ্ধ সেতারী পান্নালাল বাজপেয়ীর শিষঅ্য বল্লভদাসজীর কাছে সেতার শিক্ষা শুরু করেন| তারপর বিখঅ্যাত বীণকার আলি হোসেনের শিষঅ্য গোপালজীর কাছেও সেতার শেখেন| ১৮৮৪ সালে তিনি এফ. এ. পাশ করেন| সঙ্গীত শিক্ষার জনঅ্য বোম্বাই এর গায়ন উত্তেজক মন্ডলী নামক সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানের সভঅ্য হন| তারপর রাওজী বুয়া বেলবাগকর এর কাছে শিখতে শুরু করেন ধ্রুপদ গান| এই সময়েই মহম্মদ হোসেন ও বিলায়েত হোসেনের কাছে খেয়াল শিক্ষা করেন| কয়েক বছরের মধেঅ্যই তিনি সঙ্গীতে এমন দক্ষতার পরিচয় দেন য়ে গায়ন উত্তেজক মন্ডলী-র সঙ্গীত পরিচালনার ভার তাঁর ওপরেই অর্পণ করা হয়| এই প্রতিষ্ঠানে তিনি য়াদের নির্বাচন করতেন, তারাই সেখানে গান গাওয়ার সুয়োগ লাভ করত| ১৮৮৬ সালে ভাতখন্ডেজী বোম্বাই বিশ্ববিদঅ্যালয় থেকে বি. এ. পাশ করেন এবং ১৮৯০ সালে এল. এল. বি. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন| আইন বঅ্যবসায়েও তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন এবং সম্মানলাভ করেন| কিন্তু সঙ্গীতের প্রতি তাঁর আকর্ষণ এত প্রবল ছিল য়ে আইন বঅ্যাবসায়ে বেশি সময় খরচ না করে সঙ্গীত চর্চাতেই বেশিরভাগ সময় বঅ্যয় করতেন| হিন্দি, গুজরাতি, তেলেগু ও সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা করে তিনি এইসব ভাষায় রচিত সঙ্গীত পুস্তকাদি পাঠ করতে শুরু করলেন| ১৮৯৫ সাল পর্য়ন্ত প্রায় সারা ভারতের সঙ্গীত সম্পর্কিত পুস্তক অধঅ্যয়নের কাজে বঅ্যাপৃত থাকেন| মাঝে মধেঅ্য এইসব বিষয়ে নানা জায়গায় বক্তৃতাও করেন| ১৮৯৬ সালে তিনি বেড়়িয়ে পডেন পথে, ভরতবর্ষের তাবত অঞ্চলের সঙ্গীতের গতিপ্রকৃতি আত্মস্থ করার জনঅ্য শুরু হয় এক সঙ্গীত মুশাফিরের দীর্ঘয়াত্রা| ১৯০৪ সাল পর্য়ন্ত তিনি দাক্ষিনাতঅ্য ভ্রমণ করেন| আলোচনা করেন গুণী সঙ্গীতজ্ঞদের সঙ্গে| সংগ্রহ করেন অসংখঅ্য গানের রাগরূপ| ১৯০৭ সালে আসেন কলকাতায়| রাজা সৌরীন্দ্র মোহন ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাত হয়| দীর্ঘ আলোচনা হয় তাঁদের মধেঅ্য| ১

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তিনি একটি রেনেসাঁ নিয়ে এসেছিলেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রাগসমূহকে তিনি বর্তমানের প্রচলিত ঠাট কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এর আগে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রাগসমূহকে ছিল রাগ (পুরুষ), রাগিণী (মহিলা) ও পুত্রা (সন্তান) ভাগে বিভক্ত।

তথ্য উৎস:[সম্পাদনা]

ইংরেজি উইকিপিডিয়া

১| হিন্দুস্থানী সঙ্গীত-পদ্ধতি, প্রথম খন্ড, পন্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখন্ডে, পৃষ্ঠা-৫-৬