বিষয়বস্তুতে চলুন

গ্রাম আদালত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গ্রাম আদালতের এজলাস

গ্রাম আদালত বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর। গ্রামাঞ্চলের কিছু কিছু মামলার নিষ্পত্তি এবং তৎসর্ম্পকীয় বিষয়াবলীর বিচার সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর আওয়তায় গঠিত একটি স্থানীয় মীমাংসামুলক তথা সালিশি আদালত।[]

গ্রাম আদালত গঠন

[সম্পাদনা]

গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উভয়পক্ষ কর্তৃক মনোনীত দুইজন করে মোট পাঁচজন সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। তবে প্রত্যেক পক্ষ কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্যের মধ্যে একজন সদস্যকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হতে হবে।[] চারজন সদস্যের উপস্থিতিতে গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্ত দুই-দুই ভোটে অমীমাংসিত হলে চেয়ারম্যান নির্ণায়ক ভোট দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এছাড়া ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার সঙ্গে কোনো নারীর স্বার্থ যুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ সদস্য মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে একজন নারী সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেবে।[]

এখতিয়ার

[সম্পাদনা]

গ্রাম আদালত ‘গ্রাম আদালত (সংশোধন) বিল-২০২৪’ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা জরিমানা করতে পারবেন। এর পূর্বে যেটি ছিল সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা। বিলের তফসিল অনুযায়ী সাত ধরনের দেওয়ানি মামলা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য হবে। সেগুলো হলো:[]

  1. কোনো চুক্তি রসিদ বা অন্য কোনো দলিলমূল্যে প্রাপ্য অর্থ আদায়
  2. কোনো অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা তার মূল্য আদায়ের মামলা
  3. স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হওয়ার এক বছরের মধ্যে তার দখল পুনরুদ্ধারের মামলা
  4. কোনো অস্থাবর সম্পত্তির জবরদখল বা ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা
  5. গবাদিপশু অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণের মামলা
  6. কৃষিশ্রমিকদের পরিশোধ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা এবং
  7. বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের জন্য স্ত্রীর মামলা।

যে সকল অভিযোগের বিচার গ্রাম আদালতে হয় না

[সম্পাদনা]

ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে: অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি পূর্বে অন্য কোন আদালত কর্তৃক কোন আদালত গ্রাহ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকে এবং দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে: ক) যখন কোন অপ্রাপ্ত বয়স্কের স্বার্থ জড়িত থাকে, খ) বিবাদের পক্ষগণের মধ্যে বিদ্যমান কলহের ব্যাপারে কোন সালিশের ব্যবস্থা (সালিশি চুক্তি) করা হয়ে থাকলে, গ) মামলায় সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কার্যরত কোন সরকারি কর্মচারী হয়ে থাকলে এবং ঘ) কোন অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রাম আদালতে কোন মামলা দায়ের করা যায় না।

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "গ্রাম আদালত কি-রাজারহাট ইউনিয়ন"। ১৬ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মে ২০১৯
  2. "ধারা-৬ (গ্রাম-আদালতের এখতিয়ার ইত্যাদি) উপধারা-(১) - দুর্গাপুর ইউনিয়ন"durgapurup.brahmanbaria.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২৬
  3. 1 2 প্রতিবেদক, নিজস্ব (৭ মে ২০২৪)। "গ্রাম আদালতের জরিমানা করার ক্ষমতা বাড়ল"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২৬