তাইওয়ান-বেলিজ সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
তাইওয়ান-বেলিজ সম্পর্ক
মানচিত্র Belize এবং Taiwan অবস্থান নির্দেশ করছে

বেলিজ

প্রজাতন্ত্রী চীন

তাইওয়ান-বেলিজ সম্পর্ক, তাইওয়ান এবং বেলিজ এর মাঝে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নির্দেশ করে। ১৯৮৯ সালে এই দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

উইলিয়াম কুইন্টো নামক, বেলিজে বসবাসরত একজন চীনা অভিবাসী প্রথম তাইওয়ান ও বেলিজের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি সেময়কার ক্ষমতাসীন দল পিপলস ইউনাইটেড পার্টি এর সমর্থক ছিলেন। তিনি ১৯৮০ এর শুরুর দিকে সাঈদ মুসার মাধ্যমে বেলিজের প্রধানমন্ত্রী, জর্জ প্রাইস এর নিকট তদবির নিয়ে যান। সাঈদ মুসা ছিলেন কুইন্টোর ঘনিষ্ঠ এবং বেলিজের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তি।

পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালের মে মাসে, এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য গুয়াতেমালায় নিযুক্ত তাইওয়ানের রাষ্ট্রদূত লো ই-চেং বেলিজ সফরে যান। সফরে তিনি কুইন্টো এবং বেলিজের প্রধানমন্ত্রী প্রাইস এর সঙ্গে, তাইওয়ান-বেলিজ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার ব্যাপারে বৈঠক করেন। কিন্তু গুয়াতেমালার নেতা, রোডোলফো লোবোস জামোরা তাইওয়ানের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেন। এরপরে ১৯৮৪ সালে বেলিজে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিরোধী দল ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ক্ষমতায় আসে এবং দলটির নেতা ম্যানুয়েল এসকুইভেল বেলিজের প্রধানমন্ত্রী হন। তখন তাইওয়ান-বেলিজ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটি অন্তরালে চলে যায়। তবে কুইন্টো তখনও এই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান। সেই সময় তিনি মুসা (তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী), বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, হ্যারি কোর্টনি এবং উপমন্ত্রী রবার্ট লেসলির সাথে আলোচনা করেন। এর পাশাপাশি তিনি এই ৩ জনকে, লো ই-চেং এর সাথে আলোচনার জন্যে জাপান এবং হংকং-এ যাওয়ার অনুরোধ করেন। যদিও বেলিজের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে এই ব্যাপারে কোন অগ্রগতি হয় নি।

১৯৮৯ সালে, বেলিজের সাধারণ নির্বাচনে পিপলস ইউনাইটেড পার্টি আবার জয়লাভ করে এবং ক্ষমতায় আসে। এরপর দলটি সরকার গঠন করে, তাইওয়ানের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হয় এবং ১৯৮৯ সালেই এই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। সেই সময় বিদেশে বেলিজের মাত্র ৩ টি দূতাবাস ছিল। দূতাবাস তিনটি ছিল লন্ডন, ওয়াশিংটন, ডি.সি. এবং জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে

এরপর তাইওয়ানে বেলিজের দূতাবাস স্থাপিত হলে, বেলিজের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা, উইলিয়াম কুইন্টোকে, তাইওয়ানের, বেলিজ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। কুইন্টো এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং তাইওয়ানে নিযুক্ত বেলিজের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে, তাইওয়ানে অবস্থিত বেলিজ দূতাবাসে যোগ দেন। [১] তিনি ২০০৮ সালে এই পদ থেকে অবসরে যান।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "送別伍永泉大使 憶當年建交經過" [Farewell to Ambassador Wu Rongquan Recalling the establishment of diplomatic relations that year]। ন্যাশনাল পলিসি ফাউন্ডেশন কমেন্ট্রি (চীনা ভাষায়)। ২০০৮-০৫-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৪-২২ 
  2. "貝里斯大使家庭" [Ambassador Belize family]। তাইওয়ান পাবলিক টেলিভিশন (চীনা ভাষায়)। ২০১০-০৩-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৪-২২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]