বিষয়বস্তুতে চলুন

দার্শনিকের পাথর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দার্শনিকের পাথরের সন্ধানরত আলকেমিস্ট, জোসেফ রাইট অফ ডার্বি, ১৭৭১

দার্শনিকের পাথর বা পরশ পাথর (ইংরেজি: stone of the philosophers (লাতিন: lapis philosophorum) একটি কল্পিত রাসায়নিক (আলকেমিক্যাল) বস্তু। বলা হয়ে থাকে এটার স্পর্শে কম দামী ধাতু যেমন পারদকে সোনা অথবা রূপায় পরিণত করা যায়। এজন্য বাংলায় একে পরশ পাথরও বলা হয়। এটাকে অনেক সময় সঞ্জীবণী সুধা বলা হয়ে থাকে। এটার পূণঃর্জীবন বা অমরত্ত্ব প্রদানের ক্ষমতা আছে। কয়েক শতাব্দী ধরে আলকেমির লক্ষ্য ছিলো এই পরশ পাথর খুঁজে বের করা। এই দার্শনিকের পাথর আবিষ্কারের প্রচেষ্টাকে বলা হতো ম্যাগনাম ওপাস (মহান কর্ম)।[১]

প্রাচীনত্ব

[সম্পাদনা]

দার্শনিকের পাথরের প্রাচীনতম পরিচিত লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায় প্যানোপলিসের জোসিমোসের চেইরোকমেটা গ্রন্থে, যা আনুমানিক ৩০০ খ্রিস্টাব্দে রচিত। আলকেমিবিষয়ক লেখকেরা অবশ্য এর আরও দীর্ঘ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেছেন। এলিয়াস অ্যাশমোল এবং গ্লোরিয়া মুন্ডি (১৬২০)-এর অজ্ঞাতনামা রচয়িতা দাবি করেন যে এর ইতিহাস আদমের যুগ থেকে শুরু, যিনি সরাসরি ঈশ্বরের কাছ থেকে এই পাথর সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছিলেন। বলা হয়, এই জ্ঞান বাইবেলে উল্লিখিত পিতৃপুরুষদের মাধ্যমে বংশপরম্পরায় সংরক্ষিত ছিল এবং এর ফলে তাঁরা দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন।

পাথরটি তৈরির তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রাচীন গ্রিক দর্শনে নিহিত। পরবর্তীকালে আলকেমিস্টরা তাঁদের প্রক্রিয়ার রূপক হিসেবে ধ্রুপদি উপাদানসমূহ, অ্যানিমা মুন্ডি ধারণা এবং প্লেটোর টিমাইওস-এর মতো গ্রন্থে বর্ণিত সৃষ্টিতত্ত্ব ব্যবহার করেন। প্লেটোর মতে, চারটি মৌলিক উপাদান একটি সাধারণ উৎস, প্রিমা ম্যাটেরিয়া, থেকে উদ্ভূত, যা বিশৃঙ্খলার ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রিমা ম্যাটেরিয়া নামটি আলকেমিস্টরা দার্শনিকের পাথর তৈরির প্রাথমিক পদার্থ বোঝাতে ব্যবহার করতেন। এই দার্শনিক প্রথম পদার্থের গুরুত্ব আলকেমির সমগ্র ইতিহাসজুড়ে অটুট ছিল। সপ্তদশ শতাব্দীতে টমাস ভন লিখেছিলেন, “পাথরের প্রথম পদার্থ সমস্ত কিছুর প্রথম পদার্থের সমতুল্য।”

মধ্যযুগ

[সম্পাদনা]

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য এবং আরব সাম্রাজ্যসমূহে প্রারম্ভিক মধ্যযুগের আলকেমিস্টরা জোসিমোসের কাজের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের গবেষণা এগিয়ে নেন। বাইজেন্টাইন ও ইসলামি আলকেমিস্টরা বিশেষভাবে ধাতু রূপান্তরের ধারণায় আকৃষ্ট ছিলেন এবং এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। অষ্টম শতাব্দীর মুসলিম আলকেমিস্ট জাবির ইবনে হাইয়ান, যিনি প্রায়শই গেবার নামে পরিচিত ছিলেন, প্রতিটি ধ্রুপদি উপাদানকে চারটি মৌলিক গুণের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করেন। তাঁর মতে, আগুন উষ্ণ ও শুষ্ক, মাটি শীতল ও শুষ্ক, জল শীতল ও আর্দ্র এবং বায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র। তিনি ধারণা দেন যে প্রতিটি ধাতু এই চারটি গুণের সমন্বয়ে গঠিত, যার মধ্যে দুটি অভ্যন্তরীণ এবং দুটি বাহ্যিক। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি ধাতুকে অন্য ধাতুতে রূপান্তর করা সম্ভব তার মৌলিক গুণাবলীর পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে। এই পরিবর্তন একটি বিশেষ পদার্থের সাহায্যে সংঘটিত হবে, যা গ্রিক ভাষায় জেরিয়ন এবং আরবি ভাষায় আল-ইক্সির নামে পরিচিত ছিল; এখান থেকেই অমৃতরস অর্থে ব্যবহৃত শব্দটির উৎপত্তি। এটিকে প্রায়শই শুকনো লাল গুঁড়ো হিসেবে বর্ণনা করা হতো, যা আল-কিবরিত আল-আহমার বা ‘লাল গন্ধক’ নামেও পরিচিত ছিল এবং যা কিংবদন্তিতুল্য দার্শনিকের পাথর থেকে প্রস্তুত বলে বিশ্বাস করা হতো। পরবর্তী আরব রসায়নবিদরা এই অমৃতগুঁড়োকে ধাতু রূপান্তরের একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন।

একাদশ শতাব্দীতে পদার্থের রূপান্তর আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে ইসলামি রসায়নবিদদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই মতের অন্যতম প্রধান বিরোধী ছিলেন ইবনে সিনা, যিনি পদার্থের রূপান্তর তত্ত্ব খণ্ডন করে বলেন যে পদার্থের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে প্রকৃত পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়, যদিও এমন পরিবর্তনের ভ্রম সৃষ্টি করা যেতে পারে।

কিংবদন্তি অনুসারে, ত্রয়োদশ শতাব্দীর বিজ্ঞানী ও দার্শনিক আলবার্টাস ম্যাগনাস দার্শনিকের পাথর আবিষ্কার করেছিলেন বলে প্রচলিত আছে। তবে ম্যাগনাস তাঁর নিজস্ব লেখায় এই আবিষ্কারের দাবি করেননি। তিনি কেবল উল্লেখ করেছিলেন যে “রূপান্তর” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সোনা উৎপন্ন হতে তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

রেনেসাঁ থেকে প্রারম্ভিক আধুনিক যুগ

[সম্পাদনা]

বর্গাকার বৃত্ত সপ্তদশ শতাব্দীর একটি আলকেমিক প্রতীক, যা পদার্থের চারটি মৌলিক উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়াকে চিত্রিত করে এবং দার্শনিকের পাথরের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ষোড়শ শতাব্দীর সুইস রসায়নবিদ প্যারাসেলসাস (ফিলিপাস অরিওলাস থিওফ্রাস্টাস বোমবাস্টাস ফন হোহেনহাইম) অ্যালকাহেস্টের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন। তাঁর ধারণা ছিল, এটি এমন একটি মৌল যা তখনও আবিষ্কৃত হয়নি এবং অন্যান্য সব মৌলিক উপাদান—মাটি, আগুন, জল ও বায়ু—এরই বিভিন্ন রূপ। প্যারাসেলসাস মনে করতেন, এই মৌলই প্রকৃতপক্ষে দার্শনিকের পাথর।

ইংরেজ দার্শনিক স্যার টমাস ব্রাউন তাঁর আধ্যাত্মিক ইচ্ছাপত্র রেলিজিও মেডিচি (১৬৪৩)-তে দার্শনিকের পাথর অনুসন্ধানের ধর্মীয় তাৎপর্য উল্লেখ করে লিখেছিলেন:

দার্শনিকের পাথর সম্পর্কে আমার যে সামান্য জ্ঞান আছে, যা স্বর্ণের পরিপূর্ণতার চেয়েও অধিক মূল্যবান, তা আমাকে ঈশ্বরতত্ত্ব সম্পর্কে বহু বিষয় শিক্ষা দিয়েছে।

সপ্তদশ শতাব্দীতে প্রকাশিত রহস্যময় গ্রন্থ মিউটাস লিবারকে দার্শনিকের পাথর প্রস্তুতের একটি প্রতীকধর্মী নির্দেশিকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। “শব্দহীন গ্রন্থ” নামে পরিচিত এই রচনাটি ১৫টি চিত্রের একটি সংকলন।

বৌদ্ধধর্ম এবং হিন্দুধর্মে

[সম্পাদনা]

বৌদ্ধধর্ম ও হিন্দুধর্মে দার্শনিকের পাথরের সমতুল্য বস্তু হলো চিন্তামণি। একে সংস্কৃত, হিন্দি এবং মারাঠি ভাষায় যথাক্রমে পরশমণি, পরসমণি এবং পারিস নামেও উল্লেখ করা হয়।

মহাযান বৌদ্ধধর্মে চিন্তামণি অবলোকিতেশ্বর এবং ক্ষিতিগর্ভ বোধিসত্ত্বের হাতে অবস্থান করে। তিব্বতি প্রার্থনা-পতাকায় চিত্রিত লুং তা বা বায়ু-অশ্বের পিঠেও এটিকে বহন করতে দেখা যায়। বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুসারে, চিন্তামণির ধারণী পাঠ করলে প্রজ্ঞা অর্জিত হয়, বুদ্ধদের সত্য উপলব্ধি করা যায় এবং ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টকে বোধিতে, অর্থাৎ জ্ঞানলাভে, রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়। আরও বলা হয় যে, এটি মৃত্যুশয্যায় অমিতাভ বুদ্ধ এবং তাঁর অনুচরদের দর্শন লাভে সহায়তা করে। তিব্বতি বৌদ্ধ ঐতিহ্যে চিন্তামণিকে কখনও উজ্জ্বল মুক্তা হিসেবে চিত্রিত করা হয় এবং এটি বুদ্ধের বিভিন্ন রূপের অধিকারে রয়েছে বলে বর্ণনা করা হয়।

হিন্দুধর্মে দার্শনিকের পাথরকে বিষ্ণু এবং গণেশের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়। একে প্রায়শই নাগরাজের অধিকারে থাকা একটি রত্ন বা মকরের ললাট অলংকৃতকারী রত্ন হিসেবে চিত্রিত করা হয়। দশম শতাব্দীতে রচিত যোগ বশিষ্ঠ গ্রন্থে দার্শনিকের পাথর সম্পর্কিত একটি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

একজন বিশিষ্ট হিন্দু ঋষি দার্শনিকের পাথরের রূপক ব্যবহার করে জ্ঞান বা বোধশক্তির আধ্যাত্মিক সিদ্ধি ব্যাখ্যা করেছেন। সন্ত জ্ঞানেশ্বর (১২৭৫–১২৯৬) তাঁর ভাষ্যে দার্শনিকের পাথরের ১৭টি উল্লেখ করেছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এটি সাধারণ ধাতুকে সোনায় রূপান্তরিত করে। সপ্তম শতাব্দীর সিদ্ধার তিরুমূলার তাঁর ধ্রুপদি গ্রন্থ তিরুমন্দিরম-এ মানবজাতির অমরত্ব ও দেবত্ব অর্জনের পথ ব্যাখ্যা করেছেন। ২৭০৯ নম্বর শ্লোকে তিনি ঘোষণা করেন যে, ঈশ্বরের নাম শিব একটি আলকেমিক মাধ্যম, যা মানবদেহকে অমর সোনায় রূপান্তরিত করে।

দার্শনিকের পাথরের আরেকটি রূপ হলো শ্যামন্তক মণি। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, শ্যামন্তক মণি একটি চুনি, যা তার অধিকারীর চারপাশে খরা, বন্যা এবং অনুরূপ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে এটি প্রতিদিন আট ভর, অর্থাৎ প্রায় ৭০০ কিলোগ্রাম সোনা উৎপন্ন করতে পারে বলে বর্ণিত হয়েছে।

বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

দার্শনিকের পাথরের সঙ্গে সর্বাধিক যে বৈশিষ্ট্যগুলি যুক্ত করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সাধারণ ধাতুকে সোনা বা রুপায় রূপান্তর করার ক্ষমতা, সব ধরনের রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা এবং মদের সঙ্গে মিশিয়ে এর অতি সামান্য অংশ সেবনকারী ব্যক্তির আয়ু বৃদ্ধি করার ক্ষমতা। এর সঙ্গে আরও যে ক্ষমতাগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অনির্বাণ প্রদীপ তৈরি করা, সাধারণ স্ফটিককে মূল্যবান রত্ন ও হীরায় রূপান্তর করা, মৃত উদ্ভিদকে পুনরুজ্জীবিত করা, নমনীয় বা প্রসারণযোগ্য কাচ তৈরি করা এবং একটি প্রতিরূপ মানব বা হোমাঙ্কুলাস সৃষ্টি করা।

দার্শনিকের পাথরকে পরোক্ষভাবে উল্লেখ করার জন্য বহু প্রতিশব্দ ব্যবহৃত হতো। এর মধ্যে ছিল “শ্বেত পাথর”, যা প্রকাশিত বাক্য ২:১৭-এ উল্লিখিত পবিত্র শ্বেত পাথরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হতো এবং স্বর্গীয় মহিমার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতো। এছাড়া ভিট্রিওল, লাপিস নস্টার, লাপিস অক্কুলতুস, বাক্সের জল এবং আরও অসংখ্য রূপক, গুপ্তার্থবাহী ও পৌরাণিক নাম ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন আদম, অ্যানিমাল, অ্যালকাহেস্ট, অ্যান্টিডোটাস, অ্যান্টিমনি, অ্যাকোয়া বেনেডিক্টা, সেরবেরুস, বিশৃঙ্খলা, ক্রোকুস, দিব্য পঞ্চম তত্ত্ব, ড্রাকো, ইলিক্সির, কিমিয়া, প্যানাসিয়া, প্যান্ডোরা এবং আরও বহু নাম।

যিশু খ্রিস্টকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বহু মধ্যযুগীয় রূপকও দার্শনিকের পাথরের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছিল। অনেক আলকেমিস্ট খ্রিস্ট এবং পাথরকে রহস্যবাদী অর্থে অভিন্ন বলে বিবেচনা করতেন। “পাথর” বা “লাপিস” নামটির উৎসও আংশিকভাবে প্রাথমিক খ্রিস্টীয় রূপকধারার সঙ্গে সম্পর্কিত। চতুর্থ শতাব্দীর প্রিসিলিয়ান লিখেছিলেন: “ঈশ্বর একশৃঙ্গ, খ্রিস্ট আমাদের শিলা, যিশু আমাদের ভিত্তিপ্রস্তর, খ্রিস্ট মানবজাতির প্রকৃত মানুষ।”

কিছু গ্রন্থে একে কেবল “পাথর”, “আমাদের পাথর” অথবা টমাস নর্টনের অর্ডিনাল গ্রন্থে ব্যবহৃত ভাষায় “আমাদের সুস্বাদু পাথর” বলা হয়েছে। প্রায়ই এই পাথরকে প্রশংসাসূচক ও মহিমান্বিত ভাষায় উল্লেখ করা হতো।

লাতিন লাপিস ফিলোসোফোরুম এবং আরবি হাজার আল-ফালাসিফা উভয় নামেই “দার্শনিক” শব্দটি বহুবচন রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে আক্ষরিক অর্থে এর অনুবাদ “দার্শনিকদের পাথর”, একক দার্শনিকের পাথর নয়।

চেহারা

[সম্পাদনা]

দার্শনিকের পাথরের বর্ণনা বিভিন্ন গ্রন্থে নানা রকমভাবে পাওয়া যায়। আলকেমিক সাহিত্য অনুযায়ী, এটি প্রধানত দুই ধরনের ছিল: শ্বেত পাথর, যা রুপা উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হতো, এবং লাল পাথর, যা সোনা উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হতো। শ্বেত পাথরকে লাল পাথরের অপেক্ষাকৃত অপরিণত রূপ বলে বিবেচনা করা হতো।

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বহু আলকেমিক গ্রন্থে, বিশেষত লাল পাথরের বাহ্যিক রূপ সম্পর্কে বিভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বলা হয়েছে, গুঁড়ো করলে এর রং কমলা বা জাফরানের মতো লালচে হয়। কঠিন অবস্থায় এটি লাল ও বেগুনির মধ্যবর্তী বর্ণের, স্বচ্ছ এবং কাচের মতো দীপ্তিমান। এর ওজন সোনার চেয়েও বেশি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এটিকে সব ধরনের তরলে দ্রবণীয় এবং আগুনে অদাহ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনেক আলকেমি লেখক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পাথরের এসব বর্ণনা আক্ষরিক নয়, বরং রূপক। আটলান্টা ফুজিয়েন্স-এর একবিংশ প্রতীকে এর চেহারা জ্যামিতিক প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে:

একজন পুরুষ ও একজন নারীকে নিয়ে একটি বৃত্ত তৈরি করো; তারপর তা থেকে একটি চতুর্ভুজ; সেখান থেকে একটি ত্রিভুজ; এবং পুনরায় একটি বৃত্ত সৃষ্টি করো—তাহলেই তুমি জ্ঞানীদের পাথর লাভ করবে। এইভাবেই পাথরটি নির্মিত হয়, এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এই জ্যামিতিক শিক্ষা উপলব্ধি না করলে তুমি একে আবিষ্কার করতে পারবে না।

একই গ্রন্থে প্রতীকের গুপ্তার্থ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে যে এটি নারী ও পুরুষ নীতির ঐশ্বরিক সংযুক্তির প্রতীক। সেখানে বলা হয়, দেহ, আত্মা ও প্রাণ—এই তিনটি মৌলিক তত্ত্বের সমন্বয়ে চতুর্ভুজ ত্রিভুজে রূপান্তরিত হয়; পরে তা আবার একটি বৃত্তে, অর্থাৎ অবিভাজ্য রক্তিম ঐক্যে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় নারী পুরুষে রূপান্তরিত হয়ে তার সঙ্গে একীভূত হয় এবং বহুত্ব পুনরায় একত্বে প্রত্যাবর্তন করে, যেখানে শাশ্বত বিশ্রাম ও শান্তি বিরাজমান।

জ্যঁ দ্য রুপেসিসা খ্রিস্টীয় যন্ত্রণার প্রতীকী ভাষা ব্যবহার করে লিখেছেন যে দার্শনিকের পাথর “সর্বশ্রেষ্ঠ রাজার সমাধি থেকে উজ্জ্বল ও মহিমান্বিত অবস্থায় মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়ে লাল মুকুট পরিধান করে ঊর্ধ্বগমন করে।”

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

আরো পড়ুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]