ডিলান টমাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ডিলান টমাস, পূর্ণ নাম ডিলান মারলিয়াস থমাস্‌ তিনি ওয়েলস প্রদেশীয় কবি এবং লেখক যার কবিতার মধ্যে একটি হল "Do not go gentle into that good night" এবং "And death shall have no dominion";যেসকল গল্প ও নাটকে তিনি তার কন্ঠ দিয়েছেন Under Milk Wood;এছাড়াও রেডিও সম্প্রচারেও তার কন্ঠ দেওয়া হয়েছে যেমন "A Child's Christmas in Wales" এবং Portrait of the Artist as a Young Dog.

তার জীবদ্দশায় তিনি যতটা বিখ্যাত ছিলেন তার ৩৯ বছর বয়সের অকাল মৃত্যুর পরও তার সেই খ্যাতি রয়ে গেছে । সেই সময় তার খ্যতি অর্জনের জন্য তাকে "ভীষণ, উন্মাত ও ধবংসাত্মক কবি" নামে আখ্যায়ীত করা হয়। তিনি ৩৯ বছর বয়সে নভেম্বর মাসে নিউ ইউর্ক শহরে মারা যান।

ডিলান টমাস সোয়ানসি (Swansea) ওয়েলস (Wales) ( যুক্তরাজ্যের একটি অংগ রাজ্য) এ ১৯১৪ সালে জন্ম গ্রহন করে। একজন স্বনাম ধন্য বিশিষ্ট ছাত্র হিসেবে ১৬ বছর বয়সে সে স্কুল জীবন শেষ করে এবং খুব অল্প সময়ে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হয়। তার অনেক লেখাই কৈশর জীবনে প্রকাশিত হয়েছিতল কিন্তু ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত "Light breaks where no sun shines" লেখনীটি সাহিত্যিক বিশ্বের নজরে পরে যায়। যখন তিনি লন্ডনে থাকতেন তখন "Caitlin Macnamara" সাথে পরিচয় হয় যা্র সাথে থমাস ১৯৩৭ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল। ১৯৩৮ সালে তারা (লাহার্নে) Laugharne ওয়েলস ফিসিং গ্রামে চলে যায় এবং সেখানে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তাদের ৩ টি সন্তান সহ দীর্ঘ দিন বসবাস করে ।

টমাস তার লেখনীর মাধ্যমে অনেক কষ্টে আয়-উপার্জন করলেও তিনি জীবিত থাকতেই লেখক হিসেবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন।তিনি ভ্রমন কথ্য এবং বেতার ব্রডকাস্টের মাধ্যমে তার আয় বাড়িয়েছেন।জনগনের মোনযোগ বাড়ানোর জন্যে তিনি বিবিসি (BBC) তে কন্ঠ দিতেন ১৯৪০ সালের দিকে এবং তাকে বারবার বিবিসি (BBC) এর সাহিত্য দৃশ্যের একটি উপযোগ্য কন্ঠস্বর হিসাবে ব্যবহার করা হত।

টমাস ১৯৫০ সালে সর্ব প্রথম আমেরিকা যান। তার পাঠ্যক্রমগুলি তাকে খ্যাতির একটি সম্মাননা নিয়ে আসলেও, তার আসামাজিক আচরণ ও মদ্য়পায়ী স্বভাবের কারনে তা নস্ট হয়ে যায়। তার সময়ে তাকে আমেরিকার কিংবদন্ত হিসেবে সংযুক্ত করেছিল যাইহোক তবুও তিনি ওয়েলসে বাচ্চাদের ক্রিস্মাস এ vinyl রেকর্ড করতে যেতেন। তার এই রকম চতুর্থ যাত্রা ছিল নিউ ইয়র্কে ১৯৫৩ সালে , সেখানে তিনি গুরুতর ভাবে অসুস্থ হয়ে পরে এবং কোমায় চলে যায়, তারপর থেকে তার সুস্থ হওয়ার কোন লক্ষন ই দেখা যায় নি। তিনি ৯ই নভেম্বর ১৯৫৩ সালে মৃত্যুবরন করেন। তার মৃতদেহ ওয়েলসে ফেরত আনা হয়,

১৯৫৩ সালের ২৫ নভেম্বর লাহার্নে সেন্ট মার্টিনের গির্জার ভবনের পাসে তাকে সমাহিত করা হয় ।


জীবন এবং কর্মজীবন[সম্পাদনা]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

ডিলান টমাস সোয়ানসি (Swansea) জন্ম গ্রহন করেন ২৭ অক্টোবর ১৯১৪ , তার মা ফ্লোরেন্স হান্নাহ (née Williams; ১৮৮২–১৯৫৮) ছিলেন একজন দর্জী এবং বাবা ডেভিড জন টমাস (১৮৭৬-১৯৫২)ছিলেন শিক্ষক। তার বাবা ইংরেজিতে প্রথম -শ্রেনীর ডিগ্রি অর্জন করেন University College, Aberystwyth থেকে এবং তার ঈচ্ছা ছিল স্থানীয় গ্রামার স্কুলে grammar schoolসাহিত্যের শিক্ষকতার মাধ্যমে তার অবস্থার উন্নতি করা। টমাসের একজন সহোদর ছিল যার নাম ন্যান্সি মারলিস Nancy Marles (১৯০৬-১৯৫৩) যে টমাসের থেকে ৮ (আট) বছরের বড়। পিতা-মাতা দ্বিভাষিক হওয়া সত্ত্বেও বাচ্চারা ইংরেজিতে কথা বলত এবং ডেভিড তাদের কে বারিতে ওলেসি শেখাতেন। "The Mabinogion" এর একটি চরিত্র "Dylan ail Don" এর অনুসারে টমসের পিতাই ডিলান নামটি রেখেছিলেন, যার অর্থ সমুদ্রের পুত্র। তার নামের মাঝের অংশ Marlais যা তার চাচা উইলিয়াম টমাসের নামানুসারে রাখা হয়। ডিলান নামটি ওয়েলসি ভাসায় ডালা-আন [ˈdəlan] (Dull-an) নামে উচ্চারন হত যার জন্যে তার মা দুশ্চিন্তায় পরে যায় যে কেও যেন তাকে ডাল-ওয়ান (Dull-One) নামে ডেকে জ্বালাতন না করে।তার ক্যারিয়ার জীবনের ওয়েলসি বিবিসি Welsh BBC সম্প্রচারনার শুরুতেই তিনি তার নামের সঠিক উচ্চারনের অভ্যাস করে নিয়েছিলেন।টমাস অ্যাঙ্গেলাইজড উচ্চারণের পক্ষে ছিলেন তাই তিনি প্রথমেই নির্দেশনা দিয়ে দিতেন যে টার নাম ডিলান (Dillan).

টমাসের জন্মের কিছু মাস আগেই তার পিতা মাতা- 5 সি ডব্লিউএমডনকিন রাস্তায় 5 Cwmdonkin Drive লাল ইটের আধা-বিচ্ছিন্ন বাড়িটি (উপভূমিগুলির সম্মানজনক অঞ্চলের একটি) ক্রয় করেছিলেন এবং সেখানে টমাস ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত বসবাস করেছিল।টমাসের শৈশব এর গ্রিস্মের ছুটি গুলা কেটেছে Llansteffan ল্যন্সটেফানে, এখানে টমাস এর মাতৃ সম্পর্কিয় আত্নীয় স্বজন ও ছয় প্রজন্মের বসবাস ও ফার্ম ছিল। তাঁর মায়ের পরিবার, উইলিয়ামস, ওনফ্লাচলান, ললভিংউইন, ম্যাসগভিন এবং পেনকয়েডের মতো খামারে জীবিকা করতেন। টমাসের খালা/মামি আন জন্স (Ann Jones) একটি দুগ্ধ খামার ছিল ফার্নহিলে সেখাঙ্কার স্মৃতি গুলিকেই ১৯৪৫ সালে কবিতার ভাষায় প্রকাশ করেন "Fern Hill". নামক বইয়ের মাধ্যমে।টমাস শৈশবকালে ব্রঙ্কাইটিস এবং হাঁপানির সমস্যা ছিল এবং সারা জীবন এইগুলির সাথে লড়াই করেছিলেন। টমাস তার মায়ের দ্বারা প্রবৃত্তি হয়েছিল এবং মেয়েলি বালক স্বভাব তৈরি করেছিলেন, এটি একটি বৈশিষ্ট্য যা তিনি যৌবনে পরিণত করেছিলেন এবং তিনি এই দক্ষতার কারনে মানুষের মোনযোগ ও সহানুভুতি অর্জন করতে সক্ষম হয়।টমাসের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় মিসেস হলি এর ডেম স্কু্লে dame school, যা মিরাডোর ক্রিসেন্ট এ একটি বেসরকারী স্কুল এবনফ যা ছিল তার বাড়ি থেকে কয়েকটা রাস্তা পরেই। অনেক আগেই খুব সংক্ষেপে তিনি তাঁর সেখানের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন :

আমাদের মতো কোনো নামী স্কুল আর কখনও ছিল না, এত দৃঢ় এবং সদয় এবং গালিশের গন্ধ ছিল, পিয়ানো পাঠের মিষ্টি ও বিড়বিড় ধোঁয়াটে সংগীতের সাথে একাকী স্কুলরুমে উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাস ,যেখানে কিছুটা অপরাধের জন্য অনুশোচনা করতে হত - ভূগোলের সময় একটি মেয়ের চুল টানা, ইংরেজি সাহিত্যের সময় টেবিলের নীচে চতুর পায়ের খোচা।

১৯২৫ সালে মাউন্ট প্লিজেন্ট Mount Pleasant, এ Swansea Grammar School স্কুলে ভর্তি হন যেখানে তার বাবা ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক ছিলেন। তিনি পড়াশোনাকে প্রাধান্য কম দিয়ে স্কুল বই এর থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্য বই পড়তেন। তার প্রথম বছরেই স্কুল ম্যাগাজিনে তার একটি কবিতা ছাপা হয় এবং স্কুল ছাড়ার পুর্বে তিনি অই ম্যাগাজিনের সম্পাদক হয়ে গিয়াছিলেন। তার স্খুল জিবনের শেষ বছরে এসে তার নোট বুকে কবিতা লেখা শুরু করেন। তার প্রথম কবিতা লেখার টারিখ ছিল ২৭ এপ্রিল ১৯৩০ যার নাম ছিল "Osiris, come to Isis" । ১৯২৮ সালের জুন মাসে St. Helen's Ground;সেন্ট হেলেন্স গ্রাউন্ড এ অনুষ্ঠিত স্কুল দৌড় প্রতিযোগিতায় বিজয়ী লাভ করেন এবং সেই জয়ের ছবি সংবাদপত্রে ছাপা হয় যা তার মৃত্যুর আগ পর্যন্তও তার সাথে ছিল। ১৯৩১ সালে যখন তার বয়স ১৬ হয় তখন সে স্কুল ছেরে দেয় এবং সাউথ ওয়েলস ডেইলি পোস্টে South Wales Daily Post সাংবাদিকতার কাজ নেন। টমাস বেশ কয়েক বছর ধরে একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসাবে কাজ চালিয়ে যান, সে সময় তিনি সি ডব্লিউএমডনকিন রাস্তার বাড়িতেই থাকতেন এবং তার নোট বুক গুলি লিখতে থাকেন, ১৯৩০-১৯৩৪ সালের মধ্যে ৪(চারটি) বইয়ে ২০০(দুই শত) কবিতা যোগ করেন। ৯০ টির মত কবিতা অই বছর ই প্রকাশ করেছিলেন বাকি গুলা পরবর্তি বছর গুলিতে শেষ করেন।

তার অবসর সময়ের জন্য তিনি মাম্বলিসের "Little Theatre" লিটিল থিয়েটার "আমাট্যুর ড্রামাটিক দলে জোগ দেন, আপ-ল্যন্ডে সিনেমা দেখতে যেতেন একাকী সোয়ান্সি সমুদ্র তীরে Swansea Bay হাটতেন এবং সোয়ান্সি পাব এ যেতেন বিশেষত মাম্বলিসের এন্টিলোপ ও মেরমেইড হটেল এ যেতেন । কারদোমাহ ক্যফে Kardomah Café, যা তার অফিসের পাসেই ছিল সেখানে তার সমসাময়ীক কবি ও বন্ধু ভারনন ওয়াটকিন্স Vernon Watkins এর সাথে পরিচয় হয়। লেখক, গায়ক ও শিল্পিদের দল কে "The Kardomah Gang" " দ্যা কারদোমাহ গ্যাং" নামে জানা যেত। ১৯৩৩ সালে টমাস সম্ভবত প্রথম বারের মত লন্ডন সফর করেছিলেন।

  • ১৯৩৩-১৯৩৯

টমাস তার কৈশরে অনেক গুলি কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে বিখ্যাত হয়েছিল "And death shall have no dominion", "Before I Knocked" এবং "The Force That Through the Green Fuse Drives the Flower" ।

১৯৩৩সালের মে মাসে New English Weekly পত্রিকায় প্রকাশিত হয় "And death shall have no dominion" । যখন "Light breaks where no sun shines" কবিতা প্রকাশিত হয় The Listener দ্যা লিসেনার সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে ১৯৩৪ সালে, তখন তিনজন স্বনামধন্য সাহিত্যিক এর নজরে পরে্‌ তারা হলেন T. S. Eliot, Geoffrey Grigson এবং Stephen Spender. তারা টমাসের সাথে যোগাযোগ করেন এবং কবিতা সামগ্রী প্রকাশ করেন ১৮ টি কবিতার যা ১৯৩৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল।