তোমা পিকেতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(টমাস পিকেটি থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
তোমা পিকেতি
Thomas Piketty
Thomas Piketty 2015.jpg
২০১৫ সালে তোলা আলোকচিত্রে তোমা পিকেতি
জন্ম (1971-05-07) ৭ মে ১৯৭১ (বয়স ৪৮)
জাতীয়তাফরাসি
প্রতিষ্ঠানলন্ডন স্কুল অফ একোনোমিকস
প্যারিস স্কুল অফ একোনমিকস
স্কুল ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন দ্য সোশাল সায়েন্সেস
ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি
কাজের ক্ষেত্রজন-অর্থনীতি
শিক্ষায়তনলন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্স
একল নরমাল সুপেরিয়র
যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেনসিমোঁ কুজনেৎস, জন মেইনার্ড কেইনস
পুরস্কারমেদাইয়া রেক্তোরাল, চিলি বিশ্ববিদ্যালয় (২০১৫)
Yrjö Jahnsson Award (২০১৩)
প্রি দ্যু মেইয়র জ্যন একোনোমিস্ত দ্য ফ্রঁস (২০০২)
Information at IDEAS / RePEc

তোমা পিকেতি (ফরাসি: Thomas Piketty) একজন ফরাসি অর্থনীতিবিদ। তিনি ২০১৩ সালে তার গ্রন্থ ল্য কাপিতাল ও ভাঁতে-উ্যনিয়েম সিয়েকল (ফরাসি Le Capital au XXXIe Siècle; "একবিংশ শতাব্দীতে পুঁজি") প্রকাশের পরে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি[সম্পাদনা]

অর্থনীতিবিদ পিকেতি ১৯৭১ সালে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন।[১] তার বাবা-মা ত্রোত্‌স্কীয় ঘরানার রাজনীতির অনুসারী ছিলেন এবং ফ্রান্সের সমাজতান্ত্রিক দলের (পার্তি সোসিয়ালিস্ত) সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

পিকেতি ফ্রান্সের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বাকালোরেয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে প্যারিসের একল নর্মাল সুপেরিয়র নামক খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন এবং সেখান থেকে ১৯৯০ সালে গণিত ক্ষেত্রে বিজ্ঞানে স্নাতক উপাধি লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি একল দে জোত জেত্যুদ অঁ সিয়ঁস সোসিয়াল (École des Hautes Études en Sciences Sociales, "সামাজিক বিজ্ঞানসমূহের উচ্চশিক্ষা বিদ্যালয়") এবং লন্ডন স্কুল অফ একোনমিকসের ("লন্ডন অর্থশাস্ত্র বিদ্যালয়") যৌথ ইউরোপীয় ডক্টরাল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ শেষে পিএইচডি উপাধি অর্জন করেন। তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল সম্পদের পুনর্বণ্টন তত্ত্ব।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত পিকেতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অফ টেকনোলজি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। এরপর তিনি স্বদেশভূমি ফ্রান্সে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সেখানে সঁত্র নাসিওনাল দ্য লা র‍্যশের্শ সিয়ঁতিফিক (Centre National de la Recherche Scientifique, "জাতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র") গবেষণা সহযোগী (রিসার্চ ফেলো) হিসেবে যোগদান করেন। ২০০০ সালে তিনি তার মাতৃ-বিদ্যালয় একল দে জোত জেত্যুদ অঁ সিয়ঁস সোসিয়াল-এ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পান এবং তারও পরে ২০০৭ সালে প্যারিস স্কুল অফ একোনমিকস-এ প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে অধ্যাপনা শুরু করেন।

রচনা[সম্পাদনা]

পিকেতির প্রধানতম গ্রন্থ হচ্ছে প্রায় ৭ শতাধিক পৃষ্ঠায় বর্ণিত ক্যাপিটাল ইন দ্য টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি বইটি।[২] ২০১৪ সালে পিকেতির ল্য কাপিতাল বইটি ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হবার পরেই মোটামুটি অপরিচিত পিকেতি দ্রুত আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। বইটি একটি সর্বাধিক বিক্রীত গ্রন্থ বা "বেস্টসেলার" গ্রন্থে পরিণত হয়। তার গ্রন্থের কারণে উদারপন্থী ও রক্ষণশীল অর্থনীতিবিদদের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সম্পদের বণ্টন এবং পুঁজিবাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তুমুল বিতর্কের সূত্রপাত হয়। পিকেতি তার গ্রন্থে দাবী করেন যে "পুঁজিবাদের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় অসঙ্গতি" বিদ্যমান। তার মতে পুঁজির উপরে যে গড় মুনাফা পাওয়া যায়, তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে সবসময়েই বেশী হয়। সুতরাং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ সর্বদাই আয়কৃত সম্পদের চেয়ে বেশী হারে বৃদ্ধি পায়, যদি না মহাযুদ্ধ, মহামন্দা ও সরকারের বিশেষ হস্তক্ষেপ না ঘটে। এই প্রবণতার কারণে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হার এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যে সেখানে গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়তে পারে। যদি এই ধরনের পুঁজিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তাহলে আবারও ১৯শ শতকীয় "উত্তরাধিকারভিত্তিক পুঁজিবাদ" ফেরত আসতে পারে, যেখানে শ্রমের চেয়ে উত্তরাধিকার বা বিবাহসূত্রে সম্পদ অর্জন বেশী পছন্দনীয় কৌশল ছিল। পিকেতি বিগত ২ শত বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের (বিশেষ করে ফ্রান্সের) করের দলিলপত্রের উপরে গবেষণা চালিয়ে এই উপসংহারে উপনীত হন। এইসব তথ্য যোগাড়ের কাজে তাকে ফরাসি-মার্কিন অর্থনীতিবিদ এমানুয়েল সেজ এবং ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যান্থনি অ্যাটকিনসন সহায়তা করেন।

অর্থনৈতিক বৈষম্যের সঙ্কট দূরীকরণে পিকেতি কর নীতিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রাখেন। তিনি সমস্ত অর্থনৈতিক সম্পদের উপর একটি বাৎসরিক সার্বজনীন ক্রমবর্ধমান কর প্রয়োগের ব্যাপারে মত দেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "'দ্বিতীয় মার্ক্স' এলেন কি?"দৈনিক প্রথম আলো। ২৫ অক্টোবর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৫ 
  2. "অসাম্য কেন বাড়ছে, তা কমানোর পথ কী"আনন্দবাজার পত্রিকা। ২৫ অক্টোবর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]