জলহস্তী
| জলহস্তী | |
|---|---|
| একটি জলহস্তী মধ্যে সাদানি জাতীয় উদ্যান, তানজানিয়া | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ: | Animalia |
| পর্ব: | Chordata |
| উপপর্ব: | Vertebrata |
| শ্রেণী: | Mammalia |
| অধঃশ্রেণী: | Eutheria |
| বর্গ: | Artiodactyla |
| পরিবার: | Hippopotamidae |
| গণ: | Hippopotamus |
| প্রজাতি: | H. amphibius |
| দ্বিপদী নাম | |
| Hippopotamus amphibius Linnaeus, 1758 | |
| বর্তমান বিস্তৃতি সবুজ এবং ঐতিহাসিক বিস্তৃতি লাল রঙে দেখানো হয়েছে[১] | |
জলহস্তী (বৈজ্ঞানিক নাম: Hippopotamus amphibius) আফ্রিকার একটি বৃহৎ তৃণভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণী। গ্রিক শব্দ হিপ্পো (ঘোড়া) এবং পোটামোস (নদী) থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে, যার অর্থ “নদীর ঘোড়া”। পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ স্থলচর স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে প্রাপ্তবয়স্ক জলহস্তীর ওজন সাধারণত ১,৩০০ থেকে ৩,২০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। এরা মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন নদী, হ্রদ এবং জলাভূমি অঞ্চলে বসবাস করে এবং দিনের বেশিরভাগ সময় পানিতে ডুবে থেকে শরীর ঠান্ডা রাখে।[২]
গুরুত্ব
[সম্পাদনা]পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় জলহস্তীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা জলজ উদ্ভিদ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং তাদের চলাচলের ফলে নদীর তলদেশে পুষ্টি উপাদান ছড়িয়ে পড়ে, যা অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য উপকারী। জল ও স্থলভাগের মধ্যে পুষ্টি চক্র বজায় রাখতে জলহস্তী বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।[৩]
সংরক্ষণ
[সম্পাদনা]মে ২০০৬ সালে, জলহস্তীকে আইইউসিএন লাল তালিকায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ (Vulnerable) প্রজাতি হিসেবে প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন (আইইউসিএন) চিহ্নিত করে। তখন জলহস্তীর মোট সংখ্যা ছিল ১,২৫,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ এর মধ্যে। আইইউসিএন ১৯৯৬ সালের পর থেকে এই বিষয়ে অধ্যয়ন করে চিহ্নিত করেছিল যে এদের আনুমানিক সংখ্যা ৭% থেকে ২০% পর্যন্ত কমেছে। মূলত চোরাশিকার, অবৈধ বাণিজ্য এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে জলহস্তীর অস্তিত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।[১] এছাড়া প্রতি বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে ‘বিশ্ব জলহস্তী দিবস’ (World Hippo Day) পালিত হয়। এই দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো এই অসাধারণ এবং বিপন্ন আধা-জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া।
বিশিষ্ট উল্লেখ
[সম্পাদনা]- বাংলাদেশে জলহস্তীর প্রাকৃতিক বসবাস নেই। তবে বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় সংরক্ষিত পরিবেশে জলহস্তী পালন করা হয়, যেখানে দর্শনার্থীরা এই প্রাণীটিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। চিড়িয়াখানায় জলহস্তীর জন্য কৃত্রিম জলাধার এবং নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করা হয় যাতে তারা স্বাভাবিক আচরণ বজায় রাখতে পারে।[৪]
- এই প্রাণীর নামে ভারতীয় নৌবাহিনীর পূর্ব নৌসেনা কম্যান্ড-এর যুদ্ধ জাহাজ INS জলশ্ব-র নামকরণ করা হয়েছে।
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 "Hippopotamus amphibius"। IUCN Red List। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "Hippopotamus amphibius"। Animal Diversity Web। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ McCarthy, T. S. (২০১৮)। "The Role of Hippopotamus in Ecosystem Engineering"। Freshwater Biology।
- ↑ "Bangladesh National Zoo"। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।