গেঞ্জির উপাখ্যান
প্রাচীনতম সচিত্র পান্ডুলিপির লেখা (১২ শতাব্দী) | |
| লেখক | মুরাসাকি শিকিবু |
|---|---|
| মূল শিরোনাম | গেঞ্জি মনোগাতারি (源氏物語) |
| প্রকাশনার স্থান | জাপান |
| ভাষা | জাপানি |
| ধরন | মনোগাতারি |
| প্রকাশিত | ১০২১ সালের পূর্বে |
| মিডিয়া ধরন | পান্ডুলিপি |
গেঞ্জির উপাখ্যান (源氏物語 Genji monogatari, উচ্চারিত [ɡeɲdʑi monoɡaꜜtaɾi]) একাদশ শতাব্দীতে রচিত একটি ধ্রুপদী সাহিত্যকর্ম। এটি লিখেছেন জাপানি রাজদরবারের লেখিকা মুরাসাকি শিকিবু। ৫৪টি অধ্যায় সম্বলিত এই বইয়ে হাইয়ান আমলে উচ্চ দরবারীদের জীবনধারার একটি অনন্য চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রেম, মোহ, বন্ধুত্ব আর পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন অভিব্যক্তি থাকা বইটিতে জাপানি সম্রাটের জীবনের শেষ পর্যায়ের বর্ণনা এবং তার নাতি-নাতনিদের পতনের বর্ণনা বৌদ্ধ আদর্শ অনুসারে কর্মফলের প্রভাবকে প্রতিফলিত করে। একে পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস হিসেবে ধরা হয়।[১] জাপানে গেঞ্জির উপাখ্যানের মর্যাদা যুক্তরাজ্যে শেকসপিয়রের মর্যাদার সমান।[২]
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]ফুজিওয়ারা বংশের ক্ষমতার শীর্ষে থাকাকালীন সময়ে মুরাসাকি বেঁচে ছিলেন।[৩] ফুজিওয়ারা নো মিচিনাগা নামে না হলেও কার্যত রাজশাসক ছিলেন এবং তার সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ফলস্বরূপ, মনে করা হয় যে মুরাসাকি মিচিনাগার সাথে তাঁর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আংশিকভাবে গেঞ্জি চরিত্রটি গঠন করেছিলেন।[৪]
গেঞ্জির উপাখ্যান সম্ভবত অধ্যায় আকারে লেখা হয়েছিল কারণ মুরাসাকি অভিজাত মহিলাদের (রাজসভার নারী) কাছে এর কিস্তিগুলো পৌঁছে দিতেন। এতে একটি আধুনিক উপন্যাসের অনেক উপাদানই রয়েছে: একজন কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং বহু প্রধান ও অপ্রধান চরিত্র, প্রধান চরিত্রগুলোর সুগঠিত চরিত্রায়ণ, এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রের জীবনকাল ও তার পরবর্তী সময়কে ঘিরে ঘটে চলা ঘটনাক্রম। এর কোনো নির্দিষ্ট প্লট নেই, কিন্তু ঘটনা ক্রমাগত ঘটতে থাকে এবং চরিত্রদের বয়স বাড়তে থাকে। প্রায় চারশো চরিত্র থাকা সত্ত্বেও এটি তার অভ্যন্তরীণ সঙ্গতি বজায় রাখে; যেমন, সব চরিত্রের একই গতিতে বয়স বাড়ে এবং পারিবারিক ও সামন্ততান্ত্রিক সম্পর্ক উভয়ই পুরোটা জুড়ে অটুট থাকে।
মূল লেখাতে প্রায় কোনো চরিত্রকেই সুস্পষ্ট নাম দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে তাদের পদ বা ভূমিকা (যেমন: বামপন্থী মন্ত্রী), সম্মানসূচক উপাধি (যেমন: মহামান্য), অথবা অন্যান্য চরিত্রের সাথে তাদের সম্পর্ক (যেমন: যুবরাজ) দ্বারা উল্লেখ করা হয়, যা উপন্যাসের অগ্রগতির সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। নামের এই অভাবের কারণ হলো হেইয়ান-যুগের রাজদরবারের রীতিনীতি, যেখানে কোনো ব্যক্তির জন্ম নাম অবাধে উল্লেখ করা অমার্জিতভাবে ঘনিষ্ঠ ও রূঢ় বলে গণ্য হতো। আধুনিক পাঠক ও অনুবাদকেরা অসংখ্য চরিত্রকে মনে রাখার জন্য বিভিন্ন ডাকনাম ব্যবহার করেছেন।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Lyons, Martyn (২০১১), Books: A Living History, London: Thames & Hudson, পৃ. ৩১
- ↑ Arntzen (2005), পৃ. 25।
- ↑ Wawrytko, Sandra A. (২০২৩)। "Murasaki Shikibu of Japan 紫式部 Circa 978–Circa 1000"। Waithe, Mary Ellen; Boos Dykeman, Therese (সম্পাদকগণ)। Women Philosophers from Non-western Traditions: The First Four Thousand Years. Women in the History of Philosophy and Sciences (ইংরেজি ভাষায়)। খণ্ড ১৯। Cham: Springer International Publishing। পৃ. ২৪৫–২৬৯। ডিওআই:10.1007/978-3-031-28563-9_12। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-০৩১-২৮৫৬২-২।
- ↑ Cheong, Soonboon (নভেম্বর ২০১১)। "パトロンとしての藤原道長 ―『紫式部日記』を主軸にして―" [Fujiwara no Michinaga as a Patron: The Main Shaft in "Murasaki Shikibu's Diary"]। Journal of Japanese Culture (জাপানি ভাষায়)। ৫১: ১৪৭–১৬৪। ডিওআই:10.21481/jbunka..51.201111.147। আইএসএসএন 1226-3605 – Korea Open Access Journals এর মাধ্যমে।