তুঙ্গনাথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

তুঙ্গনাথ উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিব মন্দির আর পঞ্চ কেদারের অন্যতম। এর উচ্চতা ১২০৭৩ ফুট। দেবাদিদেব মহাদেবের পঞ্চকেদার গুলি হল কেদারনাথ, মদমহেশ্বর, কল্পেশ্বর, রুদ্রনাথ আর তুঙ্গনাথ।

ইতিহাস ও জনশ্রুতি[সম্পাদনা]

পঞ্চকেদার নিয়ে একটা জনশ্রুতি আছে। মহাভারতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধর পর পান্ডবরা যখন পাপের আগুনে পুড়ছেন তখন তারা ঠিক করেন যে ভ্রাতৃহত্যার পাপ মোচন করতে তারা শিবের পূজো করবেন। সেই ইচ্ছায় শিবের সন্ধানে তারা বারাণসীতে গিয়ে হাজির হন। কিন্তু মহাদেব এই পাপীদের হাতে ধরা দিতে রাজি হলেননা

তুঙ্গনাথ.jpg

তাই তিনি একটি ষাঁড়ের রূপ ধারন করলেন আর হিমালয় পর্বতমালার, উত্তরাখন্ডের গুপ্তকাশীতে চলে যান। পান্ডবরাও তাকে নানা জায়গায় খুঁজতে খুঁজতে উত্তরাখন্ডে এসে হাজির হলেন আর এদিকে শিবও এ পাহাড় ও পাহাড়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে লাগলেন; পিছনে পিছনে ধাওয়া করলেন পান্ডবরা। যেখানে যেখানে পান্ডবরা ষাঁড় রূপী শিব কে ধরেও ধরতে পারে নি মানে কোথাও লেজ ধরেছে কোথাও শিঙ ধরেছে কিন্তু শিব তবু পিছ্লে পালিয়ে গিয়েছেন সেই স্থানগুলিই পঞ্চকেদার নামে পরিচিত হয়। তুঙ্গনাথকে তৃতীয় কেদার বলা হয়। তুঙ্গনাথ কিন্তু চারধামের (কেদারনাথ-বদ্রীনাথ আর গঙ্গোত্রী-যমুনোত্রী) অন্তর্গত নয়।

পর্যটন[সম্পাদনা]

চোপতা থেকে সাড়ে চার কিলোমিটারের হাঁটা পথ তুঙ্গনাথ। প্রায় ৮,৮০০ ফুট উচ্চতার চোপতাকে অনেকে উত্তরাখণ্ডের মিনি সুইতজারল্যান্ড বলেন। কারণ, সবুজ বুগিয়াল; “বুগিয়াল” অর্থাৎ মাঠ।পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে যাওয়া বিস্তীর্ণ এক সবুজ তৃণভূমি।

তুঙ্গনাথের পথে1.jpg

চোপতা, উখিমঠ, সারিগ্রাম, গোপেশ্বর— আশপাশের বেশ কয়েক জায়গার বাসিন্দাদের কাছে তুঙ্গনাথ পূন্যভূমি।

তুঙ্গনাথের পথে2.jpg

তুঙ্গনাথেরও উপরে ১৩১২৩ ফুট উচ্চতায় এই পাহাড়ের চুড়োয় আছে চন্দ্রশিলা যেখান থেকে হিমালয়ের ৩৬০ ডিগ্রি কোণে চার পাশের তুষারধবল শৃঙ্গ দেখা যায় সেগুকি হল চৌখাম্বা, নন্দাদেবী, নন্দাঘুন্টি, কামিট, পালকি, নীলকন্ঠ, সুদর্শন, মেরু-সুমেরু, শিবলিঙ্গ। চন্দ্রশিলার চুড়োয় একটা ছোট্ট মন্দির রয়েছে, গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে নিবেদিত।

তুঙ্গনাথের পথে3.jpg

গাড়োয়াল ভ্রমনের এক অন্যতম অংশ হল এই তুঙ্গনাথ-চন্দ্রশিলা যা বাঙালিদের অতি পরিচিত স্থান সৌজন্যে অবশ্য উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তার “হিমালয়ের পথে পথে” গাড়োয়ালকে বাঙালিদের কছে জনপ্রিয় করে তোলে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]