বিষয়বস্তুতে চলুন

দারিনের চুক্তি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দারিন চুক্তির স্বাক্ষরকারীগণ
যুক্তরাজ্যের পক্ষে পারসি কক্স
নজদের শাসক ইবনে সৌদ

দারিনের চুক্তি যুক্তরাজ্য ও নজদের শাসক আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের (ইবনে সৌদ নামেও পরিচিত) মধ্যে ১৯১৫ সালে স্বাক্ষরিত হয়। ইবনে সৌদ ১৯৩২ সালে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠা করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর

[সম্পাদনা]

১৯১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর আবদুল আজিজ ও ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে স্যার পারসি কক্স পারস্য উপসাগরের দারিন দ্বীপে (তারুত দ্বীপ বলেও পরিচিত) এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।[১][২]

চুক্তির মাধ্যমে সৌদ পরিবারের অঞ্চলসমূহ ব্রিটিশ আশ্রিত রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এর সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। চুক্তিতে ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য ছিল যাতে কুয়েত, কাতার ও চুক্তিভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয়।[৩] আবদুল আজিজ এসকল ব্রিটিশ আশ্রিত রাষ্ট্র হামলা না করার ব্যাপারে রাজি হন। তবে তিনি মক্কার শরিফকে আক্রমণ না করার ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।[৪] এছাড়াও নজদ ও হাসা আমিরাত ব্রিটিশ পক্ষে বিশ্বযুদ্ধে যোগদানে সম্মত হয়।[২]

গুরুত্ব

[সম্পাদনা]

এই চুক্তির মাধ্যমে সর্বপ্রথম নতুন সৌদি রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। সে সাথে নজদের ইতিহাসের প্রথমবার আলোচনার মাধ্যমে সীমানা নির্ধারিত হয়।[৩] এছাড়াও চুক্তিতে ব্রিটিশরা তাদের উপসাগরীয় অঞ্চলের আশ্রিত রাষ্ট্রসমূহকে রক্ষা করতে চাইলেও এই চুক্তি পার্শ্ববর্তী এলাকায় সৌদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।[৩] পরবর্তীতে জেদ্দার চুক্তি (১৯২৭) এর স্থলাভিষিক্ত হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ Abdul-Razzak, S. (১৯৯৭)। International Boundaries of Saudi Arabia। পৃ. ৩২। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১৭২০০০০০৪।
  2. 1 2 Abdullah I of Jordan; Philip Perceval Graves (১৯৫০)। Memoirs। পৃ. ১৮৬।
  3. 1 2 3 Chaudhry, Kiren Aziz (১৯৯৭)। The Price of Wealth: Economics and Institutions in the Middle East। পৃ. ৫৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০৮০১৪৮৪৩০৮।
  4. ↑ Al-Naqeeb, Khaldoun Hasan (১৯৯১)। Society and State in the Gulf and Arab Peninsula: A Different Perspective। পৃ. ৬৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০৪১৫০৪১৬২১।