ডাঁশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ডাঁশ (Botfly[১], Bot fly[২], Bott fly [৩], bot-fly[৪]), ডাঁশপোকা বা ডাঁশমাছি হলো Diptera বর্গের Nematocera উপবর্গভুক্ত এক ধরনের হালকা গড়নের, দুটি ডানাবিশিষ্ট মাছি প্রজাতি। ডাঁশের মুখোপাঙ্গ ছিদ্রকরণ ও চোষণ উপযোগী। অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ লোমের মতো শুঙ্গ এবং লম্বা পায়ের জন্য এদের অন্যান্য মাছি থেকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা যায়। পুরুষ ডাঁশের শুঙ্গ সাধারণত অধিকতর বিকশিত। পুরুষ ডাঁশ ঝাঁকে উড়ে এবং সাধারণত বিকেলে মাটির কয়েক ফুট উঁচুতে ওঠা-নামার ভঙ্গিতে নাচে। লার্ভা মুক্তজীবী, অধিকাংশই উদ্ভিদভোজী, পা-হীন, মাথার ক্যাপসুল সুগঠিত এবং মুখোপাঙ্গ দংশনক্ষম।

মাউস বটফ্লাই বা মুষিক ডাঁশ (Cuterebra fontinella) পুরো উত্তর আমেরিকা জুড়ে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্যারাসাইটিস করে।[৫]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

বটফ্লাই বা ডাঁশ পোকার লার্ভা মূলত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দেহে একটি অন্তর্নিহিত পরজীবী হিসেবে বসবাস করে। ওস্ট্রাইডা গোত্রের এই পোকা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দেহে একসাথে সর্বোচ্চ ৩০টি ডিম পাড়ে যা থেকে লার্ভা সৃষ্টি হয় এবং চামড়ার নিচে বসবাস শুরু করে। তবে কয়েক প্রজাতির ডাঁশের লার্ভা অন্ত্রের মধ্যেও বড় হয়। ঘোড়া বা গরুর মতো প্রাণীর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরো একটু জটিল হয় যখন ডাঁশ গিয়ে এদের নাকের ভেতরে ডিম পেরে আসে। আরো ভয়ানক ব্যাপার হচ্ছে ৩০ দিন পরই ত্বকের ভেতরে লার্ভার নড়াচড়া অনুভব করতে পারে ধারক প্রাণীটি! ৬০ দিনের মধ্যেই লার্ভার প্রয়োজনীয় বেড়ে ওঠার পর্ব শেষ হয় এবং বিভিন্ন উপায়ে পোষক দেহ ত্যাগ করে। এদের কামড়ে নানাবিধ ত্বকীয় রোগ হয়।

বাংলাদেশে প্রাপ্ত ডাঁশ প্রজাতি[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে Cecidomyiidae গোত্রভুক্ত দুই প্রজাতির ডাঁশ আছে, যা gal gnats বা gall midges নামে পরিচিত। দুই প্রজাতির একটির (Lasioptera falcata) লার্ভা লাউয়ের ডগায় ও দ্বিতীয়টির (Pachydiplosis oryzae) লার্ভা ধানগাছের পাতায় গুটি বাঁধে। Mycetophilidae গোত্রের ১১টি গণের অন্তর্ভুক্ত ১৮ প্রজাতি সাধারণত ছত্রাক ন্যাট (fungus gnat) হিসেবে পরিচিত। এগুলির মধ্যে আছে Allactoneura cincta, লার্ভা ছত্রাকভুক (সিলেট); Dilophus gratiosus, লার্ভা পচনশীল কাঠ ও ছত্রাকভোজী (সিলেট) এবং Isoneuromyia annandalei, লার্ভা ছত্রাকভুক (সিলেট); Leia arcuata, লার্ভা পচনশীল কাঠভুক (ময়মনসিংহ); Leptomorphus ornatus, লার্ভা ছত্রাকভুক (সিলেট); Macrocera ornata, লার্ভা ছত্রাকভুক (দিনাজপুর); Mycomya ferruginae, লার্ভা পচা কাঠ ও ছত্রাকভুক (রংপুর); Platyura ruficornis, লার্ভা ছত্রাকভুক (সিলেট); P. venusta, ছত্রাকভোজী (চট্টগ্রাম); এবং ছত্রাকভুক Pleciomyia melanapsis, Rhymosia annulicornis, R. humeralis (যথাক্রমে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট); ছত্রাকভোজী Sciara diversipes ও S. fluvescens (যথাক্রমে দিনাজপুর ও রাজশাহী); বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলায় আছে S. inconspicua, লার্ভা পচা শাকসবজি খায়; S. orientalis, লার্ভা ছত্রাকভোজী (দিনাজপুর) এবং S. rufithorax, লার্ভা উদ্ভিদভোজী (রাজশাহী)।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Inc. Merriam-Webster (২০১১)। Webster's American English dictionary। Springfield, MA: Federal Street Press। আইএসবিএন 978-1-59695-114-3 
  2. Mullen, Gary; Durden, Lance, সম্পাদকগণ (২০০৯)। Medical and veterinary entomology। Amsterdam, NL: Academic। আইএসবিএন 978-0-12-372500-4 
  3. Journal of the Department of Agriculture of Western Australia, Volume 9, Pub: Western Australia. Dept. of Agriculture, 1904, p 17
  4. Brown, Lesley (১৯৯৩)। The New shorter Oxford English dictionary on historical principlesবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন। Oxford [Eng.]: Clarendon। আইএসবিএন 0-19-861271-0 
  5. Jennison CA, Rodas LR, Barrett GW (২০০৬)। "Cuterebra fontinella parasitism on Peromyscus leucopus and Ochrotomys nuttalli."। Southeastern Naturalist5 (1): 157–168। doi:10.1656/1528-7092(2006)5[157:CFPOPL]2.0.CO;2