তাঁতরাবিরা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

তাঁতরাবিরা
Long-brand bushbrown
Close wing position of Mycalesis visala Moore, 1857 – Long-branded Bushbrown WLB DSC 3973.jpg
ডানা বন্ধ অবস্থায়
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: Arthropoda
শ্রেণী: Insecta
বর্গ: Lepidoptera
পরিবার: Nymphalidae
গণ: Mycalesis
প্রজাতি: M. visala
দ্বিপদী নাম
Mycalesis visala
Moore, 1858[১]

তাঁতরাবিরা[২] (বৈজ্ঞানিক নাম: Mycalesis visala (Moore)) প্রজাতি নিমফ্যালিডি (Nymphalidae) গোত্র ও 'স্যাটিরিনি' (Satyrinae) উপ-গোত্রের অন্তর্ভুক্ত প্রজাপতি।[৩][৪]

আকার[সম্পাদনা]

তাঁতরাবিরা প্রসারিত অবস্থায় ডানার আকার ৪৫-৫৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের হয়।[৫][৬]

উপপ্রজাতি[সম্পাদনা]

ভারতে প্রাপ্ত তাঁতরাবিরা এর উপপ্রজাতি হল-[৭]

  • Mycalesis visala visala Moore, 1857 – Indian Long-branded Bushbrown
  • Mycalesis visala andamana Moore, 1892 – Andaman Long-branded Bushbrown

বিস্তৃতি[সম্পাদনা]

ভারত (ভারতীয় উপদ্বীপ [কর্ণাটক থেকে দক্ষিণদিকে], পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ [পাঁচমারি], হিমাচল প্রদেশ থেকে অরুণাচল প্রদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারত), নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, মায়ানমার, শ্রীলংকা এর বিভিন্ন অঞ্চলে এদের পাওয়া যায়।[৮]

বর্ণনা[সম্পাদনা]

প্রজাপতির দেহাংশের পরিচয় বিষদ জানার জন্য প্রজাপতির দেহ এবং ডানার অংশের নির্দেশিকা দেখুন:-

সাধারণ দর্শনে এই প্রজাতিকে ডার্ক-ব্র্যান্ডেড বুশব্রাউন (Mycalesis mineus) প্রজাতির অনুরূপ দেখায়, তবে এরা ডার্ক-ব্র্যান্ডেড বুশব্রাউনদের তুলনায় আকারে বড়। তাঁতরাবিরা প্রজাতির রূপভেদ অনেক (variable) এবং ডানার দাগ-ছোপ-চক্ষুবিন্দু (ocellus) ঋতুপরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়।

ডানার উপরিতল: ডানার উপরিতল কালচে বাদামি বা কালচে খয়েরি। সামনের ডানায় ডিসকাল অংশে ২ নং শিরামধ্যে (inter-space) হলুদ বলয়াবৃত ও সাদা তারাবিন্দু (puple) যুক্ত একটি বড় চক্ষুবিন্দু (ocelli) বর্তমান এবং আর্দ্র -ঋতুরূপে উক্ত চক্ষুবিন্দু শুষ্ক-ঋতুরূপ অপেক্ষা অনেক বেশি সুস্পষ্ট। কোনো কোনো নমুনায় উক্ত চক্ষুবিন্দুটির উপরদিকে খানিকটা ঢিবির মতো উঁচু (swelled) ও সেই উঁচু অংশে একটি ক্ষুদ্র তারাবিন্দু চোখে পড়ে এবং চক্ষুবিন্দুটির খানিক উপরে অনুরূপ একটি ক্ষুদ্র চক্ষুবিন্দু নজরে আসে। একটি অস্পষ্ট কালচে বাদামি আঁকাবাঁকা পোস্ট-ডিসকাল রেখা কোস্টার নিচ থেকে টরনাসের উপরে ১বি নং শিরা অবধি বিস্তৃত। সরু কালো টার্মিনাল ও সাব-টার্মিনাল রেখা সমান্তরালভাবে বিস্তৃত।

পিছনের ডানা সাধারণত দাগ-ছোপহীন, তবে নিম্নতলের চক্ষুবিন্দুগুলি কখনো কখনো খুবই অস্পষ্টভাবে উপরিতলে দৃশ্যমান। পোস্ট-ডিসকাল রেখা সামনের ডানার অনুরূপ। টার্মেন খাঁজকাটা ও ঢেউখেলানো এবং টার্মিনাল ও সাব-টার্মিনাল রেখা সমান্তরাল ভাবে অনুরূপ খাঁজকাটা ও ঢেউখেলানো। পুরুষ প্রকারে পিছনের ডানার গোড়ায় (base) কোস্টার নিচে লম্বা ফ্যাকাশে বাদামি দাগ (brand) দেখা যায়। উভয় ডানার প্বার্শ-রোয়া বা সিলিয়া ফ্যাকাশে বাদামি।

ডানার নিম্নতল: কালচে বাদামি বা ফ্যাকাশে বাদামি। পুরুষ প্রকারে সামনের ডানায় ডরসামের ঠিক উপরে গোড়া (base) থেকে সাদা ডিসকাল বন্ধনী পর্যন্ত বিস্তৃত লম্বা সাদাটে বাদামি দাগ(brand) বর্তমান। সামনের ও পিছনের উভয় ডানা জুড়ে লম্বা সরু ও সাদা ডিসকাল বন্ধনী বিদ্যমান ।সামনের ডানায়) হলুদ বলয়াবৃত ও সাদা তারাবিন্দু (puple) যুক্ত দুটি চক্ষুবিন্দু দেখা যায় যাদের মধ্যে উপরেরটি ছোট ও নিচেরটি বৃহদাকার। চক্ষুবিন্দু দুটির বাইরের অর্ধ বেষ্টন করে একটি পুরু,সাদা পোস্ট-ডিসকাল রেখা এবং ফ্যাকাশে সাদা বা হলদেটে সাদা আঁকাবাঁকা টার্মিনাল ও সাব-টার্মিনাল পুরু রেখা চোখে পড়ে।[৯]

পিছনের ডানায় ছোট বড় এক সারি অনুরূপ চক্ষুবিন্দু (সরলরৈখিক নয়) ও তাদের বহি-প্রান্ত বেষ্টন করে সামনের ডানার অনুরূপ পুরু পোস্ট-ডিসকাল রেখা কোস্টা থেকে টরনাস পর্যন্ত বক্রভাবে বিস্তৃত। টার্মিনাল ও সাব-টার্মিনাল রেখা সামনের ডানার অনুরূপ, তবে অধিক ঢেউ খেলানো ও মধ্যভাগে খাঁজযুক্ত।

শুস্ক-ঋতুরূপে চক্ষুবিন্দুগুলি খুব অস্পষ্ট হয়ে যায় বা ক্ষুদ্র বিন্দুর আকার ধারণ করে এবং পুরুষ প্রকারে পিছনের ডানার উপরিতলে ও সামনের ডানার নিম্নতলের দাগদুটি (brand) বিলুপ্ত হয়। শুস্ক-ঋতুরূপে সামনের ডানার শীর্ষ তীক্ষ্ণ ও টার্মেন সোজা। আর্দ্র- ঋতুরূপে সামনের ডানার শীর্ষ ও টার্মেন অধিক গোলাকৃতি।

স্ত্রী ও পুরুষ প্রকার প্রায় অনুরূপ। শুঙ্গ সাদায় -কালোয় ডোরাকাটা এবং শীর্ষভাগ কমলা-হলুদ। মাথা, বক্ষদেশ ও উদর উপরিতলে কালচে বাদামি বা কালচে খয়েরি এবং নিম্নতলে ফ্যাকাশে বাদামি।

আচরণ[সম্পাদনা]

সুলভ দর্শন এই প্রজাতি অন্যান্য বুশব্রাউন প্রজাতির ন্যায় ধীর, দুর্বল ও অসংলগ্ন (irregular) উড়ানবিশিষ্ট। এরা ভূমির কাছাকাছি নিচ দিয়ে ডানা ঝাঁকি দিয়ে ওড়ে (jerky flight); দীর্ঘক্ষণ একজায়গায় বসে থাকতে দেখা যায় ও বিরক্ত করলে সামান্য দুরত্ব উড়েই দ্রুত পছন্দসই জায়গায় বসে পড়ে। উত্তর-পূর্ব ভারতে এদের বিচরণ বেশ কম দেখা গেলেও, ভারতের অনত্র উপযুক্ত পরিবেশে এদের প্রাচুর্য চোখে পড়ে। এই প্রজাতি সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলে ঘন জঙ্গল, ঘন ঝোপঝাড় যুক্ত ছায়াচ্ছন্ন পরিবেশ বিশেষ পছন্দ করে। সাধারণত সকালের প্রথম ভাগ, বিকালের শেষভাগ ও সন্ধ্যার দিকে এদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়। মেঘলা দিনে এরা প্রায় সারাদিনই বেশি সক্রিয় থাকে।[১০] এরা ঘন জঙ্গলে, ঘন ঝোপঝাড়ে গাছের পাতায়, ডালে, মাটিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতায়, জঙ্গলের পথে মাটিতে অবস্থান করে। গাছের পাতায়, পশু-পাখির বিষ্ঠায়, পচা ফলের উপর, ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে মাটি ও পাথরের ভিজে ছোপে বসে এদের খাদ্যরস আহরণ করতে প্রায়শই দেখা যায়। জঙ্গলের ঘাসজমিতেও এই প্রজাতির দেখা মেলে, তবে ফুলে বসতে কদাচিৎ দেখা যায়। পাহাড়ি জঙ্গল ও জঙ্গল সংলগ্ন ঘন ঝোপঝাড় পূর্ণ এলাকায় ১৫০০ মি, উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সারা বছরই এদের বিচরণ চোখে পড়ে।[১১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Moore, Frederic (১৮৯০)। Lepidoptera Indica. Vol. I। London: Lovell Reeve and Co.। পৃষ্ঠা 189–194। 
  2. A Pictorial Guide Butterflies of Gorumara National Park (2013 সংস্করণ)। Department of Forests Government of West Bengal। পৃষ্ঠা ১৯৭। 
  3. R.K., Varshney; Smetacek, Peter (২০১৫)। A Synoptic Catalogue of the Butterflies of India। New Delhi: Butterfly Research Centre, Bhimtal & Indinov Publishing, New Delhi। পৃষ্ঠা 175–176। doi:10.13140/RG.2.1.3966.2164আইএসবিএন 978-81-929826-4-9 
  4. Savela, Markku। "Mycalesis Hübner, 1818 - Bushbrowns"Lepidoptera - Butterflies and Moths। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৩-১৮ 
  5. Wynter-Blyth, M.A. (1957) Butterflies of the Indian Region, pg ৮৬.
  6. Isaac, Kehimkar (২০১৬)। BHNS Field Guides Butterflies of India। Mumbai: Bombay Natural History Society। পৃষ্ঠা 382। আইএসবিএন 9789384678012 
  7. "Mycalesis visala Moore, 1857 – Long-branded Bushbrown"। ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১৯ 
  8. Isaac, Kehimkar (২০০৮)। The book of Indian Butterflies (ইংরেজি ভাষায়) (1st সংস্করণ)। নতুন দিল্লি: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। পৃষ্ঠা ৩৪১। আইএসবিএন 978 019569620 2 
  9. Bingham, Charles Thomas (১৯০৫)। Fauna of British India. Butterflies Vol. 1। পৃষ্ঠা 60–61। |}}
  10. বসু রায়, অর্জন; বৈদ্য, সারিকা; রায়, লিপিকা। সুন্দরবনের কিছু পরিচিত প্রজাপতি (মার্চ ২০১৪ সংস্করণ)। সুন্দরবন জীবপরিমণ্ডল,Department of Forest Government of West Bengal। পৃষ্ঠা ৮১। 
  11. Kunte, Krushnamegh (২০১৩)। Butterflies of The Garo Hills। Dehradun: Samrakshan Trust, Titli Trust and Indian Foundation of Butterflies। পৃষ্ঠা ১৩২।