নিকটদৃষ্টি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নিকটদৃষ্টি
Myopia.gif
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিঃস্থ সম্পদ
বিশিষ্টতাচক্ষুচিকিৎসাবিজ্ঞান
আইসিডি-১০H৫২.১
আইসিডি-৯-সিএম৩৬৭.১
ডিজিসেসডিবি৮৭২৯
মেডলাইনপ্লাস০০১০২৩
মেএসএইচD০০৯২১৬ (ইংরেজি)

নিকটদৃষ্টি বা হ্রস্বদৃষ্টি বা মায়োপিয়া (ইংরেজি: Myopia) চোখের ৪টি প্রধান রোগের মধ্যে ১টি। এটি আসলে চোখের সেই অবস্থা যখন চোখের তারারন্ধ্রের ভেতর দিয়ে আগত আলো অক্ষিগোলকের রেটিনায় আপতিত না হয়ে তার সামনে কোন স্থানেই একটি বিন্দুতে মিলিত হয়ে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে ফেলে। ফলে চোখের নিকট দুরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার এর বেশি দূরের কোন বস্তুর বিম্ব রেটিনার সামনে গঠিত হয়। ফলে বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্বও গঠিত হয় না আর ভালো দেখাও সম্ভব হয় না। এ জন্য মায়োপিয়াকে "ক্ষীণদৃষ্টি"ও বলা হয়। এর অন্যান্য নামের মধ্যে রয়েছে "অদূরবদ্ধ দৃষ্টি" এবং "স্বল্প দৃষ্টি"।

লক্ষণসমূহ[সম্পাদনা]

ক্ষীণদৃষ্টি (বামে), সাধারণ দর্শন (ডানে)

মাইওপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টি আক্রান্ত চোখ খুব কাছের বস্তু বেশ ভালো দেখলেও দূরের বস্তু ঝাপসা দেখে। অর্থাৎ এই চোখের নিকটবিন্দু ২৫ সেন্টিমিটারেরও কম হতে পারে।

কারণ[সম্পাদনা]

অক্ষিগোলকের ব্যাসার্ধ বেড়ে গেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দুরত্ব কমে গেলে তথা অভিসারী ক্ষমতা বেড়ে গেলে এই ত্রুটি দেখা যায়।[১]

ত্রুটির ফল[সম্পাদনা]

সহায়ক লেন্স ব্যবহার করে মাইওপিয়া ত্রুটি দূরীকরণ

এক্ষেত্রে অনেক দূরবর্তী বস্তু থেকে আগত আলোক রশ্মীগুচ্ছ চোখের লেন্সে প্রতিসৃত হয়ে রেটিনার সামনে মকোন বিন্দুতে মিলিত হয়। ফলে লক্ষ্যবস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না। এই চোখের দূরবিন্দু অসীমে না হয়ে ২৫ সেন্টিমিটারের বেশি দুরত্বে কোন বিন্দুতে হয় যা অনেক সময় মাত্র ১মিটার বা তার চেয়েও কম দুরত্বে অবস্থিত হয়। তাই এই চোখ এর বেশি দুরত্বে কোন বস্ত্য স্পষ্ট দেখতে পায় না।[২]

প্রতিকার[সম্পাদনা]

মাইওপিয়া দূর করার জন্য ব্যবহৃত চশমা

চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় এই ত্রুটির উদ্ভব হয় বলে এই ত্রুটি দূর করার জন্য অভিসারী ক্ষমতা কমাবার মতন সহায়ক লেন্স বা চশমা অর্থাৎ অবতল লেন্সের চশমা ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে চোখের লেন্সের সামনে সহায়ক লেন্স বা চশমা হিসেবে এমন ফোকাস দুরত্বের অবতল লেন্স ব্যবহৃত হয় যার অসীম দুরত্বের লক্ষ্যবস্তুর বিম্ব ত্রুটিপূর্ণ চোখের দূরবিন্দুতে গঠন করে।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "মাইওপিয়া সৃষ্টির কারণ"। ৭ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৩ 
  2. মাইওপিয়ার প্রভাব
  3. রেটিনা এবং চক্ষুবিদ্যায় বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]