ডিয়ার কমরেড
এই নিবন্ধটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। (ফেব্রুয়ারি ২০২৫) |
| ডিয়ার কমরেড | |
|---|---|
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পোস্টার | |
| পরিচালক | ভরত কম্মা |
| প্রযোজক | নবীন যামিনী ওয়াই রবি শঙ্কর মোহন চেরিকুরি যশ রঙ্গিনেনি |
| শ্রেষ্ঠাংশে | বিজয় দেবরকোন্ডা রশ্মিকা মন্দানা শ্রুতি রামচন্দ্রন |
| সুরকার | জাস্টিন প্রভাকরণ |
| চিত্রগ্রাহক | সুজিত সারং |
| সম্পাদক | শ্রীজিত সারং |
| প্রযোজনা কোম্পানি | মৈত্রী মুভি মেকার্স বিগ বেন সিনেমাস |
| পরিবেশক | বিগ বেন সিনেমাস |
| মুক্তি |
|
| স্থিতিকাল | ১৭০ মিনিট[১] |
| দেশ | ভারত |
| ভাষা | তেলুগু |
| আয় | প্রা. ₹৩৭.৩৩ কোটি |
ডিয়ার কমরেড (ইংরেজি: Dear Comrade) ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারতীয় তেলুগু ভাষার প্রণয় ও অ্যাকশনধর্মী নাট্য চলচ্চিত্র। ভারত কাম্মা রচিত ও পরিচালিত এবং মিথ্রি মুভি মেকার্স ও বিগ বেন সিনেমাস দ্বারা প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজয় দেবরকোন্ডা, রশ্মিকা মন্দানা এবং শ্রুতি রামচন্দ্রন (তাঁর তেলেগু সিনেমায় অভিষেক)।[২] চলচ্চিত্রটির মূল চিত্রগ্রহণ ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে শুরু হয়েছিল।[৩] ২০১৯ সালের ২৬শে জুলাই এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়, তেলেগু ভাষার পাশাপাশি তামিল, মালয়ালম এবং কন্নড় ভাষায় ডাব করা সংস্করণও প্রকাশিত হয়।[৪][৫] মুক্তির পর, তেলেগুতে ছবিটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায় এবং তামিল ভাষায় মূলত নেতিবাচক পর্যালোচনা লাভ করে।
কাহিনী
[সম্পাদনা]চলচ্চিত্রটি ববি নামের একজন বামপন্থী ছাত্রনেতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যে তার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সে স্থানীয় রাজনীতিবিদ বুলিয়ার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করেন, বুলিয়ার ভাই তার কলেজের একটি মেয়েকে বারবার হয়রানি করার কারণে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল।
একবার ববি লক-আপ থেকে ফেরার পথে লিলির সাথে দেখা হয়, যেখানে লিলি একটি ছোটখাটো দুর্ঘটনার কারণ হয়। পরে ববি জানতে পারে যে, লিলি তার ছোটবেলার বন্ধু ও প্রতিবেশী জয়ার খুড়তুতো বোন।
ববি লিলির প্রেমে পড়ে। তবে, লিলি ববিকে মারামারি না করে অভ্যন্তরীণভাবে দ্বন্দ্ব সমাধান করতে বলে এবং জানায় যে তার ভাই কলেজের মারামারিতে মারা গেছে।
জয়ার বিয়ের সময়, ববি লিলির কাছে তার ভালোবাসার কথা স্বীকার করে কিন্তু লিলি তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ববি তার অত্যধিক আগ্রাসন সংশোধন করতে সম্মত হলে তাদের ভালোবাসা প্রস্ফুটিত হয়; যতক্ষণ না ববি বুলিয়ার ভাইয়ের দলের সাথে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে বুলিয়ার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
লিলি ববিকে তার সহিংস পথ ছেড়ে দিতে পরামর্শ দেয়। সে তাকে তার ‘রাগ’ এবং ‘তার (লিলি)’ মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে চূড়ান্ত সময়সীমা দেয়। ববি মেজাজ হারিয়ে ফেলে এবং লিলিকে হাসপাতাল থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়, তাকে চলে যেতে বলে। পরে ববি তার ভুল বুঝতে পারে এবং লিলির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। সে মানসিক শান্তি খুঁজে পেতে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় এবং সাউন্ড হিলিং এর একটি প্রকল্পে কাজ করা একটি দলে যোগ দেয়।
তিন বছর পর, ববি ও তার দল একজন ডাক্তারের সাথে দেখা করতে হায়দ্রাবাদ যায়। সেখানে তারা জয়া এবং তার স্বামীকে দেখে, তারা ববিকে জিজ্ঞাসা করে সে হাসপাতালে লিলির সাথে দেখা করেছে কিনা। ববি জানতে পারে যে লিলির একটি দুর্ঘটনা হয়েছিল। এরপর, সে তাকে সুস্থ করার জন্য একটি রোড ট্রিপে নিয়ে যায়।
লিলি তার বাড়িতে ফিরে আসে। ববির সাথে লিলির ডাক্তারের দেখা হয়, যিনি ববিকে লিলির ভেতরের লুকানো ব্যথা সম্পর্কে সতর্ক করেন। ববি লিলিকে তাকে তার ডিজিটাল ভয়েস রেকর্ডার দেয় যাতে ব্যথা অনুভব করলে সে সেটি শুনে। তাদের বন্ধুদের বিয়েতে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যেখানে লিলি ববির নতুন পরিপক্কতায় মুগ্ধ হয়। সে ববিকে বিয়ে করতে বলে; কিন্তু ববি বলে তার বিয়ের জন্য কোনো তাড়া নেই, লিলিকে ক্রিকেটের দিকে ফোকাস করতে পরামর্শ দেয়।
আশ্চর্যজনকভাবে, লিলি প্রকাশ করে যে সে চিরতরে ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছে। একদিন, ববি লিলির প্রাক্তন সতীর্থ ও বন্ধু রুবিনাকে দেখতে পায়, যে ববিকে সত্যটা বলে: লিলির দল একটি উচ্চ-পর্যায়ের টুর্নামেন্ট জিতেছিল এবং সে "সেরা খেলোয়াড়" নির্বাচিত হয়েছিল। বিসিসিআই-এর দক্ষিণ-জোন নির্বাচক রমেশ রাও, জাতীয় দলে নির্বাচিত করার জন্য লিলির সাথে ঘুমানোর কুপ্রস্তাব দেয়। লিলি মোকাবিলার ভয়ে কোনো অভিযোগ দায়ের করতে অস্বীকার করে, কিন্তু রুবিনা তার পক্ষ থেকে অভিযোগ করে। রমেশ রাও লিলি এবং রুবিনা উভয়কেই শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ববি ক্ষুব্ধ হয় কিন্তু লিলির সামনে ভেঙে পড়ে, তাকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য ক্ষমা চায় এবং লিলি মুগ্ধ হয়। ববি তাকে থানায় নিয়ে যায় যেখানে সে রাওয়ের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে।
লিলি তার পরিবারের ঠিক করা একজন সম্ভাব্য পাত্রের সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ববি তাকে তার জীবন থেকে পালিয়ে না যেতে বোঝানোর চেষ্টা করে। তবে, লিলি তাকে দোষারোপ করে যে যখন তার সত্যিই তাকে প্রয়োজন ছিল তখন সে আশেপাশে ছিল না। সে ববিকে বলে যে সে কয়েক বছরের মধ্যে তাকে ভুলে যেতে পারবে!
লিলি তার বিয়ের নিশ্চিতকরণ পায় এবং ববিকে চিরতরে হারানোর আশঙ্কায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সে মরিয়া হয়ে ববির পুরনো ভয়েস রেকর্ডারটির জন্য হাত বাড়ায়, যেটিতে বছরের পর বছর ধরে তার কাছে ববির বার্তাগুলি ছিল।
মিডিয়ায় রাওকে ববির মারধরের একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়। ফলে লিলি ও তার পরিবার মিডিয়ার সামনে চলে আসে এবং বিসিসিআই রাওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিটি নিয়োগ করে।
যৌন নিপীড়ন মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ববিকে গ্রেপ্তার করে। সে ববিকে ছাড়তে অস্বীকার করে এবং লিলিকে তার মুক্তির জন্য মিথ্যা কথা বলতে বাধ্য করে। বিসিসিআই কমিটির সামনে লিলির জবানবন্দিতে প্রকাশ পায় যে সে রমেশ দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়নি।
রমেশ রাও আদালতে ববি এবং লিলি উভয়কেই অপমান করে, মিথ্যা অভিযোগের জন্য ক্ষমা দাবি করে। লিলি ক্ষুব্ধ হয়ে রমেশ রাওকে আক্রমণ করে এবং স্বীকার করে যে সে তার নির্বাচক পদের অপব্যবহার করে যৌন হয়রানির করেছিল। ববি ও লিলি পুনরায় মিলিত হয়, তাদের প্রকৃত সত্তাকে আলিঙ্গন করে। চলচ্চিত্রটি ববির মাধ্যমে লিলিকে তার অনুশীলনের জন্য ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে নামিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
অভিনয়শিল্পী
[সম্পাদনা]- বিজয় দেবরকোন্ডা – চৈতন্য কৃষ্ণ "ববি" মাকিনেনি
- রাশ্মিকা মান্দানা – অপর্ণা "লিলি" দেবী
- শ্রুতি রামচন্দ্রন – জয়া, লিলির কাজিন
- রাজ অর্জুন – রমেশ রাও
- সুহাস – মার্টিন
- কালি ভেঙ্কট – ভেলুথাম্বি
- বিকাশ – রঘু
- দিব্যা শ্রীপদা – অনীতা, রঘুর প্রেমিকা
- বিনয় মহাদেব – প্রতিপক্ষ গ্যাং
- চারুহাসান – ববির দাদা
- আনন্দ – ববির বাবা
- কল্যাণী নাটারাজন – ববির মা
- ভিভা হর্ষ – ভীমা
- প্রতিউষা জোন্নালাগাড্ডা – রুবিনা
- তুলাসী – জয়ার মা
- সঞ্জয় স্বরূপ – লিলির বাবা
- আশ্রিতা ভেমুগান্তি – লিলির মা
- শ্রীকান্ত আয়্যাঙ্গার – পুলিশ অফিসার
- রাফসান শাহরিয়ার
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Hooli, Shekhar H. (২৬ জুলাই ২০১৯)। "Dear Comrade movie review and rating: Audience fall in love with Vijay-Rashmika's chemistry again after GG"। International Business Times, India Edition (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১৯।
- ↑ "Dear Comrade Movie (2019) | Reviews, Cast & Release Date in"। BookMyShow (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০১৯।
- ↑ "'Dear Comrade': Shooting for the Vijay Devarakonda-starrer progress in Kakinada"। The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০১৯।
- ↑ "Vijay Deverakonda reveals Dear Comrade will release in four languages, shares new poster"। hindustantimes (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৯।
- ↑ "Dear Comrade will not see Hindi version"। New Indian Express। ১৩ জুলাই ২০১৯। ১৪ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৯।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে ডিয়ার কমরেড (ইংরেজি)