থমাস অ্যান্ড্রুজ (বিজ্ঞানী)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
থমাস অ্যান্ড্রুজ
Andrews Thomas.jpg
জন্ম১৯ ডিসেম্বর, ১৮১৩
বেলফাস্ট, আয়ারল্যান্ড
মৃত্যু২৬ নভেম্বর, ১৮৮৫ (৭১ বছরে)
বেলফাস্ট, আয়ারল্যান্ড
কর্মক্ষেত্ররসায়ন
পদার্থবিজ্ঞান
প্রাক্তন ছাত্রগ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়য়
পরিচিতির কারণদশান্তর
উল্লেখযোগ্য
পুরস্কার
রয়াল পদক (১৮৪৪)

থমাস অ্যান্ড্রুজ একজন আইরিশ রসায়নবিদপদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি বায়বীয় ও তরল পদার্থের দশান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি কুইন্স ইউনিভার্সিটি অফ বেলফাস্টে দীর্ঘদিন রসায়নের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন।

জীবন[সম্পাদনা]

থমাস অ্যান্ড্রুজ আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেখানে তার বাবা একজন লিনেন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি বেলফাস্ট একাডেমি এবং রয়েল বেলফাস্ট একাডেমিক ইনস্টিটিউশনে অধ্যয়ন করেন। বেলফাস্ট একাডেমিক ইনস্টিটিউশনে তিনি জেমস থমসনের অধীনে গণিত অধ্যয়ন করেন। ১৮৩৮ সালে তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক থমাস থমসনের অধীনে রসায়ন অধ্যয়নের জন্য যান। তারপরে তিনি ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি ক্লাসিক্সের পাশাপাশি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশেষত্ব অর্জন করেছিলেন। অবশেষে, ১৮৩৫ সালে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি চিকিৎসায় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।

১৮৩৫ সালে থমাস অ্যান্ড্রুজ বেলফাস্টে সাফল্যের সাথে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছিলেন। এছাড়াও তিনি একাডেমিক ইনস্টিটিউশনে রসায়ন বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ১৮৪৫ সালে তিনি নতুন প্রতিষ্ঠিত কুইন্স ইউনিভার্সিটি অফ বেলফাস্টের সহ-সভাপতি এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৮৭৯ সালে ৬৬ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি এই পদে কাজ করেছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এবং বেলফাস্টের বরো কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৮৪২ সালে, থমাস অ্যান্ড্রুজ জেন হার্ডি ওয়াকারকে (১৮১৮-১৮৯৯) বিয়ে করেছিলেন। ভূতাত্ত্বিক ম্যারি অ্যান্ড্রুজসহ তাদের ছয়জন সন্তান ছিল।[১]

কাজ[সম্পাদনা]

রাসায়নিক ক্রিয়ায় বিকাশিত তাপ সম্পর্কে কাজ করার পর থমাস অ্যান্ড্রুজ বৈজ্ঞানিক তদন্তকারী হিসাবে পরিচিত হয়েছিলেন। এর জন্য রয়্যাল সোসাইটি তাকে ১৮৪৪ সালে রয়্যাল পদক প্রদান করে। এছাড়াও তিনি পদার্থবিজ্ঞানী পিটার গাথ্রি টেইটের সহযোগিতায় ওজোন সম্পর্কে গবেষণা করেন।

তিনি প্রধানত গ্যাসের তরলীকরণের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পরিচিত। ১৮৬০ এর দশকে তিনি গ্যাস সূত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ গবেষণা করেছিলেন। তিনি কার্বন ডাই অক্সাইডের চাপ, তাপমাত্রা এবং আয়তনের সম্পর্ককে প্রকাশ করে। বিশেষ করে, তিনি সংকট তাপমাত্রা এবং সংকট চাপের ধারণাগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর মাধ্যমে জানা যায় যে, কোনো ধারাবাহিকতা লঙ্ঘন ছাড়াই কোনো পদার্থ বাষ্প থেকে তরল অবস্থায় চলে যায়।[২]

দশান্তর সম্পর্কে থমাস অ্যান্ড্রুজের পরীক্ষা-নিরীক্ষায়, তিনি দেখিয়েছিলেন যে কার্বন ডাই অক্সাইড একাত্ততা হারানো ছাড়াই তরল এবং গ্যাসীয় অবস্থার মধ্যে স্থানান্তরিত হতে পারে। গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞানী জোসিয়াহ উইলার্ড গিবস মুক্ত শক্তি সমীকরণের সমর্থনে এই ফলাফলগুলো উদ্ধৃত করেছেন। থমাস অ্যান্ড্রুজের এই ফলাফলের জন্য গবেষকদের মধ্যে গ্যাসকে তরলে পরিণত করার প্রতিযোগিতা হয়। ১৮৭৭-৭৮ সালে লুই পল কেইলেটেট প্রথমবার অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন গ্যাসকে তরলে পরিণত করেছিলেন।

উল্লেখযোগ্য লেখা[সম্পাদনা]

• থমাস অ্যান্ড্রুজ, "The Bakerian Lecture: On the Continuity of the Gaseous and Liquid States of Matter" (১৮৬৯)

Tait, P. G.; Crum Brown, A. (১৮৮৯)। The Scientific Papers of the Late Thomas Andrews। লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক: Macmillan and Company।  - থমাস অ্যান্ড্রুজের জীবনী

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

Scott, E. L. (১৯৭০)। "Andrews, Thomas"। Dictionary of Scientific Biography। নিউ ইয়র্ক: Charles Scribner's Sons। পৃষ্ঠা ১৬০–১৬১। আইএসবিএন 978-0-684-10114-9 

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Mary R. S. Creese; Thomas M. Creese (২০০৪)। Ladies in the Laboratory 2। Scarecrow Press। পৃষ্ঠা 51। আইএসবিএন 978-0-8108-4979-2। সংগ্রহের তারিখ ৭ অক্টোবর ২০১২ 
  2. Andrews coined the term "critical point" in 1869 in: Andrews, Thomas (1869) "The Bakerian lecture: On the continuity of the gaseous and liquid states of matter," Philosophical Transactions of the Royal Society (London), 159 : 575-590; the term "critical point" appears on page 588.