জাপানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিশেষত প্রযুক্তি, যন্ত্রবিদ্যা ও বায়োমেডিক্যাল গবেষণায় জাপান একটি অগ্রণী রাষ্ট্র। প্রায় ৭০০,০০০ গবেষক ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার গবেষণা ও উন্নয়ন বাজেটের সুবিধা পান এই দেশে। এই বাজেট বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম।[১] মৌলিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও জাপান বিশ্বে অগ্রণী একটি রাষ্ট্র। এই দেশ থেকে একুশ জন বৈজ্ঞানিক পদার্থবিদ্যা, রসায়ন বা চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।[২] তিন জন ফিল্ডস মেডেল[৩] এবং একজন কার্ল ফ্রেডরিক গাস প্রাইজ পেয়েছেন।[৪] জাপানের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অবদানগুলি ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, যন্ত্রবিদ্যা, ভূমিকম্প ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবোট, অপটিকস, কেমিক্যালস, সেমিকন্ডাক্টরস ও ধাতুবিদ্যার ক্ষেত্রে রয়েছে। বিশ্বে রোবোটিকস উৎপাদন ও ব্যবহারে জাপান অগ্রণী। ২০১৩ সালের হিসেব অনুসারে, বিশ্বের শিল্প রোবোটগুলির ২০% (১.৩ মিলিয়নের মধ্যে ৩০০,০০০টি) জাপানে নির্মিত।[৫] যদিও আগে এই হার আরও বেশি ছিল। ২০০০ সালে সারা বিশ্বে শিল্প রোবোটগুলির অর্ধ্বাংশ ছিল জাপানে নির্মিত।[৬]

জাপানের প্রাচীন বিজ্ঞান[সম্পাদনা]

জাপানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিকাশ প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে।প্রাচীন সময় থেকেই জাপানীরা সমুদ্র বাণিজ্য এর জন্য জাহাজ নির্মাণ দিক নির্নয় প্রভৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।এরা সূর্যের দ্বারা সময় নির্নয় করতে পাড়ত।

মহাকাশ গবেষনা[সম্পাদনা]

জাপানের মহাকাশ সংস্থা হল জাপান এয়ারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা)। এখান থেকে মহাকাশ, ভিন্ন গ্রহ ও বিমান গবেষণার কাজ চলে। রকেট ও উপগ্রহ নির্মাণেও এটি অগ্রণী সংস্থা। জাপান আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অংশগ্রহণকারী। ২০০৮ সালে স্পেস শাটল অ্যাসেম্বলি ফ্লাইটের সময় সেখানে জাপানিজ এক্সপেরিমেন্ট মডিউল যুক্ত হয়।[৭] জাপানের মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনাগুলি হল: শুক্র গ্রহে আকাৎসুকি নামে একটি মহাকাশ যান পাঠানো;[৮][৯] ২০১৬ সালে মারকুরি ম্যাগনেটোস্ফেরিক অরবিটার উৎক্ষেপণ;[১০] এবং ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে একটি বেস গঠন।[১১]

২০০৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জাপান "সেলিনে" (সেলেনোলোজিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপ্লোরার) নামে একটি চন্দ্রযান একটি এইচ-আইআইএ (মডেল এইচ২এ২০২২) ক্যারিয়ার রকেটের মাধ্যমে তানেগাশিমা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করে।[১২] অ্যাপোলো কর্মসূচির পর থেকে বৃহত্তম চন্দ্র অভিযান ছিল কাগুয়া। এর উদ্দেশ্য ছিল চাঁদের উৎস ও বিবর্তন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ। ৪ অক্টোবর এটি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে[১৩][১৪] এবং প্রায় ১০০ কিমি (৬২ মা) উচ্চতায় উড়ে যায়।[১৫] এই যানটির অভিযান শেষ হয় ২০০৯ সালের ১১ জুন। এই দিন জাক্সা ইচ্ছাকৃতভাবে চাঁদের সঙ্গে এই যানটির সংঘর্ষ ঘটিয়েছিল।[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. McDonald, Joe (ডিসেম্বর ৪, ২০০৬)। "China to spend $136 billion on R&D"। BusinessWeek 
  2. "Japanese Nobel Laureates"Kyoto University। ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ৭, ২০০৯ 
  3. "Japanese Fields Medalists"। Kyoto University। ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ৭, ২০০৯ 
  4. "Dr. Kiyoshi Ito receives Gauss Prize"। Kyoto University। ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ৭, ২০০৯ 
  5. Statistics - IFR International Federation of Robotics
  6. "The Boom in Robot Investment Continues"। UN Economic Commission for Europe। অক্টোবর ১৭, ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ২৮, ২০০৬ 
  7. "Japan Aerospace Exploration Agency Homepage"। Japan Aerospace Exploration Agency। আগস্ট ৩, ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২৮, ২০০৭ 
  8. "JAXA | Venus Climate Orbiter "AKATSUKI" (PLANET-C)"। Japan Aerospace Exploration Agency। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ৪, ২০১০ 
  9. "ISAS | Venus Meteorology AKATSUKI (PLANET-C)"Institute of Space and Astronautical Science। Japan Aerospace Exploration Agency। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ৪, ২০১০ 
  10. "ESA Science & Technology: Fact Sheet"। esa.int। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৪ 
  11. "Japan Plans Moon Base by 2030"। MoonDaily। আগস্ট ৩, ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২৭, ২০০৭ 
  12. ""KAGUYA" selected as SELENE's nickname"। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ১৩, ২০০৭ 
  13. "Japan Successfully Launches Lunar Explorer "Kaguya""। Japan Corporate News Network। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২৫, ২০১০ 
  14. "Japan launches first lunar probe"। BBC News। সেপ্টেম্বর ১৪, ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২৫, ২০১০ 
  15. "JAXA, KAGUYA (SELENE) Image Taking of "Full Earth-Rise" by HDTV"। Japan Aerospace Exploration Agency। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২৫, ২০১০ 
  16. "Japanese probe crashes into Moon"। BBC News। জুন ১১, ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১২, ২০১১